ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২০ ১৫ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২০

করোনাকালে সচিবালয়ের ভেতরেই স্বাস্থ্যবিধি বেহাল
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১১:০৬ পিএম আপডেট: ২৪.০৯.২০২০ ১১:২৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 78

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশেই স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না বেশিরভাগ মানুষ। মার্কেটসহ অন্যান্য স্থানের মতো স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনে ভাটা পড়েছে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়েও। এখানেও স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানা হচ্ছে না।
করোনার শুরুতে মার্চ মাসে সচিবালয়ে প্রবেশের সময় গেটে হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানারে প্রবেশকারীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হতো। কিন্তু এখন আর সে ব্যবস্থাও নেই। এ ছাড়া লিফটগুলোতে বেশিরভাগ সময় গাদাগাদি করে ওঠা-নামা করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে জীবাণুনাশক টানেল বসানো হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই বন্ধ। বেশিরভাগ ওয়াশরুমের বেসিনেই কোনো সাবান নেই। মাস্ক ছাড়া লোকজনকে সচিবালয়ের ভেতরেও চলাচল করতে দেখা গেছে।
গত কয়েকদিন সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে সচিবালয়ে মূল প্রবেশপথে জীবাণুমুক্তকরণ টানেল বসানো হয়নি। সচিবালয়ে লিফটগুলোতে সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রবেশপথে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে অফিসে প্রবেশ করাতে হবে।
একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ঢোকার সময় তাদের শরীরের তাপমাত্রা দেখা হয় না। কর্মস্থলে প্রতিবার টয়লেট ব্যবহারের পর জীবাণুমুক্ত করা এবং ঘন ঘন সাবান পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করার নির্দেশ রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে জীবাণুনাশক টানেল বসানো হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই বন্ধ। এ ছাড়া সচিবালয়ে প্রবেশের সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কারের কোনো ব্যবস্থা নেই। মাস্ক ছাড়া লোকজনকে সচিবালয়ের
ভেতরেও চলাচল করতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যেও রয়েছে ক্ষোভ। কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ছাড়াও সচিবালয়ে অনেকের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা কম। ঝুঁকি জেনেও অনেকে গাদাগাদি করে লিফটে উঠছেন, সক্রিয় থাকলেও জীবাণুনাশক টানেলে প্রবেশ না করে পাশ কাটিয়ে চলে যান। কয়েকজন লিফটম্যান জানান, মানা করলেও অনেকে শুনতে চান না। জোর করেই লিফটে উঠে যান।
গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। পরিস্থিতি অবনতির দিকে যেতে থাকলে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়ানোর পর টানা ৬৬ দিনের ছুটি শেষে ৩১ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে সরকারি অফিস খুলে দেওয়া হয় এবং চালু হয় গণপরিবহন। তখন সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিস করতে পারবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়। ঝুঁঁকিপূর্ণ, অসুস্থ ও সন্তানসম্ভাব্য নারীদের অফিসে আসতে হবে না বলেও নির্দেশনায় জানানো হয়। পরে এই মাসের শুরুর দিকে নতুন নির্দেশনায় জানানো হয়, ঝুঁঁকিপূর্ণ, অসুস্থ ও সন্তানসম্ভাব্য নারী ছাড়া সবাইকে অফিসে আসতে হবে। করোনায় বিধিনিষেধ মানা সংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশনার মেয়াদ ৩১ আগস্ট শেষ হয়। এ বিষয়ে নতুন চারটি নির্দেশনা জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিধিনিষেধের মেয়াদ নতুন করে আর না বাড়িয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ছাড়া সব কিছু স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়ার এটি সবশেষ পদক্ষেপ সরকারের। এর আগে গণপরিবহনে বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করে যাত্রী পূর্ণ করে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে ৭ নম্বর ভবনের অষ্টম তলায় স্থানীয় সরকার বিভাগের জীবাণুনাশক টানেল বন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ভবনের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের টানেলটিও অকার্যকর দেখা যায়। এ ছাড়া এই ভবনের তৃতীয় তলায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের টানেলটিও অকার্যকর দেখা গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি ফ্লোরের তিনটি ওয়াশরুমের বেসিনেও সাবান দেখা যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে প্রবেশের সময়ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের কোনো ব্যবস্থা নেই। সচিবালয়ের ৬ ও ৭ নম্বর ভবনের নিচতলায় লিফটের সামনে নোটিস লেখা ‘ভবনে প্রবেশের পূর্বে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন’। নোটিসের পাশে একটা ঝুঁড়ি থাকলেও তাতে স্যানিটাইজার নেই। অন্য ভবনগুলোতেও নির্দিষ্ট কোথাও স্যানিটাইজার রাখতে দেখা যায়নি। একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, সচিবালয়ের ভেতরে সংক্রমণ ঠেকাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নিজ উদ্যোগে মাস্ক পরা ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থাই জোরালো না। একেক কক্ষে চার-পাঁচজন করে বসায় সামাজিক দূরত্ব রক্ষা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব (প্রশাসন-১) খন্দকার জাকির হোসেন বলেন, ব্যক্তিগত টয়লেটগুলোতে সাবান আছে। বাইরেরগুলোতে সাবান দিলে থাকে না। কে বা কারা নিয়ে যায়। তারপরও সাবানের ব্যবস্থা করা হবে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের কাছে সাবান থাকে বলে জানান তিনি। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) দীপক চক্রবর্তী বলেন, টানেল কখনও কাজ করে, কখনও কাজ করে না, এভাবেই চলছে। তিনি জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবাই ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস করছে। সবাই মাস্ক ব্যবহার করছে। বিভিন্ন দফতরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রয়েছে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি মানা সংক্রান্ত যে নির্দেশিকা রয়েছেÑ সেটা এখনও আছে। পরিস্থিতি দেখে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। তিনি বলেন, করোনার বিষয়ে মানুষের একটা ধারণা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কিছুটা বেড়ে গেছে। মানুষ বুঝতে পারছে কীভাবে চললে ভালো হবে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]