ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০ ৮ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০

করোনার বিরুদ্ধে সম্মুখসমরে লড়ছেন জিন প্রকৌশলীরা
ড. মো. শামসুল হক প্রধান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০:১৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 107

কোভিড-১৯ মহামারিতে সমগ্র বিশ^ আজ আক্রান্ত। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান নামক স্থান থেকে করোনাভাইরাস বিশ^জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালের ২১ মে ২১০টি দেশে ছড়িয়ে পড়া এ রোগটিকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা দেয়। আজ বিশে^র সব মানুষই ভয়ের মধ্যে কালাতিপাত করছে। উন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশ সবারই অর্থনীতির চাকা মন্থর হয়ে গেছে, খাদ্য এবং স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটেছে, শিল্পপতি থেকে শুরু করে দিনমজুর কোটি মানুষ এ যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য হিমশিম খাচ্ছে। বিশ^জুড়ে গবেষকরা রূপ পরিবর্তনশীল এ ভাইরাসের ভ্যাকসিন অথবা ভাইরাস প্রতিরোধক এবং প্রতিষেধক ওষুধ আবিষ্কারের জন্য অদম্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া এ রোগটির বাহক যদিও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি তবুও প্রতিটি দেশের সরকার ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আক্রান্ত মানুষদের আইসোলেশন এবং সুস্থ মানুষদের কোয়ারেন্টাইনে রেখে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশে^র সঙ্গে বাংলাদেশও এ অদৃশ্য শত্রæর বিরুদ্ধে লড়ছে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে সরকারি হিসাবে এই রোগে মারা গেছে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যাও প্রায় চার লাখ ছাড়িয়েছে। বিশে^ যখন করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার ৩.১৫ শতাংশ (সূত্র : জনস হপকিন্স বিশ^বিদ্যালয়, ১৬-০৯-২০২০) সে তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যু হার ১.৪১ শতাংশ, যা কিছুটা কম হলেও দেশ এখনও উচ্চ ঝুঁকির সামনে দাঁড়িয়ে। যদিও উন্নত বিশে^র তুলনায় আমাদের চিকিৎসাসেবা অনেকটা অপ্রতুল কিন্তু বাংলাদেশের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যসেবা কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সর্বস্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবং অগাধ দেশপ্রেমের কারণে আমাদের দেশ এখনও এ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে। সেবা খাতের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্তে¡ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশের ডাক্তাররা যে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তা বিশে^ বিরল। শুধু তাই নয় বাংলাদেশে এখন প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজারের বেশি করোনা টেস্ট হচ্ছে। ল্যাবরেটরিগুলোয় দেশের তরুণদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ বায়োটেকনোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, মলিকিউলার বায়োলজিতে ¯œাতক সম্পন্ন করে সরাসরি নিযুক্ত রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ আমাকে ফোন করে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে  কোভিড-১৯ ল্যাব স্থাপনের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে জানতে চান। আমি বলি, ‘আমাদের যতটুকু সুবিধা রয়েছে তা নিয়ে এ লড়াইয়ে নেমে পড়ার জন্য তৈরি’। আমি আমার বিভাগ জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজিতে ¯œাতক এবং ¯œাতকোত্তর সম্পন্ন করা কনিষ্ঠ ৪ জন শিক্ষক এবং আমার তত্ত¡াবধানে পিএইচডিতে গবেষণারত একজন ছাত্রকে নিয়ে একটা অন্যরকম লড়াইয়ে নেমে পড়লাম। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের মতোই আমরা প্রত্যয় নিলাম, ‘আমাদের এবারের সংগ্রাম হবে অদৃশ্য মহামারিতে আক্রান্ত জাতিকে সেবা দেওয়ার সংগ্রাম’। করোনা যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র আরটি-পিসিআর আগে থেকেই থাকায় আমার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেকটাই সহজ হয়েছিল। জিইবি বিভাগের বায়োটেক গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকদের অদম্য উৎসাহ সাহসে আমি আরও দৃঢ়তা পেলাম। বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং আলাদা ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানানোর পর পরবর্তী সময়ে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণের জন্য সম্পূর্ণরূপে নতুন করে একটি ল্যাব স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিশ^বিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মহোদয় সার্বিক দিকনির্দেশনায় আমার তত্ত¡াবধানে শুরু হয় পরিবেশবান্ধব এবং সুরক্ষিত ল্যাব তৈরির কাজ এবং সঙ্গে রাসায়নিক দ্রব্যাদি এবং সবচেয়ে জরুরি যন্ত্রপাতি সংগ্রহের কাজ। শত্রæর হানা ইতোমধ্যে চীন থেকে শুরু করে ইউরোপ হয়ে উত্তর আমেরিকা বিশেষ করে নিউইয়র্কে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশিদের প্রাণহানি করে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবেশ করে। সুতরাং এখন আর থেমে থাকার কোনো সুযোগ নেই। শুরু হয় দুর্বার প্রস্তুতি, জাতির জনক যেভাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো’ ঠিক সেভাবেই লকডাউনের মতো পরিবেশে ল্যাব স্থাপনের মতো কাজ হাতে নেওয়া হয়। বায়োসেফটি ক্যাবিনেট এবং নতুন আরটি-পিসিআর মেশিন সংগ্রহ করতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ি। একটি কোম্পানি ২ সপ্তাহ পরে এনে দিতে পারবে বললেও পুরা দেশ এবং বিশ^জুড়ে লকডাউন পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও সমুদ্রবন্দর বন্ধ থাকায় কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়। এ সময় উপাচার্য মহোদয় সরকারের উচ্চ মহলে কথা বলে যন্ত্র দুটি দ্রæত দেশে আনা ও খালাসের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, আমার বিভাগে যে আরটি-পিসিআর যন্ত্রটি ছিল সেটি সরকার প্রদত্ত করোনা শনাক্তকরণ কিটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। অধিকন্তু আগেও যন্ত্রে একসঙ্গে মাত্র ৪৬ নমুনা শনাক্ত করা যেত, যা যথেষ্ট ছিল না। সুতরাং আমরা নতুন করে আরও একটি আরটি-পিসিআর মেশিন ক্রয় করা হয়। এভাবে কঠিন এ মুহূর্তগুলো পেরিয়ে প্রায় এক মাস হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সিডিসির বায়োসেফটি-২ নীতিমালা অনুসরণ করে বিশ^মানের সুরক্ষিত পিসিআর ল্যাবটি গড়ে তোলা হয়। সঙ্গে ১৯ জনের একটি দলকে প্রায় ২ সপ্তাহ প্রশিক্ষণ দিয়ে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়। অবশেষে ১৮ মে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যবটি উদ্বোধন করেন এবং এরপর ২০ মে থেকে নমুনা শনাক্তকরণ কাজ শুরু হয়।
একবিংশ শতাব্দীকে বলা হয়ে থাকে বায়োটেকনোলজির বা জীবপ্রযুক্তির শতাব্দী। এ শতাব্দীর সবচেয়ে অ্যাডভান্স বিষয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি। এ বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী যারা জীবপ্রযুক্তিবিদ নামেই বেশি পরিচিত শুধু তারাই শাবিপ্রবির কোভিড-১৯ শনাক্তকরণের বিশেষায়িত ল্যাবে কাজ করছে, যেখানে অন্য কোভিড-১৯ ল্যাবে সম্মিলিতভাবে অনুজীব বিজ্ঞানী, প্রাণ রসায়নবিদ ও জীবপ্রযুুক্তিবিদরা জড়িত। এটাই সবচেয়ে সুখকর বিষয় যে দেশের ক্রান্তিকালে জীবপ্রযুক্তিবিদরা কোভিড-১৯ শনাক্তকরণে অনন্য ভ‚মিকা পালন করে যাচ্ছেন। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের দক্ষ গ্র্যাজুয়েটরা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুরু থেকেই কাজ করছে। এ ছাড়াও সিলেট সিএমএইচ, চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবে জীব ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও সশরীরে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করছে।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিষয়টি সারা দেশের ১৮টি বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ানো হয় এবং প্রতিবছর প্রায় ৫০০ গ্র্যাজুয়েট চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নাই, দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা প্রতিবছর এ বিষয়ে ভর্তি হয়। কিন্তু যাত্রা শুরুর প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ের গ্র্যাজুয়েটরা চাকরি ও গবেষণায় নিজেদের প্রতিভা পরিস্ফুটনের কোনো সুযোগই পাচ্ছে না। অপার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে প্রায় প্রতিটি বিশ^বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হলেও দেশে জীবপ্রযুক্তির এ শাখাটির বিকাশ মেলেনি। কৃষিবিজ্ঞান থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের বিষয়ে যাদের সবচেয়ে বেশি অবদান রাখার কথা তারা আজ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত এক অদৃশ্য শক্তির সঙ্গে লড়াই করে চলছে। সরকারি চাকরির বিজ্ঞাপনে প্রায় এমন সব যোগ্যতা চাওয়া হয় যা বায়োটেক গ্র্যাজুয়েটদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। এমনকি বিভিন্ন জাতীয় গবেষণা কেন্দ্রে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি ডিভিশনে এ বিষয়ের গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগ দেওয়া হয় না কিন্তু মলিকিউলার বায়োলজিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্টরা ঠিকই সুযোগ পায়। অথচ বায়োটেক গ্র্যাজুয়েটরা এ দুটি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত জিন প্রকৌশল বিষয়ে (সর্বাধিক আধুনিক টেকনিক) সিদ্ধহস্ত। তরুণরা লেখাপড়ার শেষ পর্যায়ে নিত্যনতুন বিধি-নিষেধের দেওয়ালে বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে প্রতিবছর হতাশাগ্রস্ত মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি জমায়, পরবর্তী সময়ে সেখানেই স্থিত হয়ে যায়। যাদের দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ভাবা হয় তারা ঠিকই তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে নিজের দেশ ছেড়ে অন্য একটি জাতিকে সেবা দিচ্ছে, ওই দেশের উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখে চলছে। কিন্তু এমনটি হওয়ার কথা নয়, যেখানে বাংলাদেশ পাঁচশ-এর অধিক জীবপ্রযুক্তিবিদ তৈরি করছে।
আমরা জানি বিশে^র শক্তিধর অনেক রাষ্ট্রই শত শত পারমাণবিক অস্ত্র, রাসায়নিক অস্ত্র মজুদ রেখেছে। নব্বইয়ের দশকে ইরাক-ইরানের যুদ্ধে ব্যাপক আলোচ্য বিষয় ছিল জীবাণু অস্ত্র। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আজ সমগ্র বিশ^
প্রাকৃতিকভাবে জীবাণু অস্ত্র কোভিড-১৯ দ্বারা আক্রান্ত। আমেরিকার মতো দেশেও স্থলভাগে আক্রান্তের মাত্রা এত বেশি যে পারমাণবিক বোমায় সজ্জিত রণতরীকেও তীরে আসতে দিচ্ছে না। আমরা উন্নয়নশীল দেশের তালিকা থেকে উন্নত দেশের কাতারে যাওয়ার জন্য প্রণান্ত চেষ্টা করছি। দেশের অপ্রতুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও সীমিত সামর্থ্য নিয়েও আমাদের এ অগ্রযাত্রার মূল কান্ডারি দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যিনি তার সুদক্ষ হাতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় অত্যন্ত বিচক্ষণতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এই মহামারিসহ পরবর্তী সময়ে দেশের উন্নয়নে সরকারের নীতি-নির্ধারকরা বায়োটেকনোলজিস্টদের কাজে লাগাবেন এ প্রত্যাশা করছি।

ষ  বিভাগীয় প্রধান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড  
     বায়োটেকনোলজি বিভাগ
     শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]