ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০ ১৫ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০

চট্টগ্রাম বে-টার্মিনালের কাজ পেতে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর
জসীম চৌধুরী সবুজ চট্টগ্রাম
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৪৯ পিএম আপডেট: ১৯.১০.২০২০ ১২:০৫ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 39

চট্টগ্রাম বন্দরের মেগা প্রকল্প বে-টার্মিনাল নির্মাণের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর। প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে পোর্ট সিঙ্গাপুর অথরিটির (পিএসএ) প্রস্তাব নিয়ে এগুচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)। সে লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কনসালট্যান্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার বিশাল এই প্রকল্প পিপিপি ভিত্তিতে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে ৯টি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করে প্রকল্প প্রস্তাবনা পেশ করে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবের দুটি প্রতিষ্ঠানকে শর্ট লিস্টভুক্ত করে তাদের প্রস্তাব পর্যালোচনার নির্দেশনা দেয়। পর্যালোচনা শেষে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও প্রস্তাব অধিকতর শ্রেয় বিবেচনায় তাদের হাতে দায়িত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কনসালট্যান্ট নিয়োগের কাজ শুরু করে সিপিএ। এ বছরের মধ্যে কনসালট্যান্ট নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বন্দর সূত্র।
বে-টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে যেসব দেশ প্রস্তাব দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছেÑ সিঙ্গাপুর, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে পোর্ট সিঙ্গাপুর অথরিটি বিশে^র ১২টি দেশে বে-টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা করছে। দুবাই পোর্ট ওয়ার্ল্ড (ডিপিওয়ার্ল্ড) এবং সৌদি রাজ পরিবারের মালিকানাধীন রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল আফ্রিকাসহ কয়েকটি দেশে বন্দর টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা করেছে। চীনের সাংহাই পোর্ট পরিচালনাকারী চায়না মার্চেন্ট পোর্ট হোল্ডিং কোম্পানি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই গ্রুপও তাদের প্রস্তাব পাঠায়। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সিঙ্গাপুর ও সৌদি প্রস্তাব নিয়ে এগোনোর জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনা আসে। সে মতে কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক। বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি)  রাফিউল আলম সময়ের আলোকে জানান, বে-টার্মিনাল পিপিপি ভিত্তিতে নির্মাণ করতে সিঙ্গাপুর পোর্টের প্রস্তাবকে বিবেচনায় নিয়ে এখন আমরা এগোচ্ছি। যাকে নিয়েই আগাই না কেন এ জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে হবে। এখন তার প্রক্রিয়া চলছে। সহসা টেন্ডার আহ্বান করে এ বছরের মধ্যে কনসালট্যান্ট নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে। তারা পরবর্তী ৯-১০ মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। তিনি জানান, পিএসএ এখানে বিনিয়োগ করবে। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তারা বে-টার্মিনাল পরিচালনা করে তাদের খরচ তুলে নেবে। এরপর তা আমাদের হস্তান্তর করবে। বিওটি (বিল্ড-অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার) ভিত্তিতে এই চুক্তি হবে জিটুজি (সরকার এবং সরকারের মধ্যে)।
বে-টার্মিনাল বিশাল এক মহাপ্রকল্প। ৬৮ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি ইতোমধ্যে হুকুম দখল করে তাতে বাউন্ডারি এবং রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণকাজ চলছে। ৮০৩ একর খাসজমিও বরাদ্দ করা হয়েছে প্রকল্পের অনুকূলে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের মতো সাগর ভরাট করে উদ্ধার করা হবে আরও ১৬০০ একর ভূমি। যার ড্রেজিং কাজও শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ২৫০০ একর এলাকাজুড়ে চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল নির্মাণের তোড়জোড় শুরু হয়েছে সিইপিজেডের পেছনে হালিশহর এলাকায় বঙ্গোপসাগর তীরে। তবে পিপিপি ভিত্তিতে করার সিদ্ধান্তের পর কাজের গতি মন্থর হয়ে আসে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ইতিহাসে এটিই সর্ববৃহৎ প্রকল্প। বন্দরের এখন যে এলাকা, বে-টার্মিনাল হবে তার চেয়ে পাঁচগুণ বড়। আগামী একশ বছরের চাহিদা মাথায় রেখে হাতে নেওয়া হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানান, প্রায় সোয়া ছয় কিলোমিটার লম্বা এবং ৬শ মিটার প্রস্থের এই বে-টার্মিনালে ১২ মিটার ড্রাফটের এবং যেকোনো দৈর্ঘ্যরে পণ্যবাহী জাহাজ অনায়াসে ভিড়তে পারবে। বিদ্যমান বন্দরে ৯ মিটারের বেশি ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারে না। এখন বন্দরে একসঙ্গে ১৬টির বেশি জাহাজ বার্থিং দেওয়া যায় না। বে-টার্মিনালে একসঙ্গে ৫০টি জাহাজ বার্থিং দেওয়া যাবে। বন্দরে এখন শুধু দিনের বেলায় জোয়ারের সময় চার ঘণ্টা জাহাজ জেটিতে ভিড়তে বা বের হতে পারে। বে-টার্মিনালে রাত-দিন চব্বিশ ঘণ্টা জাহাজ বার্থিং দেওয়া যাবে। বন্দরে ৮শ টিইইউস কনটেইনারবাহী জাহাজ ভিড়তে পারে। বে-টার্মিনালে পাঁচ হাজার টিইইউস কনটেইনারবাহী জাহাজ ভিড়তে পারবে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]