ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০ ১৬ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০

বিরল সৌভাগ্যবান তাকসিম খান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৫৮ পিএম আপডেট: ০১.১০.২০২০ ১১:১৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 54

পরপর ষষ্ঠবারের মতো ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বহু বিতর্কিত তাকসিম এ খানের মেয়াদ আরও ৩ বছর বাড়ানো হলো। ওই পদে তাকসিমকে আরও তিন বছর রাখার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন করেছেন বলে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পানি সরবরাহ অনুবিভাগ) মুহম্মদ ইবরাহিম জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি আমরা ওয়াসাকে জানিয়ে দিয়েছি। এখন বোর্ড তার সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে।
একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএম ফজলুল্লাহকেও তার পদে তিন বছরের জন্য পুনঃনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাকসিমের মতো ফজলুল্লাহও ৯ বছর ধরে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদে রয়েছেন। তাকসিমের মতো তার বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ উঠেছে।
ফজলুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ যেমন আদালতে গড়িয়েছে, তেমনই তাকসিমের পুনঃনিয়োগ আটকাতেও উচ্চ আদালতে আবেদন হয়েছে। ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের ১০ সদস্যের উপস্থিতিতে সম্প্রতি এক বিশেষ ভার্চুয়াল সভায় তাকসিমকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাখার প্রস্তাব করে লিখিতভাবে তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তারপর থেকে তা নিয়ে চলছে সমালোচনা। প্রকৌশলী তাকসিমকে পুনঃনিয়োগের প্রস্তাবের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা প্রকৌশলী খন্দকার মঞ্জুর মোরশেদ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন।
২০০৯ সালে তাকসিমকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরে তার মেয়াদ বাড়ানো হয় পাঁচ দফা। পঞ্চম দফায় পাওয়া নিয়োগের মেয়াদ আগামী ১৪ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা।
তার পুনঃনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও (টিআইবি)। বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালককেই পুনঃনিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিতর্কিত নিয়োগের পর প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়ায় টানা পাঁচ মেয়াদে ১১ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে ও অন্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, প্রতিবারই তার নিয়োগ নবায়নের ক্ষেত্রে কোনো না কোনোভাবে আইন ও নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে। এমনকি প্রথমবার নিয়োগের সময়ই অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী নিয়োগে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য দালিলিক নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপরও কখনও বয়সসীমা বাড়িয়ে, আবার কখনও বা বোর্ডের সম্প্রতি সভার সুপারিশ পাশ কাটিয়ে পুরনো সভার তামাদি সুপারিশ ব্যবহার করে, এমনকি বোর্ডের মতামত গ্রহণেরই তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে, এমনকি একটি ক্ষেত্রে একজন বিতর্কের ঊর্ধ্বে মন্ত্রীর লিখিত নির্দেশ অমান্য করে দৈব প্রক্রিয়ায় পুনঃনিয়োগ নিশ্চিত করা হয়। যা শুধু আইনেরই সুস্পষ্ট ব্যত্যয় নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার ও যোগসাজশের সংস্কৃতির নির্লজ্জ প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের দৃষ্টান্ত।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]