ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০ ১৬ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০

উত্তরে আরও অবনতি বন্যায় বিপদে গবাদিপশুও
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০, ১১:০৬ পিএম আপডেট: ০১.১০.২০২০ ১১:২৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 20

অসময়ের অতিবর্ষণ আর উজানের ঢলে বন্যার কারণে নিম্নাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ পানিতে অবস্থান করছেন। হঠাৎ বন্যায় মানুষের সঙ্গে বিপদে আছে গরু-ছাগলও। এ ছাড়া বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে হাজার হাজার ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। দুই দশকের রেকর্ড ভেঙে গাইবান্ধায় করতোয়া বিপদসীমার ১০৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দিনাজপুরে করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে দেড় হাজার ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং ৫০ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া বাঁধ ভাঙার শঙ্কায় রয়েছে নওগাঁর কয়েক হাজার অসহায় মানুষ। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক এবং প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
গাইবান্ধা : ২০ বছর পর গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার এক মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর অতি বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৩ ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রাম। করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত আছে। করতোয়ার পানি অব্যাহত বৃদ্ধি পাওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর ভায়া ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় পানি উঠায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এ ছাড়া সাপমারা ইউনিয়নের চকরহিমাপুর নামক স্থানে করতোয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে করে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া পলাশবাড়ী
উপজেলায় করতোয়া নদীর পাানি বৃদ্ধির ফলে কিশোরগাড়ী ও হোসেনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। অপরদিকে ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা, রসুলপুর, কামারপাড়া এবং সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।
দিনাজপুর : করতোয়া নদীভাঙনে হারিয়ে যেতে বসেছে নবাবগঞ্জের ফসলি জমি। প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার হুমকির মুখে। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, করতোয়া নদীর প্রবাহ ছিল তাদের গ্রামের প্রায় ১ কিলোমিটার পূর্ব দিক দিয়ে। সেই প্রবাহ ভাঙতে ভাঙতে এখন কয়েক বছরে গ্রাম পর্যন্ত ভাঙা শুরু হয়েছে। এতে করে অনেকের বাড়িঘরসহ জায়গা জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে। আবার নদীভাঙনে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে হয়েছে প্রায় ৫০টি পরিবারকে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হুমকির মুখে রয়েছে গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। এ ছাড়াও ভাঙনের কবলে কৃষিজমি, ঘরবাড়ি, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ অনেক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে।
নওগাঁ : উজানের ঢলে বন্যার কারণে নিম্নাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে হাবুডুবু খাচ্ছে গরু-ছাগল। সেখানে বাঁধ ভাঙার শঙ্কায় গ্রামের শত শত মানুষের নির্ঘুম রাত কাটছে খোলা আকাশের নিচে। আবহাওয়ার এমন বেখেয়ালি আচরণে টানা বৃষ্টিতে উজানের ঢলে বন্যা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ। সম্প্রতি উজানের ঢলে আত্রাই নদীর পানি উপজেলার শিমুলতলী পয়েন্টে বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ৮ নম্বর খেলনা ইউনিয়ন ও রসপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের (রসলপুর-সরাইল গুচ্ছগ্রামসহ) ভগবানপুর, উদয়শ্রীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এক কোমর থেকে কোথাও কোথাও বাড়ি ঘরের দেওয়ালের মাঝ পর্যন্ত বন্যার পানিতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাবুডুবু খাচ্ছে গৃহপালিত পশু গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি। ঘরের ভেতরে কোমর ভর্তি পানি থাকায় রান্না করতে না পারায় ছোট শিশুদের নিয়ে পরিবারের লোকজন পড়েছেন বেকায়দায়। বন্যা দুর্গত গুচ্ছগ্রামের মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে গরু-ছাগল ও শিশুদের নিয়ে বাঁধের ওপর খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। অন্যদিকে ঘরের ভেতরে থাকা চাল-ডাল তরিতরকারি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় না খেয়ে থাকার অভিযোগও রয়েছে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]