ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০ ১২ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০

অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রলীগের
ধর্ষণবিরোধী লংমার্চে হামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক নোয়াখালী ও ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৩৯ পিএম আপডেট: ১৮.১০.২০২০ ১২:৩১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 76

‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ শীর্ষক লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা ঢাকা থেকে ফেনীতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। এতে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে ফেনী শহরের জজকোর্ট ও শহীদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে লংমার্চ সমর্থকরা অভিযোগ করেছেন। হামলার পর পুলিশকে লাঠিচার্জ করতেও দেখা গেছে। গুরুতর আহতদের ফেনী ও নোয়াখালীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে সংবাদ সম্মেলন করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার ফেনী শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ধর্ষণবিরোধী সমাবেশ চলছিল। পাশে দোয়েল চত্বরে ফেনী-২ আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর ছবিসম্বলিত বড় বাঁধানো ফেস্টুনের ওপর কে বা কারা লাল রঙ দিয়ে ‘ধর্ষকদের পাহারাদার’ কথাটি লিখে দেয়। এরপর দায়িত্বরত পুলিশ উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয় এবং তিনজনকে মারধর করে। এ সময় উত্তেজনা দেখা দিলে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শতাধিক কর্মী রাস্তায় এসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। পরে প্রতিবাদের মুখে পুলিশ সরে যায়। খবর পেয়ে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আতোয়ার রহমান ও মডেল থানার ওসি আলমগীর হোসেন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শেষে নেতারা এসে কর্মীদের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ফের নিয়ে যান। ওই সময় পুলিশের হামলার শিকার কর্মীদের নাম জানা যায়নি।
লংমার্চকর্মীরা জানান, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তারা শহীদ মিনারের সামনে সমাবেশ করে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়ক দিয়ে পাগলা মিয়া সড়কে অপেক্ষমাণ তাদের বাসের দিকে যাচ্ছিলেন। এরপর জজকোর্ট এলাকায়ও তারা সমাবেশ করেন। 
এ সময় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং মারধর শুরু করে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে উদীচী, যুব ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্টের কর্মীরাও রয়েছেন। ওই সময় লংমার্চের বহরে থাকে তিনটি গাড়িও ভাঙচুর করে সরকারদলীয়রা।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেনÑ জাওয়াদুল ইসলাম, আসমা, ইমা, রাফিন, মাহমুদা দীপা, স্বর্ণা, তাহমিদা, মাহির শাহরিয়ার রেজা, জহর লাল রায় প্রমুখ।
ছাত্র ফেডারেশন ফেনী শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ফেনীতে সমাবেশের পরিচালক পঙ্কজ দেবনাথ সূর্য জানান, সমাবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে বহিরাগত কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছে।
এদিকে ফেনী জেলা ছাত্রলীগ তাৎক্ষণিক শহরে প্রতিবাদ মিছিল করেছে। বিকাল ৩টার দিকে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে লংমার্চে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ। সংবাদ সম্মেলনে নিজাম হাজারী এমপির ফেস্টুনে লংমার্চকারীদের আঁকা ‘ধর্ষকদের পাহারাদার’-এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন সংগঠনটি। এ সময় লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন ফিরোজ। ওই সময় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হায়দার, সিনিয়র সহসভাপতি জিয়াউদ্দিন বাবলুসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফেনী মডেল থানার ওসি আলমগীর হোসেন লংমার্চে অংশগ্রহকারীদের ওপর হামলার কথা স্বীকার করলেও ওই ঘটনায় সর্বোচ্চ ‘চার-পাঁচজন’ আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
নোয়াখালীর নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ফেনীতে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহতরা নোয়াখালীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতরা ঢাকা থেকে আসার পথে ফেনীর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, ফেনীর কোম্পানির মোড় ও দাগনভূঞা উপজেলায় তারা দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়।
শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে লংমার্চে আহত ১৩ জন আন্দোলনকারী নোয়াখালীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন। বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান শেখ, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]