ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০ ১৩ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০

খুলনায় বকেয়া না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন পাটকল শ্রমিকদের
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১১:৩৪ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 8

খুলনা ব্যুরো
অক্টোবরেই পরিশোধ করা হতে পারে খুলনাঞ্চলের পাটকল (জুটমিল) শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা। এসব পাটকল সরকারের পাট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জুলাই মাসে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খুলনার ৯টি পাটকলের স্থায়ী-অস্থায়ী প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিকের মজুরি, গ্রাচুইটি, প্রোভিডেন্ট ফান্ড, এরিয়ারসহ বিভিন্ন খাতে ১ হাজার ৭শ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। বকেয়া না পেয়ে গত কয়েক মাস কাজ হারানো বেকার শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা অবিলম্বে পুনরায় মিলগুলো চালু ও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছেন।
বিজেএমসির সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সূত্র বলছে, শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের জন্য খুলনাঞ্চলের ৯টি পাটকলের ১৫ হাজার স্থায়ী ও ২০ হাজার অস্থায়ী শ্রমিককে দিতে হবে ১ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭টি জুটমিলের স্থায়ী শ্রমিকদের পাওনা ১ হাজার ৫৬৩ কোটি এবং ৯টি মিলের ২০ হাজার অস্থায়ী শ্রমিকের পাওনা ১১৫ কোটি টাকা। খুলনার খালিশপুর ও দৌলতপুর জুটমিলে কোনো স্থায়ী শ্রমিক নেই।
সূত্র বলছে, শ্রমিকদের বকেয়া পাওনার বাহিদা চূড়ান্ত অনুমোদনে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সরকারি অনুমতি পাওয়া গেলে অক্টোবরের ১০ তারিখের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ শুরু হবে। তবে মোট পাওনার অর্ধেক টাকা দেওয়া হবে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে। আর অর্ধেক টাকা শ্রমিকরা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসেবে মাধ্যমে পাবেন। এ ব্যাপারে সব কয়টি মিলের হিসেবে চূড়ান্ত করার পর শ্রমিকদের কাছ থেকে ফরম পূরণ করা হচ্ছে।
প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক মো. জালাল গাজী জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি পাটকলটির বেসিন বিভাগে কাজ করছেন। জুলাই মাসে মিল বন্ধ হওয়ার পর বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। বর্তমানে মিলের কাছে তার প্রায় ৮ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। অবিলম্বে এই টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শ্রমিক নেতা মো. কেরামত আলী দুলাল জানান, বেকার শ্রমিকরা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কবে পাওয়া যাবে তাও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না। তার মতে, মিল বন্ধ হওয়ায় অল্প সংখ্যক শ্রমিক কিছুটা সুবিধা পেলেও সঙ্কটে রয়েছে শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি শ্রমিক।
বিজেএমসির খুলনাঞ্চলের জিএম গোলাম রব্বানী জানান, শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করার প্রক্রিয়া চলছে। তাদের মোট পাওনার অর্ধেক নগদ এবং বাকিটা সঞ্চয় পত্রের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। বুধবার মন্ত্রণালয়ে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই বকেয়া পরিশোধের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার মতে, পিপির মাধ্যমে মিলগুলো চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। মিল চালু হলে দক্ষ শ্রমিকরাই অগ্রাধিকার পাবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]