ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১ নভেম্বর ২০২০ ১৭ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ১ নভেম্বর ২০২০

বলিউডে মাদকের থাবা
কাউছার এইচ তানজিল
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১১:২৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 29

বলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতারা ঘরোয়া পার্টিতে মাদক নিয়ে থাকেন, সে গুঞ্জন মাঝেমধ্যেই শোনা যেত। তবে প্রমাণের অভাবে তা থেকে যায় আড়ালে। সুশান্তের অস্বাভাবিক মৃত্যু যেন হঠাৎই সব চাকচিক্যের আড়াল ভেঙে দিয়েছে। প্রকাশ্যে আসতে চলেছে বিভিন্ন অজানা তথ্য। চলুন, দেখে নেওয়া যাক বলিউড মাদকযোগে কোন কোন হেভিওয়েট তারকার নাম জড়িত?
রণবীর কাপুর : রণবীর একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেই জানিয়েছিলেন নিজের ড্রাগ সেবন সংক্রান্ত তথ্য। তিনি বলেছিলেন, যৌবনে ফিল্ম স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন তিনি মাদক নিতেন। পরবর্তীকালে ‘রকস্টার’ নামক ফিল্মে অভিনয়ের সময় চরিত্রটিকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি নাকি আবারও সাময়িকভাবে ড্রাগ সেবন করেছিলেন।
সঞ্জয় দত্ত : প্রথম জীবনে সঞ্জয় যে ড্রাগের নেশায় রীতিমতো আসক্ত ছিলেন, এ কথা সংবাদমাধ্যমে বহুবার আলোচিত হয়েছে। ১৯৮২ সালে মাদক সেবনের অভিযোগে তার পাঁচ মাস জেল পর্যন্ত হয়েছিল। জেল থেকে মুক্তির পর বাবা সুনীল দত্ত ছেলেকে আমেরিকার একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেন। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর ড্রাগের নেশা থেকে মুক্তি পান তিনি।
ফারদিন খান : সুজান খানের চাচাত ভাই ফারদিন খান। ২০০১ সালে ফারদিন ড্রাগ কেনার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছিলেন। তার কেনা ড্রাগের পরিমাণ অল্প ছিল এবং তিনি প্রথমবার এই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন বলেই তার বিরুদ্ধে লঘু ধারায় মামলা করেছিল পুলিশ। সেই কারণেই বেশি আইনি ঝামেলা পোহাতে হয়নি ফারদিনকে।
কঙ্গনা রানাউত : সুশান্ত ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার যিনি, মাদকযোগের তালিকায় এবার সেই কঙ্গনার নামও যুক্ত হলো। সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের একটি পুরনো ভিডিও। যে ভিডিওতে কঙ্গনাকে প্রকাশ্যেই বলতে শোনা যাচ্ছে, ক্যারিয়ারের শুরুতে মাদক সেবনের কথা, মাদকাসক্ত হওয়ার কথা। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মানালির বাড়িতে বসে কঙ্গনা বলছেন, ‘ছোটবেলাতেই বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে এসেছিলাম। এর কয়েক বছরের মধ্যেই আমি ফিল্মস্টার হই। একই সঙ্গে হয়ে উঠি মাদকাসক্তও।’ তখন সদ্য ক্যারিয়ার শুরু, মিলছে খ্যাতি কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে ঝড়, জানান কঙ্গনা। তার কথায়, ‘জীবনকে কেন্দ্র করে অনেক কিছু হচ্ছিল। অদ্ভুত সব মানুষ জীবনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল হঠাৎই। আমার তখন ১৮ও হয়নি। টিনএজার ছিলাম।’
হানি সিং : বলিউডের বিখ্যাত র‌্যাপার হানি সিং। তিনি নাকি বহুবার রিহ্যাবে গিয়েছিলেন মাদকাসক্তি থেকে রেহাই পেতে। গাঁজা, কোকেন, হেরোইন সবরকম মাদক সেবনেরই নাকি অভ্যাস আছে হানির।
কপিল শর্মা : ক্যারিয়ারে সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছিলেন কপিল শর্মা। বিখ্যাত এই কৌতুক অভিনেতাও অবসাদ ভুলতে মাদকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। কপিল নিয়মিত গাঁজা খেতেন, বলিউডের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এমনই প্রকাশিত হয়েছিল।
মনীষা কৈরালা : নব্বইয়ের দশকের অন্যতম নায়িকা মনীষা। তিনিও নাকি ভয়ঙ্কর মাদক সেবন করতেন। তবে ওভারির ক্যানসার ধরা পড়ার পর নাকি অভিনেত্রী সেই অভ্যাস ত্যাগ করেন।
মমতা কুলকার্নি : মমতা এবং তার স্বামী ভিকি দুজনের বিরুদ্ধেই মাদক রাখার অভিযোগ ছিল। তাদের নাম জড়িয়েছিল মাদক পাচারের সঙ্গেও। গ্রেফতারও হয়েছিলেন মমতা। মমতার বলিউড ক্যারিয়ার নষ্টের মূল কারণও নাকি এটাই।
পারভীন ববি : ড্রাগ ওভারডোজ বা অতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলেই নাকি প্রাণ হারান বলিউডের গø্যামারাস অভিনেতা পারভীন ববি। একাকিত্বের কারণেই নাকি বেছে নিয়েছিলেন মাদককে।
রাবিনা ট্যান্ডন : রাবিনা বললেই মনে পড়ে ‘টিপ টিপ বর্ষা পানি’। ‘খিলাড়ি’ নায়িকার সঙ্গে এক সময় অক্ষয় কুমারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। অক্ষয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন রাবিনা। তখন নাকি গাঁজা ও অন্য মাদক সেবন করতেন তিনি।
মীনা কুমারী : বিচ্ছেদের পর অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন বলিউডের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি অভিনেতা মীনা কুমারী। অভিনয়েও প্রভাব পড়েছিল সেই অভ্যাসের। ভালোবাসা ভুলতে আকণ্ঠ মদ্যপান। জনপ্রিয়তার শিখরে থাকতে থাকতেই মাত্র ৩৯-এ ফুরিয়ে যাওয়া ট্র্যাজিক নায়িকা মীনা কুমারীও নাকি মাদক সেবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
গৌরী খান : তালিকায় এই শেষ নামটাই চমকে দেওয়ার মতো। শাহরুখ খানের স্ত্রী গৌরী খান, যাকে বলিউডের ‘ফার্স্ট লেডি’ বলেন অনেকে, সংবাদমাধ্যমে তার বিরুদ্ধেও ড্রাগ চালানের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। বছর দুয়েক আগে বার্লিন এয়ারপোর্টে ড্রাগসহ তিনি ধরা পড়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। গৌরী অবশ্য পরবর্তীকালে এসব অভিযোগই গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ভোজপুরি অভিনেতা ও বিজেপি সাংসদ রবি কিশান মাদক প্রসঙ্গ টেনে লোকসভায় বলেন, বলিউডে মাদকের ভালো রকমই ব্যবহার হয়। এনসিবির প্রশংসা করে তিনি সরকারের কাছে মাদককাÐে জড়িতদের খুঁজে বের করার অনুরোধও করেন। এখানেই থেমে যাননি অভিনেতা। তিনি দাবি করেন, ভারতের যুবসমাজকে ধ্বংস করার জন্য চীন এবং পাকিস্তানই নাকি এই নেশা ছড়িয়ে দিচ্ছে তাদের মধ্যে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]