ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০ ১৫ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০

স্পিনের স্বর্গরাজ্যে পেসারদের রাজত্ব
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ১১:০১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 12

ষ রাজু আহাম্মেদ
‘স্পিনের স্বর্গরাজ্য’Ñ ক্রিকেটের আয়নায় ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতিবিম্ব। এই অঞ্চলে যেসব মাঠে ক্রিকেট খেলা হয়, সেগুলোর সবই প্রায় ঐতিহ্যগতভাবে কিছুটা মন্থর এবং টার্নিংÑ যেটা স্পিনারদের জন্য আদর্শ। পাকিস্তান, ভারত আর শ্রীলঙ্কায় কোনো কোনো ভেন্যুতে কিছুটা পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগলেও বাংলাদেশের ভেন্যুগুলো এখনও ঐতিহ্যের বাহক হয়েই আছে! বরাবরই এই ব-দ্বীপে স্পিনারদের রাজত্ব করতে দেখা যায়, পেসাররা থাকেন সহায়কের ভূমিকায়।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে দুজনের বেশি পেসার নিয়ে মাঠে নেমেছে কোনো দল, এমনটা খুব কমই দেখা যায়। যেসব পেসার মাঠে নামেন, তাদের দিয়ে অনেক বেশি বোলিং করাতেও দেখা যায় না। স্পেশালিস্ট স্পিনাররা তো বটেই, অনেক ক্ষেত্রে পার্টটাইম স্পিনাররাও টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে পেসারদের থেকে বেশি গুরুত্ব পান! বাংলাদেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চিত্রও কিন্তু প্রায় একইরকম। সীমিত ওভারের ম্যাচ কিংবা টেস্টÑ অনেক ম্যাচে টিম বাংলাদেশকে একজন পেসার নিয়ে মাঠে নামতে দেখা গেছে। পেসার ছাড়া একাদশ সাজানোর নজিরও নেহায়েত কম নেই! কারণটা পরিষ্কার, এখানকার পিচে পেসারদের তুলনায় স্পিনাররা অনেক বেশি কার্যকর।
সে কারণেই এখানকার পিচগুলো স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য, এ দেশ স্পিনারদের চারণভূমি। কিন্তু যে প্রেসিডেন্টস কাপ দিয়ে করোনা বিরতির পর ক্রিকেট ফিরেছে বাংলাদেশে, চলমান সেই টুর্নামেন্টের দিকে দৃষ্টি রাখলে আগের লাইনটাকে ‘বড্ড ফিকে’ মনে হবে! বিষয়টা এমন নয়Ñ স্পিনাররা খুব খারাপ করছেন। সুযোগ পেলেই নিজেদের সামর্থ্য আর সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছেন তারা। আসরের সবশেষ ম্যাচটিতেই (মাহমুদউল্লাহ একাদশ বনাম শান্ত একাদশ) যেমন খেলার গতিপথ বদলে দেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। রিশাদ হোসেন, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজরাও দলের সাফল্যে অবদান রাখছেন, তবে বোলিং আক্রমণে মূল কাজটা করছেন পেসাররাই।
প্রেসিডেন্টস কাপ সাক্ষীÑ স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য এখন পেসারদের দখলে, গতির ঝড় তুলে তারাই রাজত্ব করছেন। তিন দলের টুর্নামেন্টটিতে এ পর্যন্ত চারটি ম্যাচ মাঠে গড়িয়েছে, প্রতিটি ম্যাচের ভাগ্য লিখেছেন পেসাররা। সব মিলে ৬৮ উইকেটের পতন দেখা গেছে, এর মধ্যে আটটি রানআউট। বোলারদের ঝুলিতে যাওয়া ৬০ উইকেটে পেসাররা এগিয়ে ৪৩-১৭ ব্যবধানে। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে পেসারদের আধিপত্যের কথা। আধিপত্য আছে ব্যক্তি সাফল্যের সারণিতেও। উইকেট শিকারের সংখ্যায় আজকের ম্যাচটির আগপর্যন্ত শীর্ষ দশে যারা অবস্থান করছেন, এদের মধ্যে স্পিনার কেবল দুজন, আটজনই পেসার! স্পিনের স্বর্গরাজ্যে পেসারদের রাজত্বটা কোন পর্যায়ে ঠেকেছে, বুঝতেই পারছেন।
সমালোচকরা চাইলে এ ক্ষেত্রে বিরূপ প্রকৃতিকে সামনে টানতে পারেন। এবারের অক্টোবরটা তুলনামূলক একটু বেশিই বৃষ্টিপ্রবণ। প্রেসিডেন্টস কাপের প্রথম তিনটি ম্যাচেই বৃষ্টি হানা দিয়েছে। কন্ডিশন ছিল কিছুটা স্যাতস্যাতে। এমন কন্ডিশন পেসারদের বাড়তি সুবিধা দিয়েছে, সেটা অস্বীকার করার উপায় হয়তো নেই। তবে বল হাতে যেভাবে আগুন ঝরিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আল আমিন হোসেন, সুমন খান, শরিফুল ইসলামরাÑ তাদের কৃতিত্বকেও বিন্দুমাত্র খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। পেসারদের পারফরম্যান্স আলাদা করেই নজর কেড়েছে সবার, নজর কেড়েছে জাতীয় দলের নির্বাচকদেরও।
প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু যেমন বলেছেন, ‘এই কয়েকদিন যেটা দেখেছিÑ আমাদের পেসাররা বেশ ভালো ফিটনেসের ছাপ রেখেছে। তাদের যে স্কিলেও উন্নতি হয়েছে, সেটাও বোঝা যাচ্ছে। তারা ধারাবাহিকভাবে যথেষ্ট ভালো লাইনে বল করছে। এটা হলো সব থেকে বড় পাওয়া। এই উন্নতিটা যদি তারা ধারাবাহিকভাবে ধরে রাখে, ভবিষ্যতে সেটা আমাদের দারুণ কাজে দেবে।’ পেসাররা যেভাবে একযুগে ভালো করছেন, প্রধান নির্বাচক তাই নির্দিষ্ট করে কারও নাম বলতে চাইলেন না, ‘নির্দিষ্ট করে তো কারও নাম বলা যাবে না, কারণ সবাই ভালো করছে। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক।’
বিষয়টা জাতীয় দলের জন্য ইতিবাচকই বটে। উপমহাদেশের বাইরে তো আর স্পিনারদের রাজত্ব চলে না। সেখানে বরাবরই পেসারদের রাজত্ব থাকে। তাই পেসাররা যত ভালো করবেন, ভীনদেশে বাংলাদেশের সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]