ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০ ৮ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০

১০ প্রস্তাব আইএমইডির
দেরিতে কাজ শেষ করলে ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৪৯ পিএম আপডেট: ১৯.১০.২০২০ ১২:০৫ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 16

দেরিতে কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করাসহ ১০টি প্রস্তাব দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছেÑ দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বিবেচনা করা, বৃহৎ আকারের ২টি চলমান থাকা অবস্থায় সেই প্রতিষ্ঠানকে নতুন কোনো কাজ না দেওয়া, কাজ সম্পাদনে ঠিকাদারের ব্যর্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কাজ প্রদান না করা, কোনো কোনো ফার্মকে কালো তালিকাভুক্ত করা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও অগ্রগতির প্রতিবেদন দিতে গিয়ে এসব প্রস্তাবনা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে তাদের সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের জারি করা উন্নয়ন প্রকল্প পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নকারী সংস্থা প্রতিপালনে মন্থরতা দেখায়। এর পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের প্রকল্প পরিদর্শনে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকে। প্রকল্প পরিদর্শনের সময় সাইট ভিজিট বুকে লিপিবদ্ধ না করা। এ ছাড়াও এখন পর্যন্ত মনিটরিং ব্যবস্থা ডিজিটাইলাইজড করতে না পারা।
সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেই ভূমিকা পালন করতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের প্রতিটি প্রকল্প প্রতি তিন মাস অন্তর পরিদর্শনের সঙ্গে রিপোর্ট পেশ করার কথা। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের  স্থান চিহ্নিত করে তার জন্য সুপারিশ করার কথা। তবে অনেক ক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটছে।
কেন পারছে না সঠিক ভূমিকা পালন করতে? এই প্রশ্নের উত্তরে এই বিভাগের সাবেক এক সচিব জানালেন, এই বিভাগকে তেমন মূল্যায়ন করা হয় না। এই বিভাগের পোস্টিংকে ডাম্পিং মনে করা হয়। কিন্তু এই বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর কোনো বিভাগ আছে কি না সন্দেহ। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়ন মনিটর করা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসব অন্তরায় রয়েছে তা চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সেসব সুপারিশের মূল্যায়ন অনেক ক্ষেত্রে করা হয় না। তিনি আরও জানান, প্রতি অর্থবছরের এডিপি এনইসি বৈঠকে অনুমোদনের সময় এই বিভাগের পক্ষ থেকে সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন পেশ করা হয়। কিন্তু এই প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নে আলোর মুখ দেখে না। যে কারণে বছরের পর বছর একই ধরনের সুপারিশ করা হয়। প্রকল্প পরিদর্শনের পর রিপোর্ট পেশ করা এই বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু এই কাজটি অনেক সময় মূল্যায়ন করা হয় না।
জানা গেছে, গত ১৯ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানাতে গিয়ে গত ১ অক্টোবর আইএমইডি একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। যে প্রতিবেদনে আইএমইডির পক্ষ থেকে তাদের চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তাদের যেসব চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছে এর মধ্যে রয়েছেÑ পেশাদার ফার্মের মাধ্যমে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা, প্রকল্পের তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট সংস্থা কর্তৃক কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা, আর প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নকালে সেগুলো ব্যবহার করা। মধ্যমেয়াদি বাজেটের কাঠামোর আওতায় যে পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয় তার সিলিং কঠোরভাবে অনুসরণ করা। সমঝোতার মাধ্যমে যে ঋণ চুক্তি করবে তাও অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব নয় বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা থেকে শুরু করে একেবারে ক্রয় পরিকল্পনা করা তাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে আইএমইডি। এর পাশাপাশি তাদের চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছেÑ ৫০ কোটি টাকার বেশি প্রকল্পে পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন না করা।
আইএমইডি প্রতি তিন মাস অন্তর একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ছাড়াও প্রতি অর্থবছরের শুরুতে কিংবা শেষে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন মূল্যায়ন প্রতিবেদন সরকারের কাছে উপস্থাপন করে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়নের হারের একটি স্বচ্ছ চিত্র পাওয়া যায়। এমনকি কোনো কোনো প্রকল্পের দুর্দশার চিত্র ফুটে ওঠে। এরপরও এই বিভাগটি এখনও অবহেলিত বলে একাধিক সূত্র্রে জানা গেছে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]