ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০ ৭ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০

রাতে ওরা বেপরোয়া!
আলমগীর হোসেন
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৪৯ পিএম আপডেট: ১৯.১০.২০২০ ১২:০৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 210

প্রতিনিয়ত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে রাতের ঢাকা। চলাচলে অনিরাপদ হয়ে উঠেছে রাত্রিকালীন সড়ক-ফুটপাথ। ভাসমান যৌনকর্মী ও পেশাদার ছিনতাইকারীরা মিলেমিশে সংঘবদ্ধভাবে চালাচ্ছে ভয়ানক সব অপকর্ম। অন্ধকারাচ্ছান্ন এলাকা পেলেই ফুটপাথের আশপাশেই রাত্রিকালীন আস্তানা গাড়ছে তারা। কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে গড়ে তোলা এসব খুপরি ঘরে কৌশলে টার্গেটকৃত পথচারীকে নিয়ে জিম্মি করে কেড়ে নিচ্ছে কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন। গত কয়েক রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনই অবস্থা দেখা গেছে।
অন্যদিকে ফুটপাথে রাতের এমন চিত্রের বাইরেও ভিন্ন কায়দায় রাজধানীর অভিজাত এলাকাতেও ‘আধুনিক’ দেহব্যবসা চলছে বলেও জানা যায়। বডি ম্যাসাজ সেন্টার, স্পা কিংবা বিউটি পারলারের আড়ালে মিনি পতিতালয় বানানো হয়েছে অনেক বাসা-বাড়িকে। গত সপ্তাহেও রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থেকে এমন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ৩৮ জন নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। ফুটপাথ থেকে অভিজাত এলাকা, সবখানেই চলছে এসব অপকর্ম। যেখান থেকে ঘটছে অনেক ভয়ঙ্কর ঘটনাও।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া শাখার উপকমিশনার মো. ওয়ালিদ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, বেআইনি বা অপরাধমূলক কোনো কর্মকাণ্ডই চলতে দেওয়া হবে না। এসব অপরাধ বা অপকর্মের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু হয়েছে। নিয়মিতভাবেই এ অভিযান চলবে। সরেজমিনে বৃহস্পতিবার বাংলামোটর থেকে কারওয়ানবাজার সার্কফোয়ারা মোড় পর্যন্ত সড়কবাতি বন্ধ থাকায় অনেকটায় অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থা দেখা যায়। রাত তখন ১০টা ৪০ মিনিট। সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও খুব কম। বাংলামোটর থেকে কারওয়ান বাজারের মাঝামাঝি স্থানে ফুটপাথে অতিরিক্ত সাজগোজ করা দুই তরুণী (ভাসমান যৌনকর্মী) এক পথচারীকে ধরে টানাহেঁচড়া করছিল। একপর্যায়ে পথচারী তাদের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে দৌড় দেন কারওয়ান বাজারের সার্কফোয়ারার দিকে। এ প্রতিবেদকসহ একাধিক লোক ঘটনাস্থলে এগিয়ে গেলে ওই  দুই নারী বাংলামোটর-কারওয়ানবাজারে মাঝামাঝিতে ‘পান্থকুঞ্জ’ নামে অব্যবহৃত পার্কের ভেতরে চলে যায়।
অদ্ভুত বিষয় হলো পান্থকুঞ্জের ফুটপাথের পাশ দিয়ে পুরো অংশে শক্ত টিনশেডের বেড়া দেওয়া থাকলেও বেশ কয়েকটি জায়গায় ছোট ছোট দরজা করা হয়েছে। আরও কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, প্রতিটি দরজার মুখেই বিশেষ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বা বসেছিল অতিরিক্ত সাজগোজ করা বেশকিছু নারী ও হিজড়া। এরই মধ্যে কয়েকজন যুবক ও একাধিক নারীকে ভেতর-বাইরে যাতায়াত করতে দেখা যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবে কারোই বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়, ভেতরে কী হচ্ছে।
এ সময় ওই ফুটপাথের দুটি পাশাপাশি বৈদ্যুতিক খাম্বার (ট্রান্সমিটার লাগানো) নিচে অধিক সাজগোজ করা দুই নারীর কাছে দাঁড়াতেই তারা মোটরবাইকের সামনে ‘প্রেস’ স্টিকার দেখে দ্রুত চলে যেতে বলেন। তারপরও এ প্রতিবেদক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চাইলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাতের অন্ধকারাচ্ছন্ন পান্থকুঞ্জের ভেতরে মূলত তারা অস্থায়ীভাবে খুপরি ঘর বানিয়ে পতিতাবৃত্তির জায়গা করে নিয়েছে। কতজন এখানে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করছে এমন প্রশ্নে তারা বলে, ‘ভেতরে (পান্থকুঞ্জ) তো অনেক আছে। কয়জনের কথা কমু? শুধু এখানেই তো না, আমরা ফার্মগেট পর্যন্ত রাতভর যাওয়া-আসা করি। এর মধ্যে কাউরে পাইলে এখানে (পান্থকুঞ্জ) লইয়া আসি। অনেক সময় অন্য জায়গাতেও যাই। তয়, আমাগো এড়িয়া বাংলামোটর থাইক্যা ফারামগেট (ফার্মগেট)। অন্যদিকে আবার আরেক গ্রুপ কাজ করে।’
এ সময় জিম্মি করে টাকা বা ফোন কেড়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই দুই নারী বলেন, ‘এইডা আমরা করি না। আমাগো একটা নীতি আছে। তয়, অন্যরা এসব কাজ করে বলে শুনি।’
কথা শেষে কারওয়ান বাজারের দিকে এগোতে আরও কয়েক স্থানে ভাসমান যৌনকর্মী ও বখাটে চেহারার একাধিক যুবককে তাদের সঙ্গে চোখে পড়ে। এর আগে বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের আশপাশেও প্রকাশ্যেই অনেক ভাসমান যৌনকর্মীকে ঘুরে ঘুরে অনেকের সঙ্গে ফিসফিস করে কথা বলতে দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অনেক এলাকায় সড়কবাতি জ¦লছে না দীর্ঘদিন। এমনকি কারওয়ান বাজার রেলগেটের ওপরের ফ্লাইওভারেও জ¦লছে না বৈদ্যুতিক বাতি। অন্যদিকে শাহবাগ থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ শুরুর পর সড়কবাতি প্রায়ই বন্ধ থাকে। ফলে এই অন্ধকার পরিবেশের সুযোগে এসব এলাকা ভাসমান যৌনকর্মী ও ছিনতাইকারীদের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর বাইরেও রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা, গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস-টার্মিনাল এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও এ ধরনের অপকর্ম যেন প্রকাশ্য রূপ নিতে যাচ্ছে।
সোমবার রাতে গুলশানের একটি কথিত ‘স্পা’ সেন্টার ও একটি বিউটি পার্লারে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কাজে জড়িত অভিযোগে ১২ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারীকে গ্রেফতার করে গুলশান থানা পুলিশ। পরের রাতে পৃথক অভিযানে কথিত বডি ম্যাসাজ সেন্টারে অভিযান চালিয়ে একই অভিযোগে ৫ নারী ও ৫ জন পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়। গুলশানের এ ঘটনায় মানবপাচার আইনেও একাধিক মামলা হয়েছে বলে জানা যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সময়ের আলোকে বলেন, স্পা, বিউটি পার্লার বা থেরাপি সেন্টারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে গুলশানের কিছু বাসাবাড়িতে সংঘবদ্ধভাবে দেহব্যবসা পরিচালনা ও যৌন নিপীড়নমূলক কার্যক্রম চলছিল। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোম ও মঙ্গলবার পৃথক অভিযান চালিয়ে মোট ৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে উঠতি বয়সের যুবতী ও নারীদের এখানে এনে সম্মতিতে বা জোরপূর্বক এই অপকর্ম চালানো হচ্ছিল। তারা অনৈতিক উপায়ে মোটা অঙ্কের টাকা কামানোর জন্য গুলশানের মতো অভিজাত এলাকার বাসাভাড়া নিয়ে পতিতালয় পরিচালনা করে যাচ্ছিল। পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে আহ্বান করে চক্রটি যুব সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এরকম চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]