ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০ ১৫ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০

রোহিঙ্গাদের হাতে অবৈধ অস্ত্র
শেখ রাসেল টেকনাফ
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৪৯ পিএম আপডেট: ১৯.১০.২০২০ ১২:০৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 87

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় সেই শান্ত পরিবেশ এখন নেই। নিত্য মাদক, চোরাচালান, অপহরণ, হত্যা ও ধর্ষণ বেড়েই চলছে। চলছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। নেপথ্যে রয়েছে ইয়াবার ভাগ-ভাটোয়ারা ও আধিপত্য বিস্তার। এসবের সঙ্গে জড়িত সিংহভাগ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। তারা স্থানীয়দের কাছে ভাড়ায় প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়তে যায়। টাকার লোভে মানুষ হত্যা করতেও দ্বিধা করে না তারা। টাকার বিনিময়ে নিত্য মানুষ হত্যা যেন নেশা হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গাদের। তাদের দেখাদেখি স্থানীয়রাও দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
রোহিঙ্গাদের হাতে এত অস্ত্র ও ইয়াবা কীভাবে আসে সেই প্রশ্ন সচেতন মহলের। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক নাফ নদী পাড়ি দিয়ে চলে আসতে থাকে বাংলাদেশে। মানবতার খাতিরে তাদের আশ্রয় দিলেও, রোহিঙ্গারা সেই মানবতার প্রতিদানের বদলে এ দেশে নিয়মিত দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ইয়াবা, মানবপাচার ও অস্ত্রের মুখে সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে গহীন পাহাড়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করে। রেহাই পায়নি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। রোহিঙ্গাদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে অসংখ্য নিরীহ মানুষকে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে গত বছরের আগস্ট মাসে টেকনাফ হ্নীলা জাদিমুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুককে (৩০), চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল রাতে মিনাবাজার শামসু হ্যাডম্যানের  ঘোনা থেকে ৬ জন কৃষক ধানক্ষেতে কাজ করা অবস্থায় সশস্ত্র একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে ১ মে হোয়াইক্যং মিনাবাজারের মৌলভী আবুল কাছিমের ছেলে আক্তারুল্লাহ (২৪), ২৪ মে ঝিমংখালী এলাকার মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে মোহাম্মদ শাহেদ (২৫), ও এর কয়েক দিন পর কাটাখালী পূর্বপাড়ার মিয়া হোছেনের ছেলে আবদুর রশিদ ওরফে সাদেককে (২৮) অপহরণের পর গুলি করে হত্যা করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।
এ ছাড়া ২০১৬ সালের ১৩ মে ভোররাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়ার মুচনী এলাকার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এতে নিহত হন আনসার ক্যাম্পের কমান্ডার মো. আলী হোসেন। এ সময় ১১টি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৭০ রাউন্ড গুলি লুট করা হয়। এ ঘটনায় রোহিঙ্গারা জড়িত বলে মনে করে র‌্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র‌্যাব ও বিজিবির তথ্যমতে, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে। এসব ক্যাম্পসহ রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে চলতি বছরের বিগত ৯ মাসে প্রায় শতাধিক দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ২১১টি গোলাবারুদ পাওয়া গেছে। অস্ত্রের মধ্যে ছিল ৫৩টি দেশীয় বন্দুক, নাইন এমএম ২টি পিস্তল, ৬টি রিভলবার, ২টি থ্রি কোয়ার্টার গান, ৪টি এলজি, ৯টি এসবিবিএল, ১টি রাইফেল। এসব আগ্নেয়াস্ত্রসহ অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। এর আগের বছর এসব ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ১৩৮টি গোলাবারুদ উদ্ধার করেছিল র‌্যাব।
ক্যাম্পের দায়িত্বে নিয়োজিত এপিবিএন পুলিশ বলছে, উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বে নেওয়ার পর থেকে গত তিন মাসে এলজিসহ ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও শতাধিক গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। বেশিরভাগই টেকনাফের নয়াপাড়া, উনছিপ্রাং ও শালবন এবং উখিয়ার লম্বাশিয়া, কুতুপালং, জামতলী ও মধুরছড়া ক্যাম্প থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শরণার্থী ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা কক্সবাজারের ১৬ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে ক্যাম্পে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে, তা বিভিন্নভাবে শুনেছি। অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধারে আমরা কাজ করছি। পাশাপাশি অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]