ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০ ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০

নীরবেই কেটে গেল ঔপন্যাসিক আকবর হোসেনের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০, ৯:৩৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 208

গতকাল ছিল জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক আকবর হোসেনের ১০৩তম  জন্মবার্ষিকী। কিন্তু এই লেখকের জন্মবার্ষিকী কেটে গেল নীরবেই। রাষ্ট্রীয় বা স্থানীয় কোনওভাবেই স্মরণ করা হয়নি এই লেখককে।

ঔপন্যাসিক আকবর হোসেন ১ অক্টোবর ১৯১৭ সালে কুষ্টিয়া জেলার  কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৮১ সালের ২ জুন তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর বাবা হাজী আব্দুল বিশ্বাস ও মাতা ময়জান নেছা।

ঊনিশ ও বিশশতকে বাংলা সাহিত্যে অল্প কয়েকজন মুসলমান লেখকের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থানের সৌভাগ্য হয়েছিল ঔপন্যাসিক আকবর হোসেনের।

আকবর হোসেনের বাড়ি ছিল গড়াই তীরবর্তী কয়া গ্রামের কয়ার ঘাটের কাছাকাছি। নদীর সৌন্দর্য, খোলামেলা প্রাকৃতিক পরিবেশ, গ্রামীণ জীবনযাপন তার বালক-মনে দারুণভাবে প্রভাব ফেলেছিল, যা তাঁর লেখক সত্তার উন্মেষে সাহায্য করে।

তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ধরা হয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ। বলা হয়ে থাকে, কবিগুরুর সাক্ষাৎ-স্মৃতি তার লেখক সত্তাকে পরিপক্ব করে তুলতে সাহায্য করেছিল। বাংলা কথাসাহিত্যের অনেক আলোচক-সমালোচকের মতেই ‘বিষাদ সিন্ধু’ রচয়িতা-খ্যাত মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) এবং ‘আনোয়ারা’ উপন্যাস-খ্যাত নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন (১৮৬০-১৯২৩)-এর পরেই পূর্ব বাংলায় আকবর হোসেন ছিলেন অন্যতম জনপ্রিয় কথাশিল্পী। তাঁর পিতা হাজী আব্দুল আলী বিশ্বাস।

গ্রামের স্কুল থেকে প্রাথমিক বৃত্তিলাভ করে কুষ্টিয়া হাই স্কুলে ভর্তি হন। পরবর্তী কালে কলকাতা রিপন কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি নিয়ে চাকরি জীবনের সূচনা করেন। দীর্ঘদিন তিনি সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় তাঁর সাহিত্য প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।

আকবর হোসেন ছাত্র জীবন থেকে সন্ধানী, শিখা, দৈনিক আজাদ, নবযুগ প্রভৃতি পত্র-পত্রিকায় লিখতেন। আকবর হোসেনের প্রথম উপন্যাস ‘অবাঞ্ছিত’ প্রকাশিত হয় ১৯৪১ সালে কলকাতায় যা এক সময়ে প্রায় ঘরে ঘরে পঠিত হতো।

১৯৬৯ সালে জুপিটার ফিল্মস্ কামাল আহমেদের পরিচালনায় এটিকে চলচ্চিত্রে রূপ দেয়, যা সারাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তাঁর উপন্যাসের পাঠক বরাবরই দুই বাংলায় একটা সন্তোষজনক অবস্থানে ছিল।

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে যখন ভারতীয় লেখক ছাড়া আর কারো বই বাজারে বিক্রি হত না, সে সময় আকবর হোসেনই একমাত্র লেখক; যাঁর বই ওপার বাংলার বইয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজার দখল করতে পেরেছিল।

মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশুনাকালীন থেকেই সাহিত্য চর্চা করতেন আকবর হোসেন। শিক্ষা জীবনের অবসান ঘটিয়ে পুরোদমে সাহিত্য চর্চা শুরু করেন তিনি। সন্ধানী, শিক্ষা, দৈনিক আজাদ ও নবযুগ ইত্যাদি পত্র-পত্রিকায় লেখা প্রকাশের ভেতর দিয়ে তাঁর সাহিত্য প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।

তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘অবাঞ্ছিত’ বিপুল পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে। তাঁর লেখায় সমাজ ও সংসার জীবন, পারিপার্শ্বিকতা আর তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধরা দিয়েছে সাবলীলভাবে। গ্রামীণ সমাজ সংস্কার, সাধারণ মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা, নাগরিক জীবনের দুঃখ-বেদনা, সমসাময়িক জীবনচিত্র, সমকালীন চিন্তা-চেতনা, চারপাশের চেনাজগত, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আমাদের অহংকার ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রেম ও রোমান্টিকতা প্রভৃতি দারুণ মুন্সিয়ানার সাথে উপস্থাপিত হয়েছে আকবর হোসেনের উপন্যাস ও লেখনিতে।

আকবর হোসেন-এর প্রথম উপন্যাস অবাঞ্চিত বিপুল পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে। তাঁর বহুল জনপ্রিয় আরও কয়েকটি গ্রন্থ হলো : অবাঞ্ছিত (১৯৫০), কী পাইনি (১৯৫২), মোহমুক্তি (১৯৫৩), ঢেউ জাগে (১৯৬১), আলোছায়া (১৯৬৪), দু’দিনের খেলাঘরে (১৯৬৫), মেঘ বিজলী বাদল (১৯৬৮), নতুন পৃথিবী (১৯৭৪), দুষ্টক্ষত এবং আভা ও তার প্রথম পুরুষ।

তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘অবাঞ্ছিত’ এক সময়ে প্রায় ঘরে ঘরে পঠিত হতো। ১৯৬৯ সালে জুপিটার ফিল্মস কামাল আহমেদের পরিচালনায় এটিকে চলচ্চিত্রে রূপ দেয়, যা সারাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]