ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০ ৬ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আ.লীগের প্রস্তাবিত কমিটি
উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন অনেকে, ত্যাগীরা বঞ্চিত
হাবীব রহমান
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০:৪৪ পিএম আপডেট: ১৭.০৯.২০২০ ১১:১৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 612

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘিরে শুরুতেই অসন্তোষ ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। এমন অনেককে প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রাখা হয়েছে যারা ঢাকার ভোটারই না। রাজধানীর বাইরে রাজনীতি করেও পদ বাগিয়েছেন ঢাকা মহানগরে। সদ্য ছাত্রলীগ শেষ করে বেশকিছু নেতা, অন্য কোনো সহযোগী সংগঠন না করে সরাসরি মুরুব্বি সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন।
আবার যুগের পর যুগ আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেও নামমাত্র সদস্য পদে থাকছেন অনেকে। এ নিয়ে ভারসাম্যহীন হতে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কমিটি। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে দল ও সরকারের সমন্বয়ের জন্য কাউন্সিলরদেরও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার দাবি করছেন অনেকে। মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা আশা করছেন, নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজের হাতে এ কমিটি পুনর্গঠন করবেন।
সোমবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দফতরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর। প্রস্তাবিত কমিটির ৭৫ সদস্যের মধ্যে ৩৪ জনই নতুন। এ নতুন মুখের তালিকা যাদের নাম এসেছে তাদের নিয়েই বিতর্কের শুরু। প্রস্তাবিত কমিটিতে সদস্য ছাড়া অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে কাউন্সিলরদের না রাখা হলেও সংসদ সদস্য নূরুল আমিন রুহুলকে প্রথম সহসভাপতি করা হয়েছে। পদ প্রত্যাশী কাউন্সিলররা বলছেন, কাউন্সিলর থেকে এমপি পদ অনেক  বড়। কাউন্সিলরদের বাদ দেওয়া হলেও সংসদ সদস্যকে কেন রাখা হলো।
প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে একজনকে যিনি ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হলেও রাজনীতি করেন মুন্সীগঞ্জে। তিনি মুন্সীগঞ্জের একটি আসনে আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী ছিলেন। জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক এক সভাপতি যিনি চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাকে সম্পাদকীয় পদে সুপারিশ করা হয়েছে। ২০১০-১১ সেশনের এক জুনিয়র ছাত্রলীগ নেতাকেও অনুরূপ সম্পাদকীয় পদের সুপারিশ করা হয়েছে। মহানগরের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত, যার বিরুদ্ধে বিগত সময়ে অনুমোদিত কমিটি ঘষামাজা করার অভিযোগ রয়েছে, প্রস্তাবিত কমিটিতে তাকেও সম্পাদকীয় পদে সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক চৌধুরী সাইফুন্নবী সাগর রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়, দীর্ঘদিন তিনি প্রবাসে ছিলেন। জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক বহিষ্কৃত সভাপতিকে সদস্য করা হয়েছে। ছাত্রলীগের সাবেক এক কেন্দ্রীয় সভাপতির বাসার কাজের লোক হিসেবে পরিচিত একজনকেও রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত কমিটিতে।
এ ছাড়া বিতর্কিত তালিকায় রয়েছে একজন সাংগঠনিক সম্পাদক। যিনি ১৯৭৯ সালের ১৫ আগস্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে শোক দিবসের বদলে নাজাত দিবস পালনে অংশ নিয়েছিলেন, জাতীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে। বিগত কমিটির এক নেতাকে সহসভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে, যিনি ক্যাসিনোকাÐে জড়িত এনাম-রুপম এ দুই ভাইকে টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগে পদ পাইয়ে দিয়ে ছিলেন।
বৃহত্তর রমনা থানা আওয়ামী লীগে ২২ বছর ধরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন আবুল বাশার। কারা নির্যাতিত এ নেতা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতিও ছিলেন। তিনি ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর। শুধু কাউন্সিলর হওয়ার কারণেই তাকে প্রস্তাবিত কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমার বিশ^াস ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রতিটি পদ প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঠিক করবেন। আওয়ামী লীগে উনিই একমাত্র সুপ্রিম। বাশার বলেন, এমন অনেক কেই আমাদের ওপর গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা হয়েছে যাদের বাবারাও আমাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেদের মহানগর আওয়ামী লীগের মতো মুরুব্বি সংগঠনের পদে বসানো হয়েছে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]