ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০ ৬ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০

ইস্তফা দিয়েও ১০ বছর স্বপদে বহাল বিএমডিএ প্রকৌশলী
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৭:৫৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 231

ইস্তফা দিয়েও প্রায় দশ বছর দিব্যি স্বপদে বহাল রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সহকারী প্রকৌশলী এএসএম দেলোয়ার হোসেন। তিনি বর্তমানে রাজশাহীর পবায় দপ্তর প্রধান হিসেবে কর্মরত। গত ২০১৪ সালের ১৯ আগস্ট থেকে পবায় দায়িত্ব পালন করছেন দেলোয়ার হোসেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ২০১০ সালের ২৯ এপ্রিল পদত্যাগপত্র জমা দেন দেলোয়ার হোসেন। তখন তিনি রাজশাহীর তানোরে একই পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর তানোরে যোগদান করেন।

সূত্র মারফত জানা যায়, ২০০৫ সালে বিএমডিএতে যোগদান করেন দেলোয়ার হোসেন। তার প্রথম পদায়ন হয় দিনাজপুরে। চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়ার সময় বিধি মেনেই তিনি তিন মাসের বেতন প্রত্যাহার করেন। এরপর কর্মস্থল ছেড়ে যান।

জানা গেছে, পদত্যাগের প্রায় চার মাস পর ২০১০ সালের ৪ আগস্ট তিনি আবারো ফেরেন বিএমডিএতে। ওই দিন যোগদান করেন সংস্থার বোদা জোনে। সেখানে দায়িত্বপালন করেন ২০১১ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এরপর তাকে বদলি করা হয় নাচোলে। ৪ ডিসেম্বর থেকে তিনি সেখানে দায়িত্বপালন করেন ২০১৪ সালের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। নাচোল থেকে বদলি হয়ে রাজশাহীর পবায় আসেন দেলোয়ার হোসেন। এখনো তিনি সেখানেই কর্মরত।

অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই দেলোয়ার হোসেন ফিরেছেন বিএমডিএতে। যা সরকারি চাকরি বিধির পরিপন্থী। নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন, ছুটিসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে বিএমডিএ প্রশাসন শাখা দীর্ঘদিন ধরেই নানান অনিয়ম করে আসছে। এখানকার অফিস সহকারী থেকে শুরু করে শীর্ষ কর্তারাও জড়িত এই কান্ডে। যাদের অনেকেই আবার দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বপালন করছেন এখানে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নিয়ম না থাকায় নির্দ্বিধায় নানান অনিয়ম চলছে রাজশাহী বিএমডিএ প্রশাসনে।

বিএমডিএ’র প্রশাসনে অভিযোগ বিষয়ে জানতে দপ্তরে কয়েকদিন গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব সুমন্ত কুমার বসাকের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে তিনি সময়ের আলোকে জানান, বিষয়টি একান্তই বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের। এ নিয়ে প্রশাসন শাখার কোন দায় নেই। তিনিও এই ঘটনার দায় নেবেন না।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে কয়েক দফা দপ্তরে গিয়ে পাওয়া যায়নি বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক শ্যাম কিশোর রায় এবং চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরীকেও। মোবাইলে কল এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে দপ্তর আসা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন চেয়ারম্যান, নির্বাহী পরিচালক ও সচিব। যার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে অফিসে আসার পরও অসমাপ্ত কাজ নিয়েই ফিরে যেতে হয় তাদের। এ নিয়ে চরম দুর্ভোগে সেবা প্রার্থীরা।

বিএমডিএ’র অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা (মনিটরিং সেল) আশরাফুল ইসলাম কোনো প্রকার তথ্য প্রদান কিংবা অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। একই সাথে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া কোনও তথ্যই জানাতে পারবেন না বলে অপারগতাও বিএমডিএর জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহফুজুল হক।

প্রতিষ্ঠানটির মনিটরিং কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, তিনি কেবল প্রতিষ্ঠানের চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির তথ্য জানাতে পারেন। এর বাইরে কোনও তথ্য জানানোর নির্দেশনা নেই তার কাছে। তিনি তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে কর্তাদের নির্দেশ পালন করেন মাত্র।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]