ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৫ অক্টোবর ২০২০ ৯ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ২৫ অক্টোবর ২০২০

শেবাচিমের মেডিসিন ইউনিটে জিম্মি রোগীরা
পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হয় নির্ধারিত ডায়াগনোস্টিকে
বরিশাল সংবাদদাতা
প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৩৯ পিএম আপডেট: ১৮.১০.২০২০ ১২:০৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 84

শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন নষ্ট হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লুটছে মেডিসিন ওয়ার্ডের কিছু চিকিৎসক। হাসপাতালের ইনডোরের সিও রেজিস্ট্রার পদবির চিকিৎসকরা ইন্টার্ন ডাক্তার দিয়ে সিটি স্ক্যান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা লেখিয়ে পছন্দের ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ কমিশন বাণিজ্য  করার অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওইসব ওয়ার্ডের আয়া-বুয়ারাও মোটা অঙ্কের কমিশন নিচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।
রোগীর স্বজনদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দালাল আটক অভিযানের পূর্বে ওইসব চিকিৎসক, আয়া ও বুয়াদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো উচিত। তারা জানান, চিকিৎসাপত্রের সঙ্গে পৃথক টোকেনে নাম লিখে দেওয়ার কারণে তারা তাদের পছন্দসই ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষা করাতে পারছেন না। এমনকি অন্যত্র সিটি স্ক্যান বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে তাদের পরীক্ষার রিপোর্ট ছুড়ে ফেলে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।
শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইনডোরে চিকিৎসা দেওয়া ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৯টি। এর মধ্যে মেডিসিন-১, মেডিসিন-৩ ও মেডিসিন-৪ নাম্বার ওয়ার্ডের সিও রেজিস্ট্রার ডা. মাসুদ খান, ডা. মাহফুজ খান ও ডা. মনিরুজ্জামান। তারা সপ্তাহের শনি, সোম ও মঙ্গলবার এই তিন ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফিমেল মেডিসিন ইউনিটের ৪ নাম্বার ওয়ার্ডে সুমাইয়া নামের ১৫ বছরের এক রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে লাইফ সিটি স্ক্যান সেন্টার নামক একটি ডায়াগনোস্টিকের নাম লিখে দিয়েছে ডাক্তার। একই চিত্র দেখা গেছে আরও কয়েকটি স্লিপে।
ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের নাম লিখে দেওয়ার ব্যাপারে রোগী সুমাইয়ার স্বজনরা জানান, স্লিপে টেস্টের নাম লিখে দেয় জানতাম; কিন্তু ল্যাবের নাম লিখে দেওয়া হয় তা দেখলাম এই প্রথম।
মেডিসিন-৩ ও ৪-এর আরও কয়েকটি স্লিপে বরিশাল সিটি স্ক্যান সেন্টার ও লাইফ সিটির নাম দেখা গেছে।
হাসপাতালের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, শেবাচিম হাসপাতালের সামনে এই দুটি সিটি স্ক্যান সেন্টারের মেশিনই সবচেয়ে পুরনো এবং অল্প ক্ষমতাসম্পন্ন মাল্টি স্লাইজের। মাল্টি স্লাইজের মেশিন হওয়ায় ফিল্ম চারভাগে ভাগ করে রিপোর্ট করায় অনেক সমস্যা ধরাও পড়ে না। এর থেকে আধুনিক মেশিন থাকা সত্ত্বেও সেখানে না পাঠিয়ে বেশি কমিশনের আশায় ওইসব ল্যাবে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে মেডিসিন-১, ৩ ও ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে লাইফ ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের এক কর্মচারী জানান, এই দুটি প্রতিষ্ঠান প্রতিটি সিটি স্ক্যান বাবদ ছয় থেকে আটশ’ টাকা মেডিসিন ওয়ার্ডের ডাক্তারদের কমিশন দিয়ে থাকে। যে কারণে মেডিসিন-১, ৩ ও ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা সরাসরি লাইফ এইড এবং বরিশাল সিটি সেন্টারের নাম লিখে দেন।
অপর একটি সূত্র জানায়, সিটি স্ক্যান ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে ওই তিন ওয়ার্ডের সিও, রেজিস্ট্রার ও চিকিৎসকরা মাসে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা কমিশন পেয়ে থাকেন।
লাইফ সিটি স্ক্যানের এক কর্মকর্তা জানান, শেবাচিম হাসপাতালের সিও রেজিস্ট্রার ডা. মাসুদ এবং লাইফ সিটির মালিক মাহবুবের মধ্যে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে বেশি কমিশনের চুক্তিতে তার কাছে আসা অধিকাংশ রোগী সেখানে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, মেডিসিন-৪-এর চিকিৎসক ডা. মাসুদ ও মেডিসিন-৩-এর চিকিৎসক ডা. মাহফুজ নগরীর চাঁদমারি রোডের মাদ্রাসা গলির একই ভবনে থাকার সুবাদে দুজন মিলে মেডিসিন ইউনিটগুলোকে কমিশন বাণিজ্যে রূপ দিয়েছে।
এ বিষয়ে শেবাচিমের মেডিসিন-৪-এর সিও রেজিস্ট্রার ডা. মাসুদ খান জানান, তার স্বাক্ষরিত কোনো স্লিপে ল্যাবের নাম নেই। রোগী জানতে চাইলে মাঝেমধ্যে ওই ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের নাম বলে দেন। রোগীপ্রতি কমিশন বাণিজ্যের কথা জানতে চাইলে তিনি কোনো ধরনের মন্তব্য না করে ফোনের লাইন কেটে দেন।
শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। যেহেতু হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন নষ্ট তাই রোগী যেখানে খুশি সেখানে যাবেন। নাম লিখে দেবেন কেন?
তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইনডোর ও আউটডোরের আয়া-বুয়াদের বিষয়েও ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন তিনি।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]