ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০ ৮ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০

করোনার ২০০ দিন পার
দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ চক্রে বাংলাদেশ
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১১:০৬ পিএম আপডেট: ২৪.০৯.২০২০ ১১:২৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 10

করোনাভাইরাসে প্রথম সংক্রমণের পর দুইশতম দিন পার করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার আরও ১ হাজার ৫৪০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ সময়ে মারা গেছেন ২৮ জন। আগের দিন বুধবারের তুলনায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ও মৃতের সংখ্যা কমেছে। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৩৮৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মোট ৫ হাজার ৪৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুরুর দিকে সংক্রমণ ধীর থাকলেও মে মাসের মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। জুনে তা তীব্র আকার নেয়। জুলাইয়ের শুরু থেকে নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা কমতে থাকে। এ সময় পরীক্ষাও কম হয়। অবশ্য গত আগস্ট থেকে নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যার পাশাপাশি পরীক্ষার তুলনায় সংক্রমণ শনাক্তের হারও কমতে দেখা গেছে। তবে সে অনুপাতে মৃত্যু কমছে না। এসব বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ চক্রে বাংলাদেশ পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে শীতে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৩৮২টি নমুনা সংগ্রহ
করা হয়। এর মধ্যে নমুনা পরীক্ষা হয়  ১২ হাজার ৯০০টি হয়। পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবারের তুলনায় এ হার বেশি। বৃহস্পতিবার শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বুধবার এ হাজার ৬৬৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল ৩৭ জনের। এ পর্যন্ত দেশে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ৯২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১৩৯ জন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২৮ জনের মধ্যে বিশোর্ধ্ব একজন, ত্রিশোর্ধ্ব একজন, চল্লিশোর্ধ্ব তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ছয়জন এবং ষাটোর্ধ্ব ১৭ জন। বিভাগ অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২৮ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রামে ছয়জন, রাজশাহীতে একজন, খুলনায় দুজন, সিলেট একজন ও রংপুরে একজন রয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, প্রতিদিন যে প্রতিবেদনটা দিচ্ছে, সেখানে সংক্রমণের মাত্রাটা কমছে। কিন্তু মহামারির প্রকৃত চিত্রটা আমরা পাচ্ছি না। কোথায় সংক্রমণ বাড়ছে, কোথায় কমছেÑ আমরা জানি না। আমরা অ্যান্টিবডি টেস্ট করছি না। অ্যান্টিবডি টেস্ট দিলে বিভিন্ন স্থানে সংক্রমণের অবস্থাটা দেখতে পাব। তিনি বলেন, আক্রান্তরা যাদের সংস্পর্শে গিয়েছিল, তাদের ট্রেসিং হচ্ছে না। ট্রেসিং এবং ট্রেসিংপরবর্তী টেস্ট করানো হচ্ছে না। ট্রেসিং করে যদি টেস্ট করতাম, তখন প্রকৃত সংখ্যাটা বলতে পারতাম।
এদিকে ইউরোপ-আমেরিকার মতো বাংলাদেশেও করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন শীত মৌসুমে ভাইরাসের প্রকোপ আবার বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে সে জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে একই ধরনের আশঙ্কার কথা বলেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এখনও প্রবাহটা পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না। যদি সংক্রমণের হার দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে কমতে থাকে, তা হলে একটা ট্রেন্ড বোঝা যাবে। জুন, জুলাই, আগস্টে ২০ শতাংশের ওপরে ছিল দৈনিক শনাক্তের হার। মৃতের সংখ্যার চেয়ে শনাক্তের হারটা দিয়ে সংক্রমণের অবস্থাটা কোন পর্যায়ে, সে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য দেশের তুলনা করলে হবে না। কারণ ভারতে শনাক্তের হার ৮-৯ শতাংশ, কিন্তু সেখানে করোনাভাইরাস এখন উঠতির দিকে। আবার যেসব দেশে দ্বিতীয়বারের মতো করোনা সংক্রমণ বাড়ছে সেসব দেশে করোনা সংক্রমণ হার ২ শতাংশে নেমে এসেছিল। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রথম ধাক্কাই সামাল দিতে পারেনি।
স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বাইরে লকডাউনের মতো কড়াকড়ি আরোপের কথা আপাতত ভাবছে না স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, করোনা সংক্রমণের হার এখন কমের দিকে। জীবিকা নিয়েই মানুষ বেশি চিন্তিত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে কিছুটা অনীহা দেখা গেছে। সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে যে সচেতনতার বার্তা আছে, সেটা চলবে। কিন্তু আইনগতভাবে কড়াকড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা এখন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]