ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০ ৮ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০

স্বপ্ন আধুনিক নগরীর
উন্নয়ন ও অগ্রগতির চাকা আরও গতিময় হোক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১১:৫৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 29

স্বাস্থ্যকর বাসযোগ্য নগরের স্বপ্ন সবার। একটি সুন্দর স্বাস্থ্যকর নগরের জন্য ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ ভাগ খোলা জায়গার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন নগর বিশেষজ্ঞরা। আমাদের চারশ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাজধানীতে যেভাবে প্রতিনিয়ত মানুষ এবং তাদের জন্য বাসস্থানের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে, তাতে করে স্বাস্থ্যসম্মত খোলা স্থান তো দূরের কথা, ন্যূনতম ফাঁকা জায়গাও থাকছে না। অনেক ক্ষেত্রেই অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে ওঠা নগরে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠছে। আমাদের জনসংখ্যা বাড়ছে। জনসংখ্যার বাড়তি চাপ পড়ছে রাজধানীতেও। কারণ একসময়ে সব কর্মকাÐই নগরকেন্দ্রিক হয়ে ওঠার যে প্রবণতা ছিল, তা থেকে এখনও বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। ফলে মানুষের বাড়তি চাপ সইতে হচ্ছে রাজধানীকেও। ইতোমধ্যে বিশে^র সবচেয়ে জনবহুল নগরীর তালিকার শুরুর দিকে ঢুকে পড়েছে আমাদের রাজধানী ঢাকা। অতিরিক্ত চাপে নাভিশ^াস উঠেছে রাজধানীর। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে সাধারণের মধ্যেও রয়েছে ব্যাকুলতা। সেখানে স্বস্তির পরশ নিয়ে আসছে পদ্মা সেতু। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় গড়ে উঠছে এই সেতু। যার মাধ্যমে আমাদের সড়ক যোগাযোগে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গড়ে ওঠায় গতি সঞ্চার হবে অর্থনীতিতেও, যা এরই মধ্যে দৃশ্যমান। সময়ের আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সেতুকে ঘিরে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হচ্ছে। মানুষ এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করেই বিভিন্ন আর্থিক খাত যেমন চাঙ্গা হচ্ছে, তেমনি আবাসন শিল্পের সামনেও এক বিরাট সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে পদ্মা সেতু। ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জ থেকে একেবারে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া পর্যন্ত আবাসন শিল্পের এক বিশাল হাব তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, পদ্মার ওপারে মাদারীপুরের শিবচর এবং শরীয়তপুরের জাজিরা থেকে একেবারে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত আবাসন শিল্পের বিকাশ ঘটারও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যাকে আবাসন শিল্প উদ্যোক্তারাও আশাব্যঞ্জক হিসেবেই উল্লেখ করছেন।
মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাত্রা নির্ভর করে তার বাসস্থানের ওপর। সভ্যতার ক্রমবিকাশ, নগরভিত্তিক উন্নয়নের পথ ধরে মানুষের আবাসন খাতেও বিপ্লব সাধিত হয়েছে। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই আমাদের আবাসন শিল্প খাতও। সুস্থ-সুন্দর জীবনের অপরিহার্যতাকে স্বীকার করেই আমাদের স্বনামখ্যাত অনেক আবাসন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে পরিকল্পিত নগর। সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে তাদের অংশগ্রহণ পরিকল্পিত নগরায়ণের পথে বড় ভ‚মিকা রাখছে। সময়ের আলোর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, পদ্মা সেতুকে উপলক্ষ করে কেরানীগঞ্জ থেকে শুরু করে পদ্মার দুই পারে আবাসন শিল্পে বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ সময় যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর কারণে বুড়িগঙ্গার ওপারে একেবারে সেতু পর্যন্ত আবাসন শিল্পের জন্য বিশাল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এখন ল্যান্ড প্রকল্পের জন্য সম্ভাবনাটা আরও বেশি। এ সম্ভাবনা পদ্মার ওপার পর্যন্ত ছড়িয়ে যাবে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের কারণেই পদ্মা সেতুর উভয় পারে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা হবে। সে সঙ্গে গড়ে উঠবে আবাসনও। সেতুর কারণে পাল্টে যাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, মানুষের আয়ও বাড়বে। আর আয় বাড়লেই তৈরি হবে আবাসন শিল্পের মার্কেট। ফলে যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের চিন্তা করছেন তাদের জন্য সৃষ্টি হয়েছে বিনিয়োগের সুযোগ।
মাথা গোঁজার ঠাঁই মানুষের আজন্মের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ও পরিকল্পনা নিয়েই এগিয়ে চলেছে আমাদের আবাসন খাত। এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দিতে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকেও। বেসরকারি এই খাতটির এগিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন দেশের বেকার সমস্যার সমাধান হবে, তেমনিভাবে আমাদের অর্থনীতিতেও গতি সঞ্চার হবে। একসময়ের সর্বনাশা নদী পদ্মা আজ একটি সেতুর মাধ্যমে আমাদের সামনে খুলে দিয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনার দুয়ার। এই নদীর ওপরে নির্মাণাধীন সেতুই আজ রাজধানীর সঙ্গে সড়কপথে আলাদা হয়ে থাকা দক্ষিণাঞ্চলের ভ‚খÐকে শুধু যোগই করছে না, বরং একই সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্যের দুয়ারও উন্মুক্ত করছে। সেই সঙ্গে গতিময় করে তুলছে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চাকা। পদ্মা সেতুর দুই পারে আধুনিক শহর গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা নিয়ে আবাসন কোম্পানিগুলো এগিয়ে চলেছে তার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আমাদের রাজধানীর সম্প্রসারণ এবং রাজধানীর ওপর থেকে জনসংখ্যার চাপ কমানো সম্ভব হয়ে উঠবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]