ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২০ ৫ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২০

৪ লক্ষাধিক লোকের নির্ঘুম রাত
মতলব উত্তরে শত শত যুবকের আপ্রাণ চেষ্টায় বেড়িবাঁধ রক্ষা
স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব এডভোকেট নুরুল আমিন রুহুলের পরিদর্শন
নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৬:৫৮ পিএম আপডেট: ১৯.০৯.২০২০ ৭:২৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 1273

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পটি চাঁদপুরের মতলব উত্তরে অবস্থিত। ১৭ হাজার ৫শ হেক্টর জমি নিয়ে ১৯৮৭-৮৮ অর্থ বছরে প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। এখানে রয়েছে ৬০.৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।

বেড়িবাঁধের কাচারীকান্দি এলাকায় হঠাৎ ভাঙন দেখা দিলে বাঁধ রক্ষার কয়েক শতাধিক যুবকের প্রাণপণ চেষ্টায় রক্ষা পায়। আতঙ্কিত হয়ে ৪ লক্ষাধিক বাঁধবাসী নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে।

১৮ সেপেটম্বর শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মতলব উত্তরের ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের জনতা বাজার সংলগ্ন (কাচারীকান্দি) এলাকা দিয়ে মেঘনা নদী লাগোয়া মূল বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে নদীর তীরবর্তী অংশের ২০০ মিটার অঞ্চল ভেঙে নদীতে বিলীন হতে থাকে। পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙন ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁধের ব্যাপক অংশ ভেঙে যায়। চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়লে অল্প সময়ের মধ্যে সহস্রাধিক লোকজনের সমাগম ঘটে।

কয়েক শতাধিক যুবক নিজ উদ্যোগে ৮/১০টি ট্রলি গাড়িতে করে জনতা বাজার, চরমাছুয়া এলাকায় বাঁধ রক্ষার কাজে প্রস্তুত করা কয়েক সহস্রাধিক জিউটেকের বালির বস্তা এনে বাঁধ রক্ষার কাজে নেমে পড়েন।

খবর পেয়ে শনিবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্নেহাশীষ দাস, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) আহসান হাবীব, মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প পানি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সরকার আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে আসেন।


শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিওন) কাজী তোফায়েল হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী(পূর্বাঞ্চল, কুমিল্লা) জহির উদ্দিন আহমেদসহ পাউবো'র কর্মকর্তারা।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, মতলব উত্তর জনতা বাজার এলাকায় ১৫০ মিটারে মেঘনার ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় বাঁধ রক্ষা পায়। আমরা সার্বক্ষণিক কাজ তদারক করি।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও ) স্নেহাশিস দাস বলেন, খবর পেয়ে শনিবার রাতেই ঘটনাস্থলে চলে যাই। এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গভীর রাত পর্যন্ত বাধ রক্ষায় কাজ করে।

তিনি জানান, আমাদের কাজে সার্বিক সহায়তা করেন মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নাসির উদ্দিন মৃধা ও সঙ্গীয় ফোর্স।

জেলা যুবলীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক গাজী সাখাওয়াত হোসেন জানান, শনিবার রাত আটটার দিকে হঠাৎ হইচই শুরু হলে আমরা লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসি। সেখানে এলাকার যুবক এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত যুবকদের নিয়ে বেড়িবাঁধ রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করি। স্থানীয় যুবকরা রাত ৩টা পর্যন্ত প্রাণপণ চেষ্টা করে বেড়িবাঁধ রক্ষায় কাজ করে।

চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল বলেন, এখানে পাঁচশত কোটি টাকার একটা ডিপিবি হবার কথা। এই ডিপিবি পাঁচ/ছয় বার বেটিং করে ঘষামাঝা করে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। অতি দ্রুত এই বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় ডিপিবির অন্তর্ভুক্ত পাঁচশত কোটি টাকার বরাদ্দ বাস্তবায়নের জন্য এর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যেন কাজ করেন।

তিনি বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কাজটি দ্রুত গতিতে না করলে যেকোনও সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে যেতে পারে। এর আগে দুই বার ভাঙছে। এবার ভাঙলে তৃতীয় বার হবে। আর সব মিলিয়ে প্রায় পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]