ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৩ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে মুগদা-মান্ডায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১১:২৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 13

রাজধানীর মুগদা-মাÐা এলাকা। ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলের খুব কাছের এ এলাকায় একসময় যেখানে ছিল কেবল পরিত্যক্ত ‘ডোবা-নালা-নর্দমা’, সেখানে এখন শত শত, হাজার হাজার বাণিজ্যিক-আবাসিক ভবন। স্কুল-কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়, হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ উন্নত জীবনযাত্রার সবই রয়েছে এখানে। এ এলাকার সম্ভাবনার সেই দুয়ার আরও বেশি খুলে দিয়েছে দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আমিন মোহাম্মদ গ্রæপের আবাসিক প্রকল্প ‘গ্রীন মডেল টাউন’। বর্তমানে সেখানে কমলাপুরের বিশ^রোড থেকে মুগদা-মাÐা হয়ে গ্রীন মডেল টাউন পর্যন্ত তৈরি করা হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ ফিট প্রশস্ত রাস্তা। এরই মধ্যেই মাÐা ব্রিজ থেকে গ্রীন মডেল টাউন পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তকরণ কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। সব মিলে প্রকৃতপক্ষে ‘মেগাসিটিতেই’ রূপ নিচ্ছে ওই এলাকাটি।
বুধবার সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মুগদা-মাÐার আগের তৈরিকৃত রাস্তাগুলো ছিল অনেকটাই সরু। সেখানে বর্তমানে বিশ^রোড থেকে গ্রীন মডেল টাউন পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তকরণের পাশাপাশি এ এলাকায় সার্বিক উন্নয়ন হচ্ছে চোখে পড়ার মতো। গ্রীন মডেল টাউন প্রতিষ্ঠার পর মুগদা-মাÐা এলাকার সবকিছুই যেন চোখের পলকে পরিবর্তন ঘটছে। এই গ্রীন মডেল টাউনের সুবাদেই স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বাইরের অনেকেই শান্তির নিবাস গড়ছেন এখন ওই এলাকায়। গ্রীন মডেল টাউনে এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়, উন্নতমানের স্কুল-কলেজসহ নানা প্রতিষ্ঠান। উন্নয়নের এই কর্মযজ্ঞ চলছে ধারাবাহিকভাবেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্থানীয় ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের (মাÐা) কাউন্সিলর শফিকুল আলম শামীম সময়ের আলোকে বলেন, মাÐা ব্রিজ (মাÐা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) থেকে পূর্বদিকে গ্রীন মডেল টাউনের ব্রিজ পর্যন্ত ৬০ থেকে ১০০ ফিটের প্রশস্ত রাস্তার কাজ শুরু করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে কাজটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়। মাÐা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম আরও বলেন, আমরা এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছি। তবে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে যে ছোঁয়া লেগেছে তার অন্যতম ভ‚মিকায় রয়েছে ‘গ্রীন মডেল টাউন’ আবাসিক প্রকল্পটি। কারণ গ্রীন মডেল টাউনের সুবাদেই মুগদা ও মাÐার জমির মূল্য থেকে শুরু করে এলাকার গুরুত্ব ও জীবনমান সবই ব্যাপকহারে বেড়েছে। 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের (মুগদা) কাউন্সিলর মো. সিরাজুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, ‘নালা-নর্দমার মুগদা-মাÐা এখন উন্নত ঢাকার অন্যতম একটি এলাকায় পরিণত হয়েছে। মাত্র কয়েক বছর আগেও মুগদা-মাÐাকে তাচ্ছিল্য করা হতো, কিন্তু এখন এখনকার চেহারায় পাল্টে গেছে। কী নেই এখানে? গ্রীন মডেল টাউনের মতো অত্যাধুনিক আবাসিক এলাকা হয়েছে মাÐায়। সেটিকে কেন্দ্র করে মাÐার ওই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। লোকজন উন্নত বসতি গড়ে তুলছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, মাÐা ব্রিজ থেকে গ্রীন মডেল টাউন পর্যন্ত ইতোমধ্যেই বিরাট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এই রাস্তার দুপাশেই অনেক সরকারি জমি ছিল। ফলে দখলমুক্ত করে দ্রæত কাজ করা গেছে। তবে কমলাপুর বিশ^রোড থেকে মাÐা ব্রিজ পর্যন্ত মুগদাপাড়া এলাকার রাস্তাটির দুপাশে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি বেশি। এর মধ্যে অল্প কিছু পরিমাণ অবৈধ দখলে থাকতে পারে। সেগুলো দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরপর রাস্তাটি মাÐার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশস্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত¡াবধানে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে পদক্ষেপটি পিছিয়ে গেলেও খুব শিগগিরই অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে।
গ্রীন মডেল টাউনের পাশের মাÐার স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক মিয়া সময়ের আলোকে বলেন, আমরা কখনই ভাবিনি যে এত দ্রæত এ এলাকায় বড় বড় রাস্তা, ভবন, স্কুল-কলেজসহ সব আধুনিক ব্যবস্থা চালু হবে। আগে এসব এলাকায় (মাÐা) প্রায় পানির নিচে থাকত। জমির তেমন কোনো মূল্যই ছিল না। আর এখন কয়েক বছরের ব্যবধানেই মাÐা উন্নত আবাসিক এলাকায় পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রীন মডেল টাউন না হলে এই এলাকার এত দাম বা গুরুত্ব বাড়ত না। বর্তমানে মুগদা-মাÐার যে প্রশস্ত রাস্তা হচ্ছে সেটি আমাদের জন্য আরও আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
মাÐার স্থানীয় রড ও সিমেন্টের ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, সম্প্রতি রাস্তার সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি যে ভবনে ভাড়ায় ব্যবসা চালাতেন সেটি ভাঙা হয়েছে। ভাঙার আগাম দিনক্ষণ জানতে না পারার অভিযোগ তুললেও রাস্তা হওয়ার ব্যাপারে তিনি খুশি। তিনি বলেন, ভবনটি ছিল সরকারি জায়গার ওপরে। তাই এটা ভেঙে বড় রাস্তা হচ্ছে সেটি আমাদের এলাকার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আমরা সবাই খুব খুশি। এটি সম্পন্ন হলে এলাকার জীবনমান আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। এমনিতেই গ্রীন মডেল টাউন প্রতিষ্ঠার পর মাÐাকে গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকা হিসেবে এখন গণনা করে সবাই। 
মাÐার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাবেক ইউপি মেম্বার নাসির উল্লাহ বলেন, একসময় নর্দমা বা ডোবা-নালা হিসেবেই সবাই মাÐা এলাকাকে চিনত। গ্রীন মডেল টাউন আবাসিক এলাকা প্রতিষ্ঠা হলে সবকিছুই খুব দ্রæত বদলে যেতে থাকে। এই গ্রীন মডেল টাউন মাÐা এলাকায় প্রতিষ্ঠা না হলে আগামী ৫০ বছরেও হয়তো এ এলাকা ডোবা-নালা হিসেবেই পড়ে থাকত। বর্তমানে কমলাপুর থেকে গ্রীন মডেল টাউন পর্যন্ত যে বিরাট রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে তা এ এলাকার জীবনমানকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]