ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০ ১৬ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০

পদ্মা বহুমুখী সেতু এলাকাকে বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণা
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৫৮ পিএম আপডেট: ০১.১০.২০২০ ১১:১৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 32

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প অচিরেই হয়ে উঠতে যাচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি মাইলফলক। এ সেতুর কাজ প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে। আশা করা হচ্ছে কাজ শেষে এই সেতু শিগগিরই জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। কোলাহল মুখর পরিবেশে তখন আশপাশের এলাকায় জীববৈচিত্র্যের অবস্থা কি হতে পারে তা নিয়ে এখনই চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে সেতু বিভাগ। এরই ধারবাহিকতায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর সে লক্ষ্য নিয়ে পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কী কারণে এই এলাকায় বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণা দেওয়া হবে, এই প্রশ্নের উত্তরে বন বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, পদ্মা সেতু বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যটির মোট আয়তন ১১,৬২৫.৩৪ হেক্টর অর্থাৎ ১১৬.২৫ বর্গমিটার। যার মধ্যে চরভ‚মি কমবেশি ৩,১৭৯.১০ হেক্টর। আর নদী জলাভ‚মি ৮,৪৪৬.২৩ হেক্টর। ২০ বছর মেয়াদি অভয়ারণ্য ব্যবস্থাপনা সমঝোতা স্মারক তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে অভয়ারণ্য ঘোষণার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। তাদের যুক্তি হচ্ছে, সেতু সংলগ্ন এলাকায়   চোখে পড়ার মতো তেমন কোনো বন্য প্রাণী নেই। তবে একই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, যেহেতু এলাকায় জনবসতি নেই। তাই সরকারের প্রোটেক্টেড এরিয়া বিষয়ে যেসব আইন-কানুন বিদ্যমান রয়েছে তার আলোকে বন, নদী, চর প্রোটেক্টেড এরিয়া হতে পারে। এ বিষয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প সাম্প্রতিক সময়ে একটি সভার আয়োজন করে। সে সভায় সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।
সভায় সচিব জানতে চান, বন না থাকার কারণে অভয়ারণ্য পরিবর্তে অভয়াশ্রম বলা যায় কি না। এর উত্তরে বন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য হলে বিদ্যমান বন্য প্রাণী আইন ২০১২-এর আওতায় অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা করা যাবে। তবে বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণা যুক্তিযুক্ত। কারণ বন্য প্রাণী বলতে মাছসহ সব প্রাণীকে বোঝায়।
অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলে কি ধরনের উপকার হতে পারে তার একটি ফিরিস্তি দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি অবহিত করেন, অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলে নদীতে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়বে। তবে যারা মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে তাদের মাছ শিকার করা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়বে। এই সঙ্কটকালে জেলেদের কোনো ভর্তুকি দেওয়া যায় কি না সে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম সভাকে অবহিত করেন অভয়ারণ্য ঘোষণার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের জন্য তহবিল গঠন করা হবে। আর এই তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও জানান, মূলত পদ্মা সেতুর টোল থেকে তহবিল গঠন করা হবে। প্রকৃত মৎস্যজীবীদের আইডি কার্ড দেওয়া হতে পারে।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণী বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফিরোজ জামান সভায় বলেন, বন পরিবেশ ছাড়া সভ্যতার ব্যাপক ক্ষতি হবে। প্রোটেক্টেড এরিয়া গঠন করলে সব বন্য প্রাণী থাকতে পারবে। মাছও বৃদ্ধি পাবে। ডলফিন ও কচ্ছপ প্রটেক্টেড এরিয়ায় বংশ বৃদ্ধি করতে পারবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]