ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২০ ১৫ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২০

সঙ্গীত সাধনায় কেটেছে শচীন কর্তার জীবন
রুদ্র চৌধুরী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 14

‘নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক, পায়েলখানি বাজে/মাদল বাজে, সেই সঙ্কেতে শ্যামা মেয়ে নাচে’ কিংবা ‘তুমি এসেছিলে পরশু, কাল কেন আসোনি?/ তুমি কি আমায় বন্ধু, কাল ভালোবাসোনি?’ গান দুটো শোনেননি এমন শ্রোতা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এমন অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা শচীন দেব বর্মণ। আজ তার জন্মদিন। অবিভক্ত ভারতের কুমিল্লায় তার জন্ম ১৯০৬ সালের এই দিনে। তিনি এসডি বর্মণ নামে পরিচিত। কেউ কেউ তাকে শচীন কর্তাও বলেন। তিনি ছিলেন ত্রিপুরার চন্দ্রবংশীয় মানিক্য রাজপরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। তার বাবা নবদ্বীপচন্দ্র দেববাহাদুর ও মা নিরুপমা দেবী। কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে ১৯২০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন তিনি। কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাসের পর ১৯২৪ সালে কলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ে এমএ পড়তে ভর্তি হন।
শচীনের বাবা ছিলেন একজন সেতারবাদক ও ধ্রæপদী সঙ্গীতশিল্পী। বাবার হাতেই শচীনের সঙ্গীতের হাতেখড়ি। সে যুগে শচীনের সঙ্গে পরিচয় হয় কুমিল্লার বিখ্যাত গীতিকার অজয় ভট্টাচার্য, সুরকার হিমাংশু দত্তের সঙ্গে। তার বাবা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ১৯৩১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর সচ্ছল জীবনের সুযোগ ফেলে শচীন সঙ্গীত সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তালিম নেওয়া শুরু করেন ওস্তাদ বাদল খান ও বিশ^দেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। পরিচিত হন ধ্রæপদী সঙ্গীতের সঙ্গে। ওস্তাদ আফতাবউদ্দিন খানের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩২ সালে এইচএমভিতে অডিশন দিয়ে সফল হতে পারেননি শচীন। দমে না গিয়ে সে বছরই হিন্দুস্থান মিউজিক প্রোডাক্টস থেকে বের করেন নিজের প্রথম রেকর্ড। ‘ডাকিলে কোকিল রোজ বিহানে’ ও ‘এ পথে আজ এসো প্রিয়’ ছিল তার প্রথম রেকর্ডকৃত গান।
লোকগানে শচীনের ছিল চমৎকার দখল। বাংলার ঐতিহ্যবাহী ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া, সারি, মুর্শিদী, বাউল, ঝুমুর গানের ওপর ভিত্তি করে তিনি সৃষ্টি করেন অসংখ্য হিন্দি ও বাংলা গান। ১৯৪৫ সাল থেকে শুরু করে প্রায় তিন দশক সিনেমায় সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেন তিনি। তার সঙ্গীত পরিচালনায় গেয়ে বিখ্যাত হয়েছেন লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, কিশোর কুমার, মান্না দে, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, মুহম্মদ রাফি, পঙ্কজ কুমার মল্লিক প্রমুখ। ‘রজনী’ ছবিতে প্রথম প্লেব্যাক করেন তিনি। প্রথম সঙ্গীত পরিচালনা করেন হিন্দি ‘শিকারী’ ছবিতে। সব মিলিয়ে ১৩টি ছবিতে তিনি সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথা ও সুরে চারটি গান রেকর্ড করেন।
১৯৩৪ সালে সর্বভারতীয় সঙ্গীত সম্মেলনে গান গেয়ে স্বর্ণপদক লাভ করেন শচীন কর্তা। পরের বছর বেঙ্গল সঙ্গীত সম্মেলনে ঠুমরি পেশ করে ওস্তাদ ফৈয়াজ খাঁর নজরে পড়েন তিনি। ১৯৭০ সালে ‘আরাধনা’ ছবিতে গেয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। চার বছর পর ১৯৭৪ সালে ‘জিন্দেগী জিন্দেগী’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এর আগে ১৯৬৯ সালে শচীন কর্তা ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কার লাভ করেন। ফিল্মফেয়ার, বিএফজেএসহ তার ঝুলিতে আছে অসংখ্য পুরস্কার।
১৯৩৭ সালে ঢাকা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রায় বাহাদুর কমলনাথ দাশগুপ্তের নাতনি মীরা দাশগুপ্তকে বিয়ে করেন শচীন। মীরা তখন শচীনের কাছে তালিম নিতেন। বিয়ের বছর দুয়েক বাদে তাদের সন্তানের জন্ম হয়। তিনি আরেক কিংবদন্তি সঙ্গীতজ্ঞ রাহুল দেব বর্মণ। আশা ভোঁসলে ছিলেন শচীন দেব বর্মণের পুত্রবধূ। ১৯৭৫ সালে শচীন দেব বর্মণ প্যারালিটিক স্ট্রোক করেন। পাঁচ মাস কোমায় থাকার পর ৩১ অক্টোবর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। শেষ হয় সঙ্গীতের বর্ণাঢ্য এক অধ্যায়ের।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]