ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৫ অক্টোবর ২০২০ ৯ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ২৫ অক্টোবর ২০২০

কাচের ঘরে হাত-পা নাড়াচ্ছে নবজাতকটি ঘটনাটি মিরাকল : পরিচালক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৩৯ পিএম আপডেট: ১৮.১০.২০২০ ১২:১৩ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 39

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাপসাতালের চিকিৎসক যে নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেছিলেন, সে এখন হাপসাতালের এনআইসিইউয়ের ‘কাচের ঘরে’ হাত-পা নাড়ছে। বর্তমানে ওই নবজাতকটি ঢামেক হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের নবজাতক নিবিড় যত্ন ইউনিটের (এনআইসিইউ) কাচের ঘরে রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি দুঃখজনক উল্লেখ করে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, এ ঘটনাটি ‘মিরাকল’ (অলৌকিক)। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শনিবার দুপুরের দিকে ঢামেক হাসপাতালের নিজ কক্ষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
নবজাতক ওয়ার্ড থেকে নবজাতকটির বাবা ইয়াসিন মোল্লা জানান, সকালে (গতকাল) চিকিৎসকরা শিশুটিকে দেখেছেন। ওনারা আমাদের বলেছেন, সে এখনও ভালো আছে। চিকিৎসা চলছে কোনো ভয় নেই। পাশাপাশি আমার স্ত্রীর শারীরিক খোঁজখবরও নিয়েছেন তারা। ইয়াসিন মোল্লা আরও জানান, আমার বাবু এখন কাচের ঘরে আছে। মুখে অক্সিজেন লাগানো। ওই কাচের ঘরে শুয়েই হাত-পা মোড়ামুড়ি করছে।
এদিকে এ ঘটনা তদন্তে শুক্রবার রাতেই চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক। কমিটিতে নবজাতক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মনীষা ব্যানার্জিকে প্রধান করা হয়েছে। বাকি সদস্যরা হলেনÑ গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শিখা গাঙ্গুলি, এনেসথেসিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুব্রত কুমার মণ্ডল ও হাসপাতালের সহকারী (প্রশাসন)। পরিচালক জানান, শুক্রবার থেকেই তারা তদন্ত শুরু করেছেন। তিনদিনের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দেবেন। এরপরই এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নবজাতকটি এখন এনআইসিইউতে ভর্তি রয়েছে।
অন্যদিকে শনিবার হাসপাতালের পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় আমি সকালে চার সদস্যের তদন্ত কমিটির সঙ্গে বসেছিলাম। তাদের কাছেও এ বিষয়ে জানার চেষ্টা করেছি, কী কারণে এমনটি হয়েছে। তারা বলেছেন, নবজাতকের জন্মের পর সে কোনো কান্নাকাটি ও নড়াচড়া করছিল না। চিকিৎসকরা তার হার্টবিটও পাচ্ছিলেন না। আমাদের চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার কোনো রেসপন্স পাচ্ছিলেন না। তারপরও চিকিৎসকরা অক্সিজেন দিয়ে নবজাতককে রেখে দেন। পরে নবজাতককে মৃত ঘোষণা করে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। এরপরই নবজাতকের বাবা তাকে দাফনের জন্য কবরস্থানে নিয়ে যান। তিনি বলেন, নবজাতকটি এখনও নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) ভর্তি রয়েছে। আগের চেয়ে সে কিছুটা ইম্প্রুভ হয়েছে। ১ কেজি ওজনের চেয়েও কমে নবজাতকটির জন্ম হয়েছে। এজন্য তার অনেক কিছুই ডেভেলপমেন্ট হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। সমস্যাটা কোথায় ছিল সেটি বের করার জন্যই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটি আজকেও আমার সঙ্গে বসেছে। কেন এমন ঘটনা হলো তা বের করা হবে। আর এ ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]