ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০ ১১ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০

সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে অপারেশন প্রাইভেট চেম্বারে
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৪৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 52

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের সাহেব আলীর কন্যা শাহিদা আক্তারের চোখের নেত্রনালিতে সমস্যা কয়েক মাস ধরে। রাজাপুর উপজেলা সদরেই ‘প্রাইভেট ডাক্তার’ দেখানোর জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সিনিয়র কলসালট্যান্ট (চক্ষু) ডা. মির্জা মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত চেম্বারে যান শাহিদা। ৫শ টাকা ভিজিট দিয়ে ব্যবস্থাপত্র নেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নেত্রনালিতে অপারেশন করার জন্য রাজি হন শাহিদা। সাড়ে ৩ হাজার টাকা চুক্তিতে সদর হাসপাতালে ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তি হন তিনি। ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঝালকাঠি সদর চৌমাথায় ‘চশমা ঘরে’ ব্যক্তিগত চেম্বারে চুক্তির টাকা দিয়ে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সিনিয়র কলসালট্যান্ট (চক্ষু) ডা. মির্জা মাহবুবুর রহমান নেত্রনালি অপারেশ করেন। এরপর পাঠিয়ে দেন সদর হাসপাতালের নিচতলার পূর্ব পাশে মহিলা চক্ষু ওয়ার্ডে।
শুধু শাহিদা আক্তারই নন, ডা. মির্জা মাহবুবুর রহমান এভাবে প্রাইভেট চেম্বারে চুক্তিতে অপারেশনের পর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে সরকারি খরচে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন নলছিটি উপজেলার নাচনমহল গ্রামের আশরাফ আলী, শ্রীরামপুর গ্রামের শাহ আলম, ঢাপড় গ্রামের সাফিয়া বেগম, রাজাপুর উপজেলার পুখরীজানা গ্রামের হাবিবুর রহমান খান (অব. পুলিশ), সদর উপজেলার সারেংগল গ্রামের মাসুদ খন্দকার, শহরের নতুন কলাবাগান এলাকার রওশন আরাকে।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাড়ে ৪ হাজার টাকা চুক্তিতে সদর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ছানি অপারেশন করা হয়েছে। অপারেশ থিয়েটারে ঢুকে আগে ডাক্তারকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। যে আগে টাকা দিচ্ছে তার অপারেশনই আগে হয়েছে।
নতুন কলাবাগান এলাকার রওশন আরার স্বজনরা জানান, ডাক্তারের প্রাইভেট চেম্বারে কম্পিউটারে ছানি পরীক্ষা করা হয়েছে। ৬ হাজার টাকা চুক্তিতে অপারেশন করা হয়েছে।
রাজাপুর পুখরীজানার হাবিবুর রহমান খান জানান, চোখের ওপরের পাতায় মাংস বলেছিল (বৃদ্ধি পেয়েছিল)। ২৮ সেপ্টেম্বর তার চেম্বারে তা অপারেশন করে কেটে ফেলা হয়েছে। চোখের ছানি কম্পিউটারে অপারেশ করতে ৯ হাজার টাকা চুক্তিতে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। বুধবার দুপুরে চোখের ছানিও অপারেশ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সিনিয়র কলসান্টেড (চক্ষু) ডা. মির্জা মাহবুবুর রহমানের জন্য নির্ধারিত কক্ষে জটিল কোনো রোগ নিয়ে চিকিৎসা সেবার জন্য গেলে যন্ত্রপাতি ও লোকবল নেই বলে ব্যক্তিগত চেম্বারের যেতে উৎসাহিত করেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত থাকার নিয়ম থাকলেও ১২টা অতিক্রম হতেই তিনি ব্যক্তিগত চেম্বারে চলে যান। সেখানে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে ব্যবস্থাপত্র নিতে হয়। অপারেশন প্রয়োজন হলে চেম্বারেই তিনি অপারেশন করে থাকেন। সে চেম্বারে অপারেশন উপযোগী কোনো পরিবেশ নেই। ব্যক্তি ব্যবসাকে হাসিল করতে সদর হাসপাতালকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সিনিয়র কলসালটেন্ট (চক্ষু) ডা. মির্জা মাহবুবুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ঝালকাঠির ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. আবুয়াল হাসান জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হবে। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]