ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০ ১৫ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০

বিশ্বনেতৃত্বের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনা
ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১১:৫৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 307

ক্রান্তিলগ্নে বাঙালি জাতিকে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে যিনি দেশকে গৌরবের আসনে সমাসীন করেছেন সেই টানা তিনবারের রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। তার অসাম্প্রদায়িক, উদার, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে দিয়েছে এক আধুনিক ও অগ্রসর রাষ্ট্রনায়কের স্বীকৃতি। ২৮ সেপ্টেম্বর একুশ শতকের অভিযাত্রায় দিনবদল ও জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার কাÐারি শেখ হাসিনার জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনটিতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তার জন্ম। পিতা শেখ মুজিব তখন কলকাতায় ভারত ভাগের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দাঙ্গা প্রতিরোধ এবং লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত। তাই জন্মের পর দাদা ও দাদির স্নেহ-আশীর্বাদ নিয়ে শুরু হয় শেখ হাসিনার জীবন। দাদা শেখ লুৎফর রহমান নাতনির নাম রাখেন ‘হাসিনা’। মা তাকে বুকের ভেতর মমতায় জড়িয়ে রাখেন। প্রথম সন্তান জন্মের খবর পেয়ে বাবা হঠাৎ একদিন বাড়ি এসে মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে ডাকলেন, ‘হাচুমণি’। মেয়ে কোলে নিয়ে কপালে এঁকে দিলেন স্নেহের চুম্বন। কে জানতÑ সেদিনের ছোট্ট পরী ‘হাচুমণি’ই হবেন বাংলাদেশের কাÐারি; জনতার প্রিয় নেতা। বিশ^নেতৃত্বে তিনি এখন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। নদী-খাল-বিল ও হাওড়-বাওরের দেশ বাংলাদেশের অন্যান্য দশটি গ্রামের মতো টুঙ্গিপাড়াও সবুজে আচ্ছাদিত একটি গ্রাম। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বাইগার নদী। নদীতে মাছ ধরা, নৌকা চলার দৃশ্য দেখে এবং সবুজ প্রকৃতির গন্ধ মেখেই শেখ হাসিনার শৈশব কেটেছে। প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু সেখানেই। এরপর ঢাকায় এসে আজিমপুর গার্লস হাইস্কুল থেকে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষা সমাপন করে তিনি ভর্তি হন গভর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে; যা বর্তমানে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ হিসেবে পরিচিত। সেখান থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ওই কলেজে পড়াকালে ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে তিনি কলেজ ছাত্রী সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৮ সালে প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
আজীবন সংগ্রামী বঙ্গবন্ধু মানুষের অধিকার আদায় করতে গিয়ে বারবার জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। তাই মা শেখ ফজিলাতুন্নেছার ছায়াসঙ্গী হয়েই কেটেছে শেখ হাসিনার। এ সময় পিতার রাজনৈতিক জীবনকে খুব ঘনিষ্ঠভাবে দেখে দেখে নিজেকেও ওতপ্রোতভাবে রাজনীতিতে আদর্শ নেতা হিসেবে গড়ে তোলেন। শেখ হাসিনা আত্মপ্রত্যয়ী, মানবতাবাদী, দূরদর্শী নেতৃত্বের অধিকারী। যার প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই। তবে তারুণ্যের সেই দিনগুলো থেকে আজকের শেখ হাসিনা অভিজ্ঞতায় অনেক সমৃদ্ধ। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি খুবই ঋদ্ধ। বুদ্ধিমত্তা আগের মতোই প্রখর, সহনশীলতা ও দৃঢ়তা, ধৈর্য, যেন তার চরিত্রগত ধর্ম। ভালোবাসায় ও সহমর্মিতায় তিনি সবার কাছে প্রিয় এবং বাংলার মানুষের অতি আপনজন। তাই তিনি আজ আমাদের গর্ব। শেখ হাসিনা আজ জনমানুষের নেতা। সেখান থেকে এখন বিশ^নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শোকাবহ ঘটনা শেখ হাসিনার জীবনে অনেক বড় বেদনাদায়ক ঘটনা, এক গভীরতম ট্র্যাজেডি। এই শোক তাকে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যেতে শক্তি দিয়েছে, করে তুলেছে আরও দায়িত্বশীল। স্বাধীনতার পর সাড়ে তিন বছর; বঙ্গবন্ধু মহাব্যস্ত একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে। এ সময়টায় পাশে থেকে তাঁকে সহযোগিতা করেন বাঙালির স্বপ্নজয়ের সারথি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা। এর মধ্যে জার্মানিতে অবস্থান করা স্বামী প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়ার কাছে যান শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছিলেন ছোটবোন শেখ রেহানা। তাই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কালরাতে স্বাধীনতাবিরোধী ও ক্ষমতালিপ্সুদের ভয়াবহ আক্রমণ থেকে রক্ষা পান তারা। কিন্তু নৃশংসভাবে প্রাণ দিতে হয় জাতির পিতা শেখ মুজিবসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের। ঘাতকের বুলেট রেহাই দেয়নি ১০ বছরের ছোট্ট শিশু রাসেলকেও।
স্বভাবতই এ ঘটনা শেখ হাসিনার জীবনে বেশ বড় একটি বেদনাদায়ক ও গভীরতম ট্র্যাজেডি। ওইদিন যেসব লোভী ও বিশ^াসঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুর পবিত্র রক্ত মেখে নিজেরা হয়েছিল ঘাতক ও খুনি; তাদের সেই ভিত সেদিন শক্ত হতে পারেনি। তারা চরিতার্থ করতে পারেনি তাদের পাপী হৃদয়ের লালসা। খুনি মোশতাকেরা বাঙালির অস্তিত্বকে মুছে ফেলার অপচেষ্টার প্রয়াস চালিয়েছিল। তাদের উচ্ছিষ্টভোগী লোভীরা কেউ কেউ তলে তলে তাদেরই সমর্থন করে গেছে। ক্যু-পাল্টা ক্যু ও হত্যা এবং অস্ত্রের ঝনঝনানিতে তারা ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা, গণতন্ত্র এবং রাজনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেছিল। দেশজুড়ে কায়েম করা হচ্ছিল দুর্নীতি ও দুঃশাসনের রাজত্ব। একই সঙ্গে ইমডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাÐের বিচার বন্ধ করে মোশতাক ও তার দোসরেরা। পাশাপাশি খুনিদের বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়। পুনর্বাসন করা হয় রাজনৈতিকভাবেও। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১Ñ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল সঙ্কটময়। সংশয় প্রতিহিংসা-দমনপীড়ন ও শোষণে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। কাÐারিহীন ‘নৌকা’য় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ১৯৮১ সালের ফেব্রæয়ারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হয়; সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে প্রবাসে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি করা হয়।
১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালের পর টানা ছয় বছর তাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশে তাকে পেয়ে দেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করল। শেখ হাসিনার এই ফিরে আসা ছিলÑ গণতন্ত্রের ফিরে আসা, দেশের উন্নয়ন ও প্রগতি এবং আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবির ফেরা। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশের লাখ লাখ জনতা। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন সংবধর্নায় লাখ লাখ মানুষের ভালোবাসাতেই সেদিন শেখ হাসিনা খুঁজে পেয়েছিলেন পিতৃশোকের সান্ত¡না, মা হারানোর বেদনা। আপামর মানুষের মাঝেই তিনি খুঁজে পান হারানো পিতা-মাতা, ভাইসহ স্বজনদের ভালোবাসা। তখন থেকেই তার ধ্যান-জ্ঞান একটাইÑ দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ এবং বিশ^দরবারে বাঙালিকে একটি উন্নত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা। জনগণের উদ্দেশে সেদিন তিনি বলেন, ‘আমি বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য এসেছি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, আমি বঞ্চিত মানুষের পাশে থাকতে এসেছি। বাবা, মা, ভাই সব হারিয়েছি। আপনারাই আমার পরম আত্মীয়।... আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে মুক্তির সংগ্রামে নামতে চাই। মৃত্যুকে ভয় পাই না। বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য আমার বাবা আজীবন সংগ্রাম করেছেন। বাংলার মানুষের জন্যই জীবন দিয়েছেন। আমিও প্রয়োজনে বাবার মতো আপনাদের জন্য জীবন দিব।’ বঙ্গবন্ধুকন্যার এই বক্তব্যে দিশেহারা বাঙালি জাতির মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চারিত হয়। তারা জেগে ওঠে নতুন আশায়, নতুন স্বপ্ন ও উদ্যমে। দৃপ্ত স্বপ্ন, আপসহীন প্রতিশ্রæতি আর অসহায় মানুষদের নিয়ে জাতির পিতার দেখা অসমাপ্ত স্বপ্নের লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাওয়া শুরু করেন শেখ হাসিনা। তার সেদিনের সেই প্রত্যয় আর দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলেই আজ একসময়ের দুর্যোগের দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ এখন সমৃদ্ধির পথে সাবলীল গতিতে এগিয়ে চলেছে। বিশে^ বাংলাদেশ এখন রোল মডেল।
দেশ থেকে শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় যেমন মঙ্গা দূর হয়েছে, তেমনই সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থান। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিতেও তার রয়েছে নানা উদ্যোগ। তার ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তব। যার ফল আমরা এই বৈশি^ক মহামারি করোনাকালে বেশ ভালোভাবে ভোগ করছি। এখন ঘরে বসেই অনলাইন প্লাটফর্মে অফিসিয়াল কাজও সম্পন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষ হাতে রাষ্ট্র পরিচালনা করে শেখ হাসিনা দেশের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছেন। যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করে জাতিকে করেছেন কলঙ্কমুক্ত। কিন্তু তার এই দীর্ঘপথ মোটেই মসৃণ ছিল নাÑ ছিল কণ্টকাকীর্ণ। আর এই সংগ্রামে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কমপক্ষে ২১ বার হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষটি ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমায় ওইদিন প্রাণে বেঁচে যান তিনি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার শ্রবণশক্তি। হত্যাচেষ্টাসহ ষড়যন্ত্রের জাল ছড়িয়ে থাকলেও দমে যাওয়ার মানুষ নন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আজ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ, বুদ্ধিমত্তায় প্রখর; সহনশীলতা ও দৃঢ়তা এবং ধৈর্য যেন তার চরিত্রগত ধর্ম। ভালোবাসায় ও সহমর্মিতায়ও তিনি বাংলার মানুষের প্রিয় এক ভগিনী, অতি আপনজন এবং একজন মমতাময়ী মা। তাই তো আজ তিনি বাংলাদেশের জনগণের হয়ে বিশ^নন্দিত। বিশে^র শীর্ষ নারীনেত্রীর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে সরকারপ্রধান হিসেবে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী, ব্রিটেনের মার্গারেট থ্যাচার ও শ্রীলঙ্কার চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন তিনি। বিরোধীদলের নেত্রী হিসেবেও শেখ হাসিনা ছিলেন আপসহীন, সংগ্রামে ও আন্দোলনে একজন দূরদর্শী নেতা। দেশে ফেরার পর তৎকালীন সরকার তাকে ৩২ নম্বরের বাড়িতে যেতে দেয়নি। পিতা-মাতাসহ স্বজনদের হত্যার ঘটনায় মামলা পর্যন্ত করতে পারেননি তিনি। শত নির্যাতন ও মানসিক কষ্ট নিয়েও মানুষের দুঃখ লাঘবে ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছেন শেখ হাসিনা। তার পাশে ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরপর দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরেছেন, দলকে সংগঠিত করেছেন। এই সফরেও তার ওপর হামলা হয়েছে। ১৯৯৪ সালে বিরোধী দলে থাকাকালে পাবনার ঈশ^রদী রেলস্টেশনে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলা চালানো হয়। কিন্তু জনগণের ভালোবাসা যার সঙ্গে থাকে তাকে কি আর কোনো বিপদে ফেলা যায়! স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা তাকে রক্ষা করেন।
পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ চষে বেরিয়েছেন শেখ হাসিনা। দেশের যেকোনো সঙ্কটে তার নেতৃত্ব দলমত নির্বিশেষে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি তিনি। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। তিনি হন প্রধানমন্ত্রী। ২০০১ সাল পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করেন। এর মধ্যেই শেখ হাসিনা প্রমাণ করেন সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি যেমন দেশনন্দিত, তেমনি গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ^নেতার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত। তার শাসনামলে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য ও অর্থ বরাদ্দ এবং অন্যান্য সহযোগিতা মানুষকে অসহায়ত্ব থেকে রক্ষা করে। দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলে তিনি দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে মানুষকে রক্ষা করে ভাগ্যোন্নয়নের পথে দাঁড় করান। নারীর ক্ষমতায়নে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সন্তানের অভিভাবক হিসেবে সব ক্ষেত্রে পিতার পাশাপাশি মাতার নামের স্বীকৃতিও ছিল তার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষকদের ঋণ প্রদান, কৃষি সামগ্রীর মূল্যহ্রাস এবং সহজ প্রাপ্যতাও ছিল বিরাট অবদান। ওই সময়ই সম্পন্ন হয় পার্বত্য শান্তি চুক্তি। যার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংগ্রামের সমাপ্তি হয়। ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রæয়ারি শান্তি বাহিনীর প্রধান জ্যোতিরিন্দ্র প্রিয় লারমা খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অস্ত্র সমর্পণ করেন। ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনা ভারত ও পাকিস্তান সফরে গিয়ে তাদের আহŸান জানান, পরমাণু যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার। তখন ওই দুদেশের মধ্যে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের কারণে উত্তেজনা চলছিল। এরপরের পাঁচ বছর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে থাকে বাংলাদেশ। সরকার গঠন করে বিএনপি-জামায়াত জোট। তাদের দুঃশাসনে পাঁচ বছর দেশে চলে লুটপাট ও দুর্নীতি এবং জঙ্গিবাদ। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মদদে চলে বিরোধী দলকে দমন করার হিংসাত্মক কর্মকাÐ। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে চলে সিরিজ বোমা হামলা। এরপরের ইতিহাস তো সবারই জানা। সেনাসমর্থিত তত্ত¡াবধায়ক সরকার গঠিত হয়। ওই সরকার দুই বছর দেশ শাসন করে। একপর্যায়ে রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতাদের কারারুদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা গ্রেফতার-রিমান্ড ও নির্যাতন চালানো হয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাও কারারুদ্ধ হন। নিঃসঙ্গ কারাগারে তার ওপর চলে মানসিক নির্যাতন। তবে ভেঙে পড়ার মানুষ নন শেখ হাসিনা। সাব জেলে কারাবন্দি অবস্থায় আদালতে মামলা চলে, সেখানেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেন। তার বিরুদ্ধে সব মিথ্যা মামলার অভিযোগের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র চলছে।
একপর্যায়ে ওই সময়ের তত্ত¡াবধায়ক সরকার দেশে নির্বাচন দেয়। সে সময় তার প্রিয় বাংলার জনগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক ও বাহক শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিল। যার প্রমাণ তারা দিয়েছে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে। বিপুল ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এরপরই শুরু হয় শেখ হাসিনার দিন বদলের পদক্ষেপ। তিনি জাতিকে নতুন ভিশন দিয়েছেন, যার নাম রূপকল্প-২০২১; বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করাই এর ভিশন। দিয়েছেন রূপকল্প-২০৪১, শতবর্ষব্যাপী ডেল্টা প্ল্যান। শেখ হাসিনা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’র স্বপ্ন দেখিয়েছেন; যেখানে সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি থাকবে। আর সেই কর্মসূচি নেওয়া হয় একেবারে তৃণমূল থেকে। শেখ হাসিনার পরিকল্পনায় এই উদ্যোগের স্থপতি তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও তার সুযোগ্যপত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তব। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থানের ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আজ মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। নারীর ক্ষমতায়নে নেওয়া নানা উদ্যোগও বেশ প্রশংসিত হয়েছে। প্রায় ১১ লাখ নির্যাতিত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বঙ্গবন্ধুকন্যার কাছে দেশ ও দেশের মানুষই হলো প্রধান কথা। এর বাইরে তিনি যেতে চান না, যেতে পারেন না এবং যানও না। এটাই তার বড় গুণ। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহ দমনকালে তার ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা আমরা জানি। রাষ্ট্রনায়কোচিত বক্তব্য, জ্ঞান, আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছেÑ এটা আমাদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতেও নেওয়া পদক্ষেপে তার সুযোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ছাপ রয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলেই অদৃশ্য ভাইরাস দেশে সেভাবে ছড়াতে পারেনি। তার পদক্ষেপ ও নেতৃত্বে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে নতুন সূর্যের আলোয় আলোকিত হবে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। করোনা পরিস্থিতিই নয়, বর্তমান বিশ^ যখন অর্থনৈতিক মন্দায় জর্জরিত, দেশে দেশে মূল্যবৃদ্ধিসহ সমস্যা জটিল হচ্ছে তখন একজন শেখ হাসিনার হাত ধরেই শক্তিশালী হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। ২০০৫ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ। এখন তা নেমে এসেছে ২০ শতাংশে। মহামারির মধ্যে বিশে^র নানা দেশ অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও বাংলাদেশে শুধু জুলাই মাসেই রেকর্ড রেমিট্যান্স অর্থাৎ ২.৬ বিলিয়ন (২৬০ কোটি) মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
তবে দেশে সমস্যা যে নেই তা নয়। বয়সে ৫০-এর কাছাকাছি থাকা দেশটির আরও এগিয়ে যেতে হবে। দেশের মানুষ ন্যূনতম শান্তি ও স্বস্তিতে জীবনযাপন করছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগও নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী; যেখানে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কর্মসংস্থান ছাড়াও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের সম্ভাবনা থাকবে। আমাদের বিশ^াস জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে শেখ হাসিনা তার সততা, আত্মত্যাগ, দূরদর্শিতা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে বিশ^নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেনÑ তা বলাই যায়। তার নেতৃত্বেই উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে মানুষ। আসছে জন্মদিনে মানবতার নেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। আগাম শুভেচ্ছা, শুভ জন্মদিন। আপনি
শতবর্ষী হোন।
 
ষ উপাচার্য, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা
     মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]