ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০ ১১ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০

নদী ভাঙনে বিলীনের পথে বিরামপুরের একটি গ্রাম
নূরে আলম সিদ্দিকী নূর, বিরামপুর
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৮:২২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 812

সর্বনাশা নদীর পাড়ে মাথায় হাত রেখে ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে আনমনা হয়ে বসে আছেন আব্দুল মাবুদ (৫০)। পাড়ের যে অংশটিতে তিনি বসে আছেন সেটি কয়েকদিন আগে তার বাড়ির বারান্দা ছিল। চোখের সামনেই এক এক করে নিজের হাতে সাজানো ৫টি ঘর চলে গেছে নদীর ক্ষুধার্ত পেটে। প্রতিদিনই তিন থেকে পাঁচ হাত করে বসতভিটার মাটি খেয়ে ফেলছে দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভার পারভবানীপুর গ্রামের মুন্সিপাড়ার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রাক্ষসী যমুনা শাখা নদী।

রোববার বিকালে সরেজমিন গিয়ে গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিনে টানা বৃষ্টিতে নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পানির তীব্র স্রোতের কারণে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।

চলতি মাসে টানা বর্ষাতে এ গ্রামের তিনটি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে এবং আরো ৮টি বাড়ি বিলীনের পথে।

নদীর পাড় থেকে ২ মিটার দূরত্বে অবস্থিত গ্রামের একমাত্র জামে মসজিদটিও যেকোনো মুহূর্তে নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন অসহায় গ্রামবাসী।

শুধু তাই নয়, একই গ্রামের মন্ডলপাড়াতে ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও রয়েছে হুমকির মুখে। বিদ্যালয়ের ৫ হাত দূরে নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়টিকে রক্ষার জন্য রোববার দুপুরে গ্রামবাসী নদীর পাড়ে বাঁশ ও গাছের গুঁড়ির বাঁধ দিয়েছেন।

পারভবানীপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা শওকত আলী (৫০) বলেন, আমার বসতবাড়ি ও ১৮ বিঘা আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। পরে নদী থেকে প্রায় ৫শ হাত দূরে পাকারাস্তা সংলগ্ন জমিতে যে বাড়ি করেছি নদী ভাঙনে সেটিও এখন হুমকির মুখে।

শওকত আলী আরো বলেন, আমার  বাড়ির পূর্বপাশে ২২টি বাড়ি ছিল যেগুলো সব নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে। সেইসাথে গ্রামের মানুষের পারিবারিক কবরস্থানটিও বিলীন হয়েছে। পরে ওই বাড়িহারা মানুষগুলো গ্রামের দক্ষিণ পাশে নতুন করে বাড়ি করে বসত গড়েছেন।

গ্রামের সর্বউত্তরে বাসিন্দা ও নদীর ভাঙনে বাড়িহারা আব্দুল লতিফ বলেন, একসময় আমার বাড়িটিই ছিল গ্রামের ঠিক মাঝখানে। অথচ নদীর ভাঙনে গ্রামের উত্তরপাশের সব বাড়িঘর নদীতে বিলীন হওয়ায় এখন আমার বাড়ির অবশিষ্ট বারান্দাটি গ্রামের সর্বউত্তরের হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোথায় মাথাগোঁজার ঠাঁই নেব, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না!

বিরামপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. নূর আলম বলেন, পারভবানীপুর গ্রাম ও ভবানীপুর গ্রামের বিদ্যালয়টিকে নদীর ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য ইতোপূর্বে কয়েকবার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ৩-৪ বার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

গ্রামবাসীসূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে দিনাজপুর-৬ আসনের তৎকালীন সংসদসদস্য আজিজুর রহমান চৌধুরীর নিকট এ ব্যাপারে আবেদন করলে তিনি নদীর পাড়ে গাইড বাঁধ দেয়া বাবদ ৩০ হাজার ও তৎকালীন ইউএনও আবু সাইদ মো. নূরে আলম ৫ হাজার টাকা দেন।

পরে ২০০৮ সালে দিনাজপুর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নদীর পাড়ে পাইলিং বাঁধ তৈরিতে ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সেসময় বরাদ্দকৃত ওই টাকায় গ্রামরক্ষা বাঁধ দিলেও একবছরের মাথায় সেগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার বলেন, নদী ভাঙনের ফলে বিরামপুর পৌরসভার ভবানীপুর গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পারভবানীপুর গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের নিকট থেকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। পরে সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত দিলেই ওই গ্রামসহ বিদ্যালয় রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]