ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০ ৮ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০

বেপরোয়া কিশোর গ্যাং
তাদেরকে সুপথে আনতে হবে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০:১৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 22

ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে উঠতি কিশোরদের গ্যাং কালচার। অভিভাবকদের কাছে আজ মূর্তিমান আতঙ্ক এ গ্যাং কালচার। স্কুলপড়ুয়া কিশোররা ক্রমশ জড়িয়ে পড়ছে গ্যাং কালচারে। মাদকের ছোবল ছাড়াও তাদের মধ্যে দানা বাঁধছে সিনিয়র-জুনিয়রদের দ্ব›দ্ব। নিজেকে জাহির করার প্রবণতা থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতা এবং প্রেমের কারণেও কিশোররা জড়িয়ে যাচ্ছে ভয়ঙ্কর সব অপরাধে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে নানা ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার এবং ইন্টারনেটভিত্তিক নানারকম উত্তেজক গেমসের প্রভাবে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধেও হাত রাঙাচ্ছে কিশোররা। কয়েক বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এলাকাভিত্তিক গড়ে উঠছে বিভিন্ন দল। তারা একে অন্যের ওপর আধিপত্য বিস্তারের প্রয়োজনে নানা ধরনের অপরাধে সম্পৃক্ত হচ্ছে।
সময়ের আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীসহ সারা দেশে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। প্রতিনিয়তই তুচ্ছ কারণে দেশের কোনো না কোনো এলাকায় গ্যাংয়ের সদস্যদের দ্বারা ভয়ঙ্কর অপরাধ ঘটছে। রাজধানীর উত্তরখানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর সোহাগ হত্যার ঘটনায় জড়িত ‘দি বস’ নামে একটি কিশোর গ্যাং গ্রæপের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় উদ্ধার হয়েছে পিস্তল ও গুলি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও অপরাধ বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা গ্রেফতার হলেও তাদের অপরাধ যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। যৌন হয়রানি, মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ, মারামারি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুনসহ সব ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এ কিশোররা। এর বাইরেও বড় অপরাধীর সহযোগী হিসেবেও কাজ করছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। অপরাধ সম্পর্কিত বিদেশি সিরিয়াল দেখে ‘অপরাধ সংঘটন ও নিরাপত্তা বাহিনীর গ্রেফতার এড়ানো’র নানা কলাকৌশল রপ্ত করছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।
কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান একই সঙ্গে সমাজের ভেতরে তৈরি করছে ভয় ও উদ্বেগ। এক তথ্যে জানা যায়, শুধু রাজধানীতেই রয়েছে কমপক্ষে ৫০টি কিশোর গ্যাং। সময়ের সঙ্গে এ সংখ্যা বাড়ছেই। রাজধানীর বাইরেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গ্যাং ও অপরাধের সংখ্যা। যা ভবিষ্যতের জন্য শঙ্কা ও আতঙ্কের। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপরাধীকে দ্রæততম সময়ে তার প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তেমনিভাবে সমাজের ভেতরে যেন এভাবে অপরাধীর সংখ্যা না বাড়ে সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। আজ আমাদের সবারই ভাবনার সময় এসেছে। আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা, তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব আমাদের। তারা যেন কোনোভাবেই বিপথে না যায়, সেজন্য প্রথম সচেতনতা প্রয়োজন ঘরে। কিশোর গ্যাং আজ যে সামাজিক সমস্যার জন্ম দিচ্ছে, তার পেছনের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। কিশোরদের ইতিবাচক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। আমাদের আগামী প্রজন্ম যেন সঠিক পথে থাকে সেজন্য পরিবারের পাশাপাশি সরকারকেও উদ্যোগী হতে হবে। কিশোরদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশের পথ উন্মুক্ত রাখতে পাড়ায় পাড়ায় পাঠাগার, খেলার মাঠসহ সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। যাতে করে বিপথগামী কিশোর-তরুণরা নিজেদের ফিরিয়ে এনে সুস্থ সমাজ নির্মাণে অবদান রাখতে পারে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]