ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০ ৬ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠগুলো এখন গোচারণভূমি
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০:৫৯ পিএম আপডেট: ২৩.০৯.২০২০ ১১:১৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 499

কে কার আগে ব্যাট-বল নিয়ে মাঠের একচিলতে জায়গা দখল করবে, এ নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধ চলত শুক্রবার ছুটির দিনে। সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে শহরের সকালে যখন সুনসান নীরবতা তখন হৈ-হুল্লোড় করে ক্যাম্পাসের খেলার মাঠে ছুটত শিক্ষার্থীরা। দলবেঁধে চলত বিশ্রামহীন খেলা। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে তো কথাই নেই। মাঠের কোনো অংশ খালি পাওয়াই যেন ভার। একদল ক্রিকেট আরেক গ্রæপ আবার ফুটবল নিয়ে মেতে থাকত। এখন এগুলো শুধুই অতীত। করোনায় খানিকটা নিস্তার পেয়ে ক্যাম্পাসের খেলার মাঠগুলো যেন সজীবতায় ফিরেছে। বিস্তীর্ণ ঘাসের রাজত্বে খেলার মাঠ এখন হয়ে উঠেছে গোচারণভ‚মি।
করোনার প্রাদুর্ভাবে গত ১৭ মার্চ থেকে টানা বন্ধ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর ফলে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে সব শিক্ষার্থী। সিংহভাগ শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। শিক্ষার্থীর পদচারণাহীন ক্যাম্পাসের মাঠে এখন হাঁটুসম ঘাস। রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের মাঠে দেখা যায়, বিভিন্ন জাতের লম্বা লম্বা ঘাস গজিয়েছে। এতই ঘাস যে, মাঠের কোনো অংশে সুই ফেলার জায়গা নেই। মাঠের পাশে কিছু জায়গায় শ্যাওলা জমে গেছে। পড়ন্ত বিকালে মধ্যমাঠে দুই খামারি ঘাস কাটছে। আরেকজন ঘাস বস্তাবন্দি করছে। কলেজের পাশের কড়াইল বস্তিতে থাকে তারা। একজন জানায়, সে বাসায় এক গরু ও দুটি ছাগল পালে। গরু-ছাগলের খাদ্যের জন্য ঘাস কেটে নিচ্ছে। আগে ঘাস পেতে সমস্যা হলেও এখন সব মাঠেই তা পাওয়া যাচ্ছে। আরেকজন বলে, মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনির মাঠেও এখন মহল্লার ছেলেরা খেলাধুলা করে না। ওই মাঠে ঘাস হয়েছে অনেক। দুয়েকদিন পরপরই তারা তিতুমীর কলেজসহ আশপাশের মাঠ থেকে গো-খাদ্য সংগ্রহ করে।
কলেজের নিরাপত্তারক্ষী নূর মোহাম্মদ জানায়, আগে সকাল-সন্ধ্যায় আশপাশের পাড়া-মহল্লা থেকে অনেক ছেলে খেলতে আসত। সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত মাঠ ছাত্রদের দখলে থাকত। এখন কলেজের ছাত্রাবাসও  বন্ধ। মাঠে কেউ আসে না। ভোরে মাঠে হাঁটতে আসত এলাকার অনেক বাসিন্দা। তারাও এখন ব্যায়াম করতে আসে না।
প্রায় একই চিত্র ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের। করোনায় ছাত্রদের অনুপস্থিতিতে খেলার মাঠ যেন বিরানভ‚মিতে রূপ নিয়েছে। সবুজ ঘাসে ভরে গেছে মাঠ। কোভিডের কারণে শিক্ষার্থীদের হলগুলো পুরো বন্ধ। তাই সকাল-বিকাল জমে না আড্ডা আর খেলাধুলা। করোনাকালীন ছুটিতে নেই প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিযোগিতামূলক খেলার আয়োজনও। রাজধানীর ঢাকা কলেজ টিচার্স ট্রেনিং কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষালয়ের খেলার মাঠের পরিবেশ খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
শুধু ঢাকা নয়, এর বাইরের প্রতিষ্ঠানেও একই চিত্র। টঙ্গী কলেজ ও এর পাশের সফিউদ্দিন সরকার একাডেমির মাঠেও গরু চরাতে দেখা যায়। বিকালে লোকজন গরুকে খাওয়াতে আসে মাঠে। কতক্ষণের জন্য মাঠে অবাধে ছেড়ে দেয়। গাজীপুরে প্রত্যন্ত একটি গ্রামের স্কুলমাঠে গিয়ে দেখা যায়, ধইঞ্চা ও কলাগাছের চারাসহ তৃণ জাতীয় উদ্ভিদ জন্মেছে। বোঝার উপায় নেই এটি একটি স্কুলমাঠ। সাদা মাটির খেলার মাঠে নেই শিক্ষার্থীর পদচারণা। এই সুযোগে ঘাসেদের খেলা চলছে রীতিমতো।
করোনার ছুটিতে পাবনার ভাঙ্গুরায় সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের তিন একর আয়তনের মাঠে গো-খাদ্য হিসেবে চাষ করা হয়েছে মাষকলাই। গত তিনদিন ধরে স্থানীয় খামারিরা মাঠের এই মাষকলাই কিনে গরুকে খাওয়ানো শুরু করেছে। এতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কলেজ চত্বরে গরু ও রাখালদের চলছে অবাধ বিচরণ। কলেজ ক্যাম্পাস দেখে মনে হবে যেন এক গোচারণভ‚মি।
অনেকটা আক্ষেপ করে রাজধানীর অনার্স পড়–য়া শিক্ষার্থী জুবাইয়া ঝুমা বলেন, করোনায় অনেকদিন গ্রামের বাড়ি ছিলাম। সেপ্টেম্বরে ক্যাম্পাস খুলবে ভেবে ঢাকায় আসি। কিন্তু ক্যাম্পাস খোলার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।
তিনি জানান, ক্যাম্পাসের পাশের একটি ছাত্রী হোস্টেলে থাকলেও স্মৃতির প্রিয় মাঠে আগের মতো আর যেতে পারছেন না। একা একা গেলেও ভালো বোধ করেননি। খেলার মাঠ তার কাছে ধু-ধু মরুভ‚মির মতো লাগে। তার মতো সব শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা শিগগিরই আপন গতিতে ফিরবে চিরচেনা মাঠ। করোনার খরা কেটে হৈ-হুল্লোড়ে মাতবেন সবাই।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]