ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২০ ১৪ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২০

‘গায়েবি নির্দেশে’ হাতি কিনলেন কৃষক দুলাল!
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৬:৫৩ পিএম আপডেট: ২২.০৯.২০২০ ৬:৫৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 290

লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের দেওতিরহাট রতিধর এলাকার কৃষক দুলাল চন্দ্র রায় গায়েবি নির্দেশ আসায় তার স্ত্রীর কথামতো হাতি কিনে বাড়ি নিয়ে এসেছেন। দুলাল চন্দ্র রায় ওই গ্রামের মৃত বীরেন্দ্র নাথের ছেলে।

গ্রামবাসী জানান, প্রানি সংরক্ষণ ও যত্নবান হতে  দৈব্য নির্দেশ (স্বপ্নে আদিষ্ট) পান দুলাল চন্দ্রের স্ত্রী তুলসী রানী দাসী। সেই দৈব্য নির্দেশ পালনে এক বছর আগে স্বামীর কাছে প্রথমে একটি ঘোড়া, রাজহাঁস ও ছাগল ক্রয় করে নিয়ে তাদের পরিচর্যা করেন তুলসী রানী দাসী।

গেল জানুয়ারি মাসে আবারো দৈব্য নির্দেশনা পান হাতি ক্রয় করে তার যত্ন নেয়ার। এ নির্দেশনা পেয়ে পুনরায় স্বামী দুলালের কাছে হাতি ক্রয় করতে বায়না ধরেন তুলসী রানী দাসী।

স্ত্রীর কথামতো কৃষক দুলাল চন্দ্র রায় নিজের ৭২ শতক জমি বিক্রি করেন ১৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ও দেড় বিঘা জমি ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকায় বন্দক রেখে হাতি ক্রয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

পরিকল্পনা করে থেমে থাকেন নি। বরং খোঁজ খবর নিয়ে মৌলভীবাজার গিয়ে সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় হাতি ক্রয় করেন তিনি। ২০ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া দিয়ে হাতি নিয়ে গত সপ্তাহে বাড়ি ফিরেন কৃষক দুলাল চন্দ্র রায়।

হাতিকে দেখভাল করতে ইব্র্রাহীম মিয়া নামে এক মাহুতকে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতনে মৌলভীবাজার থেকে নিয়ে আসেন তিনি। গ্রামের প্রভাবশালী কৃষক দুলাল চন্দ্র হাতি ক্রয় করেছেন শুনে শুধু ওই গ্রামবাসী নয়, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন হাতিটি দেখতে ভিড় করছেন দুলাল তুলসী দম্পতির বাড়িতে।

অনেকেই হাতির সামনে সেল্ফিও তুলছেন মজা করে। আপাত গ্রামের রাস্তার ধারে থাকা কলাগাছ কেটে হাতিটিকে খাওয়ানো হচ্ছে। গ্রামের কলাগাছ শেষ হলে বাহির থেকে সংগ্রহ করা হবে বলেও জানান মালিক দুলাল চন্দ্র।

ওই গ্রামের অতুল চন্দ্র বলেন, অনেক দিন ধরে শুনছি, দুলাল চন্দ্র হাতি কিনবেন। অবশেষে জমি বিক্রি করে তিনি স্ত্রীর কথামতো হাতি কিনে এনেছেন। সেই হাতি দেখতে প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ বাড়িতে ভিড় করছে। শুনেছি, স্বপ্নে দেখা দেবতা বিশ্বকর্ম্মার নির্দেশে তুলসী রানী ঘোড়া, রাজহাঁস, ছাগল ক্রয়ের পরে এবার হাতি ক্রয় করেছেন। তারা প্রভাবশালী মানুষ। হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি বা ব্যবসা করার জন্য ক্রয় করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রাম রাজারহাট এলাকার শতবর্ষি বাসন্তী রানী বলেন, স্ত্রীর কথামতো দুলাল চন্দ্র হাতি কিনেছেন শুনে তা দেখতে এসেছি। জীবনে অনেক বার হাতি দেখেছি। তবে স্ত্রীর স্বপ্ন পূরনে এই যুগে কেউ হাতি কিনেছেন। সেটা দেখতে এসেছি।

হাতির মাহুত ইব্র্রাহীম জানান, খাওয়া থাকা মালিকের এবং প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা মজুরীতে মৌলভীবাজার থেকে এসেছেন তিনি। আগামীতে মাহুত বানাতে স্থানীয় দুইজনকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তারা প্রশিক্ষিত হলে তাদের উপর দায়িত্ব দিয়ে চলে যাবেন বলেও জানান তিনি।

তুলসী রানী দাসী বলেন, পরমেশ্বর স্বপ্নে নির্দেশ করেছেন হাতি ক্রয় করে তার যত্ন নিতে। তাই স্বামীর কাছে হাতি ক্রয়ের বায়না ধরায় স্বামী সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় হাতি ক্রয় করেছেন। পরমেশ্বর যতদিন রাখতে বলবেন ততদিন হাতি বাড়িতে থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত হাতিকে রেখে যত্ন নেয়া হবে।

তিনি আরও জানান, পরমেশ্বরের নির্দেশে সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দেখাশুনা করেন তিনি। তারপর রোগ নিরাময়ের জন্যও দেন জল (পানি) পড়া। এই জল পড়া খেয়েও অনেকের মন বাসনা পূর্ণ হয় বলে জানান তুলসী রানী।

হাতির মালিক দুলাল চন্দ্র রায় বলেন, স্ত্রী স্বপ্নে দেখেছেন পরমেশ্বর হাতি কিনে যত্ন নিতে বলেছেন। তাই স্ত্রীর সেই স্বপ্ন পূরনে জমি বিক্রি করে সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় হাতিটি ক্রয় করেছি। হাতিটির দেখভাল করতে মৌলভীবাজার থেকে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতনে মাহুতকে নিয়ে এসেছি। যাতে হাতির পরিচর্যায় কোনও সমস্যা না হয়।

তিনি আরও জানান, আমার স্ত্রী তুলসী রাণী দাসী ধর্মভীরু ব্যক্তি। দীর্ঘ ১০ বছর থেকে সে নিয়মিত উপাসনা করে আর কবিরাজি চিকিৎসা করে ৬-৭ বছর থেকে। পরমেশ্বরের নির্দেশে আমার স্ত্রীর নামের পিছনে দাসী শব্দ সম্পৃক্ত করি এবং বাড়িতে মন্দির স্থাপন করি। তার স্ত্রীর প্রতি পরমেশ্বরের নির্দেশ থাকার কারণেই হাতি, ঘোড়া, রাঁজহাঁস ও ছাগল ক্রয় করেন বলেও দাবি করেন তিনি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]