ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০ ৮ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০

জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে অভিবাদন
খোকন সাহা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০:১৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 23

বাংলাদেশ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ এক পঙ্ক্তিবদ্ধ শিরোনাম। বাংলাদেশ ভ‚খÐটি বাঙালি জাতির হাজার বছরের এক ঐতিহাসিক আকাক্সক্ষার স্ফুরণ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন সেই স্বপ্নবাদী মহান বাঙালি যাঁর স্বপ্নের এক একটি কণায় রচিত হয়ে অজ¯্র কোটি আলোর কণার সঞ্চিত প্রতিস্বরণ এই সার্বভৌম বাংলাদেশ। আর গণতন্ত্রের মানসকন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই লাখো কোটি আলোক রেখার প্রান্তে অবিস্মরণীয় লাইট হাউস। যার প্রক্ষেপিত আলোর উৎসমুখে ছিলেন তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। তাঁদেরই সুযোগ্য উত্তরসুরি, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দেশরতœ শেখ হাসিনা। ২৮ সেপ্টেম্বর তার শুভ জন্মদিন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার জীবন ধারার প্রতিটি বাঁকে বাঁকে একেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে করে আজ একজন পরিণত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিটি ছত্রে বঙ্গবন্ধুর পরে যে নামটি স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ সেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, জ্ঞান, প্রশাসনিক দক্ষতা, মহানুভবতা, মহত্তে¡র মতো প্রতিটি দৃষ্টিনন্দন গুণাবলীর উজ্জ্বল নক্ষত্রপুঞ্জ জ্বলজ্বল করে জ্বলছে তার কর্মমুখর জীবনের অসীম আকাশে। আন্দোলন সংগ্রামের প্রতিবিম্ব দেশরতœ শেখ হাসিনার জীবন তার পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছায়াতেই আচ্ছন্ন। মানবিকতার কত যে উদাহরণের ইশতেহার তার জীবনের প্রতিটি ছত্রে, স্তবকে উৎকীর্ণ হয়ে আছে সে হিসাব করতে গেলে একাধিক গ্রন্থ রচনার অবতারণা অনস্বীকার্য।
আজ এ উপলব্ধি করার সময় এসেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-আদর্শকে ’৭৫-এর ঘাতকদল, বেনিফিশিয়ারিদের কবল থেকে পুনরুদ্ধার করে শেখ হাসিনাই দেশকে সঠিক পথে পরিচালনার দায়ভার গ্রহণ করে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার নিশ^াস-প্রশ^াসের প্রতিটি রেণুুতে ঝলসে ওঠে দেশপ্রেমের অনিন্দ্য আলোকবীথি। জীবনের প্রতি বারবার হুমকির মুখে, মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদার আসনে উপস্থাপনের লক্ষ্যে এক বিন্দু পিছপা হননি এবং তিনি তার লক্ষ্য অর্জনে, মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র বংলাদেশের আকাশে-বাতাসে প্রবাহিত করার দৃঢ়তা থেকেও সরে আসেননি। দেশবরেণ্য, জাতীয় নেত্রীর অভিধায় তিনি আজ অভিষিক্ত। একাধারে প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং জাতীয় নেত্রী হিসেবেও তার ঈর্ষণীয় সাফল্য বিশ^বরেণ্য সমকালীন নেতাদের সঙ্গে তুলনীয়।
তার জন্মদিন উপলক্ষে তাকে অভিবাদন জানাতে গিয়ে বারবার শুধু তার অতীতের সংগ্রাম মুখর দিনগুলোর কথাই মনে পড়ছে। মনে পড়ছে ১৯৮১ সালের ১৭ মের বৃষ্টিভেজা দিনে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনটির কথা। যে দিন তিনি দেশের মাটিতে পা রাখলেন দেখলাম তার চোখ-মুখে আনন্দ বেদনার গভীর সহাবস্থান। তারপর টালমাটাল আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক শাসন জারি হলে এর বিরুদ্ধে ক্রমাগত দল এবং গণতন্ত্রকামী মানুষ, ছাত্র, জনতাকে জাগিয়ে তুলে, সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করা। ১৯৮৭ সালে আন্দোলনের মাত্রাকে বেগবান করতে গিয়ে নানা বাধা-বিপত্তির মুখেও অটল পাহাড়ের মতো একজন গণতন্ত্রকামী জননেত্রীর দৃঢ় প্রতিচ্ছবির সঙ্গে বাঙালির নতুন করে পরিচয় লাভ। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরলস নেতৃত্বদানের অধ্যায় তিনি রচনা করলেন। নতুন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণের দিকনির্দেশনা প্রদান করলেও প্রকারান্তরে সেই অমোঘপ্রহরকে আবারও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি অন্ধকারের ক্যানভাসে ঢেকে দিল। অতঃপর আবারও রাজপথে নেমে এলেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। গণতন্ত্রের আলখাল্লা গায়ে চাপানো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হননকারীদের বিরুদ্ধে আবারও নতুন উদ্যমে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তিনি এবং সফল হলেন। ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। এবং প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর সব ষড়যন্ত্রই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রখর নেতৃত্বের কাছে পরাভ‚ত হয়। তার ‘৯৬-২০০১ সালের শাসনামলে দেশকে একটি নতুন অধ্যায়ের হাইওয়েতে চালিত করলেন তিনি। যে হাইওয়েতে মুক্তচিন্তা, দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ১৯৭১ সালের প্রাণশক্তি, বাঙালি সংস্কৃতির ঢেকে রাখা আলোকপুঞ্জ উদ্ভাসিত হয়ে শুরু করল পথচলা। কিন্তু না, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আবারও আঘাত হানল ২০০১ সালে। প্রতিহিংসা, রক্তপাত, বিনাশের কালোছায়া আবারও নেমে এলো মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের শুভ্র পাতায়, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, আইনজীবী, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মুক্তমনা মানুষের ওপর। সে এক ভয়াবহ, বিভীষিকাময় চিত্রমালা। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে হায়েনার মতো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির বিরুদ্ধে তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করল। তারা প্রতিষ্ঠা দিল জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, সন্ত্রাস, হত্যার এক ভয়ঙ্কর অধ্যায়ের। যে অধ্যায়ে অঙ্কিত ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের হত্যাকাÐের নির্মম বøপ্রিন্ট। সে ভয়ঙ্কর যাত্রায় আওয়ামী লীগের আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী নির্মমভাবে নিহত হন। সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বাংলার বাতিঘর, অবিসংবাদিত, গণতন্ত্রের মহান নেত্রী শেখ হাসিনা। তারপর এলো আবারও এক অনাকাক্সিক্ষত, চাপিয়ে দেওয়া আন্দোলন। বিএনপি-জামায়াত জোটের বিরুদ্ধে এ আন্দোলনেও তার নেতৃত্ব সাফল্যের মুখ দেখার ঠিক প্রাক-মুহূর্তে বিএনপি-জামায়াতের নেপথ্য কুশীলবরা দেশে জারি করল জরুরি আইন। যাকে দেশের মানুষ ওয়ান ইলেভেন নামে জানে। তখনও তিনি সাহস হারাননি। মনোবল অটুট রেখে এদের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়ালেন এবং কারাবরণ করলেন। কিন্তু না, বঙ্গবন্ধুর রক্তের অগ্নিধারা যার রক্তকণিকায় প্রবাহিত তিনি কী তার অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হতে পারেন? পারেন না। জননেত্রী শেখ হাসিনাও পিছু না হটে ওই বর্ণচোরা কুশীলবদের বিরুদ্ধে জেলে বন্দি অবস্থাতেও দেশের সর্বস্তরের মানুষকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে অত্যন্ত সফলতার মধ্য দিয়ে কারামুক্তি অর্জন করেন। এবং ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবার দেশ শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জননেত্রী শেখ হাসিনা এই পাঁচ বছর দেশের অর্থনীতিকে একটা স্থির বিন্দু রেখায় এনে যখন দেশকে বিশ^ দরবারে আসীন করলেন, ঠিক তখনই ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা নতুন এজেন্ডা নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে সমানতালে যড়যন্ত্রে মেতে উঠল। কারণ ইতোমধ্যে ১৯৭১ সালের রাজাকার, আলবদর, আলশামস, যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে জননেত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধ ঘোষণা করে ’৭১-এর মানবতাবিরোধীদের ধরে একে একে কারা প্রকোষ্ঠে আবদ্ধ করছিলেন। আর তখনই শুরু হলো নতুন রূপে স্বাধীনতাবিরোধীদের অপতৎপরতা। কিন্তু না। প্রধানমন্ত্রী, দেশরতœ শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, নিষ্ঠা, তেজস্বিতার কাছে হেফাজত, জঙ্গি, আল্টিমেটাম এবং সারা দেশে জ্বালাও-পোড়াওয়ের মতো তাÐব চালিয়ে, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেও একাত্তরের ঘাতক এবং দোসররা পরাজিত হতে বাধ্য হলো। বাধ্য হলো লেজ গুটিয়ে গর্তে ঢুকে যেতে। অবশেষে ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
তৃতীয়বারের মতো দেশ শাসনের দায়িত্ব পেলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। সে এক বিরল ইতিহাস। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষাকল্পে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্ভীক এ অবস্থানের কথকতার উপাখ্যান রচনায় লেগে যাবে হাজারো রজনী যা রচিত হবে ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে। ভারতের ইতিহাসে যেমন মোগল শাসনামলকে স্বর্ণযুগ হিসেবে চিত্রিত করা হয়। তেমনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলকে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হিসেবে লিপিবদ্ধ করবেন প্রাজ্ঞ ইতিহাসবিদরা। জন্মদিন উপলক্ষে আপনাকে জানাই শ্রদ্ধাজড়িত অভিবাদন, হে বাংলার অবিসংবাদিত মহান নেত্রী অভিবাদন আপনাকে।

ষ  আইনজীবী; সাধারণ সম্পাদক
     নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]