ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০ ১৩ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০

নামাজে আহ্বানকারীর মর্যাদা ও প্রতিদান
নূর মুহাম্মদ রাহমানী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১১:৩৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 93

ইসলামের অন্যতম বুনিয়াদ নামাজ। মানুষকে নামাজের প্রতি আহŸান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ আমল। এজন্য ইসলামে নামাজে আহŸানকারী অর্থাৎ মুয়াজ্জিনের রয়েছে অনেক উঁচু মর্যাদা। মুয়াজ্জিন যেভাবে আজানের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার বড়ত্বের ঘোষণা করেন এবং তার একত্ববাদের স্তুতি গান, তার প্রতিদান-বিনিময়ও আল্লাহ এমনভাবে দেবেন যে, কেয়ামতের দিন সে সবার ওপর মর্যাদার অধিকারী হবে। তার বিশেষ অবস্থান হবে। এদের জন্য আল্লাহ তায়ালার খাস রহমত ও পুরস্কার রয়েছে। ফজিলতগুলো জানলে সবার মনেই অবশ্যই আকাক্সক্ষা হবে যে, যদি ইমাম, মুয়াজ্জিন হতে পারতাম! নবীজি (সা.)-এর অনেক হাদিসে মুয়াজ্জিনদের অনেক মর্যাদার কথা বলা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নামাজের আদেশ করেছেন। তাই নামাজের সময় নির্ধারণ করা জরুরি। নামাজের সময় নির্ধারণ করার দায়িত্ব প্রধানত মুয়াজ্জিনের। তিনি আমানতের সঙ্গে সময়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে আজানের মাধ্যমে মানুষকে নামাজে আহŸান করবেন। মুয়াজ্জিন প্রয়োজনে ইমাম সাহেবের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিতÑ তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, মসজিদের ইমাম হলো মুসল্লিদের জন্য জিম্মাদার এবং মুয়াজ্জিন আমানতদার স্বরূপ। হে আল্লাহ! তুমি ইমামদের সৎপথ প্রদর্শন কর এবং মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা কর।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০৭)। হাদিসের শেষাংশে রয়েছে যে, নবীজি (সা.) মুয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষভাবে মাগফিরাতের দোয়া করেছেন যে, হে আল্লাহ আজানে তাদের কোনো রকম ভুল হলে মাফ করে দেন।
প্রতিটি মসজিদে নির্দিষ্ট সময়ে আজানের মাধ্যমে মানুষকে নামাজে আহŸানের জন্য নির্দিষ্ট মুয়াজ্জিন নিযুক্ত রাখা আবশ্যক। যিনি আজান দেবেন তিনি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যই এ দায়িত্ব পালন করবেন। বেতন-ভাতা ছাড়া আজানের মতো সুমহান খেদমত করতে পারলে ভালো। হজরত উসমান ইবনে আবুল আস (রা.) হতে বর্ণিতÑ হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-এর কাছে বললাম, আমাকে আমার গোত্রের ইমাম নিযুক্ত করুন। রাসুল (সা.) বললেন, তোমাকে তাদের ইমাম নিযুক্ত করা হলো। তুমি দুর্বল ব্যক্তিদের প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখবে এবং এমন এক ব্যক্তিকে মুয়াজ্জিন নিযুক্ত করবে, যে আজানের কোনোরূপ বিনিময় গ্রহণ করবে না।’ (মুসলিম, হাদিস : ৫৩১)। বেতন-ভাতা ছাড়া ইমামতি-মুয়াজ্জিনি করা একান্তই তার নিজস্ব ব্যাপার। কেউ নিতে চাইলে এতে আপত্তির সুযোগ নেই। বরং একজন ইমাম মুয়াজ্জিনকে সর্বোচ্চ সম্মানী দেওয়া একান্ত কর্তব্য।
আখেরাতে একজন মুয়াজ্জিন আল্লাহর কাছে থেকে অফুরন্ত পুরস্কার লাভ করবেন। কেয়ামতের দিন মানুষ জিন সবাই মুয়াজ্জিনের আজানের সাক্ষ্য দেবে। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যেকোনো মানুষ ও জিন অথবা অন্য কিছু মুয়াজ্জিনের স্বরের শেষ রেশটুকুও শুনবে, সে কিয়ামতের দিন তার জন্য সাক্ষ্য দেবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৯)। মুয়াজ্জিন মাগফিরাতের অনেক দোয়া লাভ করেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিতÑ একটি বর্ণনায় রয়েছে, ‘মুয়াজ্জিনের আওয়াজ যতটুকু পৌঁছে সেখান পর্যন্ত যারা তার আওয়াজ শুনে সবাই তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করে।’ (আল মুজামুল কাবির, হাদিস : ১৩৬৯)। অন্য হাদিসে এসেছে, কেয়ামতের দিন দীর্ঘ ঘাড়বিশিষ্ট হবে মুয়াজ্জিনের গলা। হজরত মুয়াবিয়া (রা.) বলেন, আমি রাসুলকে (সা.) বলতে শুনেছি, কেয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনরা সর্বাপেক্ষা দীর্ঘ ঘাড়বিশিষ্ট হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৩৮৭)। অর্থাৎ তাদের মর্যাদা হবে সবার ওপরে।
দীর্ঘ সময় আজান দেওয়ার অনেক ফজিলত রয়েছে। সাত বছর আজান দেওয়ার ফজিলত রয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিতÑ রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সওয়াবের উদ্দেশে সাত বছর আজান দেবে তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরওয়ানা লিখে দেওয়া হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২০৬)। আর ১২ বছর আজান দেওয়ার ফজিলত প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ১২ বছর আজান দিলে বেহেশত নির্ধারিত। হজরত ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিতÑ রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ১২ বছর আজান দেয়, তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হয়ে যায় এবং তার জন্য লেখা হয় তার আজানের বিনিময় প্রত্যহ ৬০ নেকি, আর প্রত্যেক ওয়াক্ত ইকামতের বিনিময় ৩০ নেকি।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৭২৮)
তাই এ মহাপুরস্কারের আমলের ব্যাপারে প্রতিযোগিতার মনোভাব রাখা চাই। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিতÑ রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যদি আজান ও প্রথম কাতারের সওয়াবের কথা জানত, তাহলে লটারি করে হলেও তা অর্জনের চেষ্টা করত।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১৫; ২৬৮৯)। এজন্য যখনই সুযোগ মিলবে আজান দেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করা উচিত। বহু ধর্মীয় জ্ঞানবান ব্যক্তিরাও আজান দিতে চান না। এটাকে লজ্জাকর মনে করেন। এ ধরনের মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
আর যিনি আজানের মাধ্যমে মানুষকে নামাজে আহŸানের গুরুদায়িত্ব পালন করবেন তার কর্তব্য হচ্ছেÑ আজান দেওয়া যেহেতু একটি উৎকৃষ্ট পেশা, দ্বীনের সুমহান খেদমত, তাই এটাকে খেদমতের মানসিকতা নিয়েই গ্রহণ করা উচিত। আমানতের সঙ্গে সব দায়িত্ব পালন করা। শুধু আজানের জিম্মাদারি পালন করে ক্ষ্যান্ত না হওয়া। এলাকার মানুষের পেছনে মেহনত করা। তাদের সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা। নামাজের দাওয়াত দেওয়া। মসজিদে বাচ্চাদের সবাই (প্রভাতকালীন) মকতব চালু করা। বড়দের জন্য বয়স্ক শিক্ষা চালু করা। এতে এলাকায় দ্বীনি প্রভাব পড়বে এবং একটি আদর্শ ও সুন্দর সমাজের বিনির্মাণ হবে।
লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত, চাষাঢ়া, নারায়ণগঞ্জ






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]