ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০ ১৫ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০

‘ক্ষমা’ করার অভ্যাস গড়া
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৫৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 42

জীবনে চলার পথে অনেক ধরনের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতে হয়। মানসিক অবস্থার রকমফেরে মানুষের রূঢ় আচরণ ও কথায় কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় অনেক সময়। এমন কষ্টের মুহূর্ত আসলে যার থেকে রূঢ় আচরণ প্রকাশ পেয়েছে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া একটি মহৎ গুণ। এতে কল্যাণ ও মঙ্গল রয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেনÑ ‘যদি তোমরা ভালো কিছু প্রকাশ কর কিংবা গোপন কর অথবা মন্দÑ তবে ক্ষমা করে দাও; নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী এবং ক্ষমতাশীল।’ (সুরা নিসা : ১৪৯)
যে ব্যক্তি অন্যকে ক্ষমা করে আল্লাহ তাকে পছন্দ করেন। হাশরের ময়দানে সে আল্লাহ কাছ থেকে বিশেষ পুরস্কার লাভ করবে। কোরআনে এরশাদ হয়েছেÑ ‘মন্দের প্রতিফল মন্দ। অতঃপর যে ক্ষমা করে এবং পরস্পরে সমস্যা নিরসন করে নেয়, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা শুরা: ৪০)। তাই সংসার বা সমাজে কারও সঙ্গে কখনও মন খারাপের ঘটনা ঘটলে তার রেশ অন্তরে জমিয়ে না রেখে নিরসন করে ফেলা এবং ক্ষমা করে দেওয়া চাই। অন্যকে ক্ষমা করলে বা উদারতা প্রদর্শন করলে ক্ষমাকারী ব্যক্তির মর্যাদা কমে না। বরং এতে ব্যক্তির মর্যাদা আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। হাদিসে এসেছেÑ হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিতÑ রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ক্ষমা করে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনীত হলে তিনি তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।’ (মুসলিম : ২৫৮৮)
ক্ষমা করা সরাসরি আল্লাহ তায়ালার গুণ। তাই ক্ষমাকারীকে আল্লাহ এত ভালোবাসেন। আল্লাহ তায়ালার এ রকম কিছু গুণবাচক নাম পবিত্র কোরআনেও বর্ণিত হয়েছে। কোরআনের ভাষায় যাকে বলে ‘আসমাউল হুসনা’ অর্থাৎ সবচেয়ে সুন্দর নাম। সেগুলো ভেতর করুণা ও ক্ষমা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি নাম হচ্ছেÑ ১. ‘আল-গাফুর’। অর্থাৎ সর্বাধিক ক্ষমাশীল। ২. ‘আল-আফুউ-উ’। অর্থ মার্জনাকারী, অব্যাহতি দানকারী। ৩. ‘আত-তাওয়াব’। তওবা বা অনুশোচনা গ্রহণকারী। ৪. ‘আর-রাহমান’ ও ‘আর-রাহিম’। অর্থ অতিদয়ালু ও চিরদয়াময়।
আমাদের নিজেদের পাপ ও ভুলত্রুটি ক্ষমার জন্য আমরা যেমন আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা প্রত্যাশা করি, তেমনি যারা আমাদের প্রতি অন্যায় করে থাকে, তাদের ক্ষমা করার অভ্যাস নিজেদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে। রাসুল (সা.) সারা জীবনের দুশমনকেও ক্ষমা করে দিতেন মুহূর্তের ভেতর। তায়েফের ঘটনা সবারই জানা। রাসুলকে (সা.) অন্যায়ভাবে রক্তাক্ত করে ফেললেও তিনি তাদেরকে অভিশাপ পর্যন্ত দেননি। শাস্তির ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়ে পুরো জনপদ ধ্বংস করে দিতে চাইলেও তিনি এ সুযোগ গ্রহণ করেননি। বরং পুরো কওমকে রাসুল (সা.) ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তাদের জন্য সুন্দর দোয়া করেছেন। মক্কা বিজয়ের সময়েও রাসুল (সা.) ক্ষমার অনন্যা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন
পৃথিবীবাসীর জন্য। রাসুলের ক্ষমাগুণে হাজারো পাষাণ-হৃদয় অবিশ^াসী ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছে।
নবীজির উম্মত হিসেবে আমাদের কর্তব্য হচ্ছে ক্ষমার মহৎ গুণ নিজেদের ভেতর ধারণ করা। এতে আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা লাভ হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা নিজেদের ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষের অপরাধ ক্ষমা করে দেয় তারা সৎ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। আর সৎ মানুষকে আল্লাহ ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৩৪)।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]