ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০ ১৩ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০

গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনে হাসপাতালে  ছটফট করছে কিশোরী মনি
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 18

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মনি আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরী গৃহকর্মীকে ঢাকায় বেলন দিয়ে পিটিয়ে ও খুন্তি গরম করে শরীরে ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। গায়ে দগদগে ক্ষত নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই তাকে এমন অত্যাচার-নির্যাতন করা হয় বলে জানায় ওই ভুক্তভোগী কিশোরী। সে পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের খামা গ্রামের আব্দুল মোতালিবের মেয়ে।
মনি আক্তার বলে, বাড়ির পাশের মরিয়ম নামে এক নারীর মাধ্যমে ঢাকার আজমপুর এলাকার রয়েল মিয়া ও জবা দম্পতির বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যায়। কিছুদিন যেতেই গৃহকর্ত্রী জবা কারণে-অকারণে শারীরিক নির্যাতন করত। গত ১৫-২০ দিন ধরে আমার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় গৃহকর্ত্রী জবা। কথায় কথায় গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দিত। লাঠি দিয়ে হাতে-পায়ে বেদম পেটাত, দাঁড়িয়ে লাথি মারত। খাবার দিত না। দিলেও ৩-৪ দিনের পচা ভাত দিত। না খেতে পারলে বলত ‘খেতে হবে না’। ভাত রান্না করে ফেন দিতÑ লবণ ছাড়া খাওয়ার জন্য। পানি খেয়েও অনেক দিন থেকেছি। ঘুমানোর জন্য বাথরুমের সামনে জায়গা দিত। এমন করতে করতে আমি অসুস্থ হয়ে যাই। অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যাই।
মা নিলুফা খাতুন জানান, অভাব-অনটনের কারণে মেয়ের সুখের আশায় তার (জবার) বাসায় দিয়েছিলাম। মেয়ে অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় আমাকে খবর দেয়। ঢাকায় আজমপুর নামার পর এক লোক সিএনজি দিয়ে আমাকে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে আমার মেয়ের এমন অবস্থা দেখে আর বাসা খুঁজিনি। মেয়েকে নিয়ে চলে এসে পাকুন্দিয়া হাসপাতালে ভর্তি করি। এ সময় নিলুফা খাতুন কেঁদে কেঁদে বলেন, আমার মেয়ের জীবন প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। মারা গেলে মেয়ে শেষ, বেঁচে থাকলেও সারাজীবন ক্ষতের দাগ নিয়ে বাঁচতে হবে। আমি এই নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই। পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, মনি আক্তারের শরীরে পুরনো-নতুন অনেক আঘাতের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। অভিযুক্ত জবার ও তার পরিবারের পরিচয় জানার জন্য মনিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া তারই পরিচিত মরিয়ম আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।  পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম শ্যামল মিয়া মোবাইল ফোনে জানান, যে থানা এরিয়ায় নির্যাতনের ঘটনা সেই থানায় অভিযোগ দিতে হবে। পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নির্যাতিত পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]