ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০ ১৫ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০

রায়হান হত্যা মামলা : নির্যাতনে জড়িতদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৪৯ পিএম আপডেট: ১৯.১০.২০২০ ১২:০৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 24

সিলেট মহানগরের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছেন রায়হানের মা সালমা বেগম। রোববার দুপুরে নিহত রায়হানের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে এমনটা দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর এসএমপির কোতোয়ালি থানায় মামলা নেয়নি উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে রায়হানের মা বলেন, ঘটনার পরপর রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। পরে উপপুলিশ কমিশনারের নির্দেশে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়। তিনি বলেন, মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) গেলে আমরা আশাবাদী হলেও এখন মামলার ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি। তাই জড়িতদের আইনের আওতায় না আনলে কঠোর আন্দোলনে নামব আমরা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রায়হান আহমদের হত্যাকারী এসআই আকবরসহ জড়িত পুলিশ সদস্যদের গ্রেফতার করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা না হলে এলাকাবাসীর উদ্যোগে হরতাল, সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন  তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন সালমা বেগম। পাশাপাশি তিনি ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব বিষয়ের ওপর সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য আশা করেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, সম্প্রতি এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ ও রায়হান হত্যার ঘটনায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, রায়হান হত্যার পরপর সব মানুষ তার পরিবারকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। অথচ এসএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কেউ একবার তার পরিবারের খোঁজটা পর্যন্ত নিতে আসেনি। পরবর্তীতে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বরাবর যোগাযোগ করে চাপ সৃষ্টি করলে তাদের পক্ষ থেকে রায়হানের পরিবারকে দেখতে আসেন। এর আগে তারা কেউ আসেননি।
এ সময় পলাতক আকবরসহ বাকি সব অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে তাদের বক্তব্য রেকর্ড করার জন্য পিবিআই কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। এর আগে ১১ অক্টোবর ভোর রাতে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর রায়হানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর মামলাটি পুলিশ সতর দফতরের নির্দেশে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে মঙ্গলবার পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য রায়হানের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই আব্দুল বাতেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতেই রায়হান আহমদের মৃতদেহ কবর থেকে তোলার অনুমতি দেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
এরপর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে পিবিআই নগরের আখালিয়াস্থ এলাকার নবাবি মসজিদের পঞ্চায়েতের গোরস্তান থেকে রায়হানকে মৃতদেহ উত্তোলনের পর পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। পরে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিন বিকালেই ফের মৃতদেহ দাফন করা হয়।
এদিকে দ্বিতীয় ফরেনসিক রিপোর্টে সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান উদ্দিনের ১১১ আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আঘাতের ৯৭টি কালশিটে আঘাত ও ১৪টি ছিল রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম। তিনি জানান, আঘাতগুলো লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। আর অতিরিক্ত আঘাতের কারণে দেহের ভেতর রগ ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণে রায়হানের মৃত্যু হয়। আঘাতে দেহের মাংস থেঁতলে যায়। রগ ফেটে গিয়ে আন্তঃদেহে রক্তক্ষরণ (ইন্টারনাল ব্লিডিং) হয়।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]