ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০ ১৫ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০

শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকীর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী
শিশুদের উন্নত ভবিষ্যতের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৪৯ পিএম আপডেট: ১৯.১০.২০২০ ১২:০৬ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 30

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিটি শিশু যথাযথ শিক্ষার মাধ্যমে আগামী দিনে দেশের কর্ণধার হবে, তারা সুন্দর জীবন কাটাবে, আমরা এ লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। শিশুদের উন্নত ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে তারা দেশের কর্ণধার হতে পারে। রোববার প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শহীদ শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভার্চুয়ালি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা তার সর্বকনিষ্ঠ ভাই শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আজ রাসেলের জন্মদিন। ১৯৬৪ সালে রাসেলের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু তার জীবনটা শেষ হয়ে যায়, একটি ফুল কুঁড়িতেই শেষ হয়ে যায়, রাসেল আর ফুটতে পারেনি। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ঘাতকের নৃশংস বুলেটের আঘাতে তাকে নৃশংসভাবে চিরবিদায় নিতে হয়।
রাসেলের জন্মের সময়কার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাসেল যেদিন জন্ম নিয়েছে, সেদিনের কথাটা এখনও আমার মনে পড়ে। 
একটা ছোট্ট শিশু আসবে, আমাদের পরিবারে। আমি, কামাল-জামাল, রেহানাÑ আমরা সবাই খুব উৎসাহিত এবং বেশ উত্তেজিত ছিলাম, কখন সেই শিশুটির কান্না আমরা শুনব, কখন তার আওয়াজটা পাব, কখন তাকে কোলে তুলে নেব। আর সে ক্ষণটা যখন এলো, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের সময় ছিল। ছোট্ট শিশুটি আমাদের সবার চোখের মণি ছিল।
শৈশবে বাবাকে কাছে না পাওয়ায় ছোট্ট শিশু রাসেলের বেদনার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, কী দুর্ভাগ্য তার ’৬৪ সালের অক্টোবরের ১৮ তারিখ তার জন্ম। এরপর ’৬৬ সালে আবার বাবা যখন ৬ দফা দাবি দিলেনÑ তিনি খুব ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ’৬৬ সালের মে মাসে তিনি (বঙ্গবন্ধু) বন্দি হয়ে গেলেন। ছোট্ট রাসেল কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবা কারাগারে। যখন সে একটু বড় হলো, তখন কারাগার থেকে বাবাকে কীভাবে নিয়ে আসবে, সেজন্য বাড়ি চলো, বাড়ি চলো বলে কান্নাকাটি করত। ’৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যখন আমার বাবা মুক্তি পান, তখন যে জিনিসটা সবসময় দেখতাম, রাসেল সর্বক্ষণÑ মনে হয় যেন ওর ভেতরে একটা ভয় ছিল যেকোনো মুহূর্তে বুঝি বাবাকে হারাবে, তাই বাবা যেখানেই যেতেন, যে কাজই করতেন, খেলার ছলে কিছুক্ষণ পরপরই একবার করে সে দেখে আসত যে বাবা ঠিক আছেন তো। বাবা মিটিংয়ে থাক বা যেখানেই থাক, সে ছুটে ছুটে যেত।
রাসেলের নীরব কান্নার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা আরও বলেন, একাত্তর সাল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে। ঠিক সে মুহূর্তে তাকে গ্রেফতার করা হলো। তারপর থেকে তিনি কোথায় আছেন, কীভাবে আছেন, আমরা জানি না। বেঁচে আছেন কি না সেটা জানাও আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ১৯৭১ সালে শুধু জাতির পিতাকে বন্দি করা হয়নি, আমার মাকেও বন্দি করা হলো। রাসেলও তখন বন্দি। আমার ভাই কামাল মুক্তিযুদ্ধে চলে যাচ্ছে, এক সময় জামালও গেরিলা কায়দায় বন্দিখানা থেকে চলে গেল মুক্তিযুদ্ধে। রাসেলের চোখে সবসময় পানি। ওইটুকু একটা ছোট্ট শিশু, সে তার কষ্টটা কাউকে বুঝতে দিত না। যদি জিজ্ঞেস করতাম, কী হয়েছে? বলত, চোখে কিছু একটা পড়ে গেছে। তার যে নীরব কান্না তা সে কখনও প্রকাশ করত না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরও ছোট থাকতে রাসেলÑ আব্বা যখন জেলে, মাঝেমধ্যে সে কান্নাকাটি করত, কিন্তু আমরা বুঝতাম না। হঠাৎ মধ্যরাতে, বিশেষ করে যেদিন আমরা কারাগারে দেখা করতে যেতাম, ওইদিনটা তার জন্য খুব কষ্টের ছিল। সে রাতে সে ঘুমাত না, কান্নাকাটি করত। আমাদের সবাইকে ডাকতÑ আমি, কামাল, জামাল, রেহানাÑ আমরা সবাই তার পাশে বসতাম। গভীর রাত, ১২টা, ১টা, ২টায়। অতটুকু বাচ্চা, সে তো আর বলতে পারত না। কিন্তু তার কষ্টটা আমরা উপলব্ধি করতাম। এভাবে সে বড় হয়েছে।
গণভবন থেকে তার (রাসেলের) বিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ রাসেলের ‘ম্যুরাল’ উন্মোচন করেন এবং ‘শহীদ শেখ রাসেল ভবন’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। শহীদ শেখ রাসেলের স্মৃতিকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির সার্বিক সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ম্যুরালটি। ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে তিনি শহীদ শেখ রাসেলের ওপর নির্মিত এনিমেটেড ডকুমেন্টারি ‘বুবুর দেশ’-এর প্রদর্শনী এবং শেখ রাসেলের জীবনীর ওপর প্রকাশিত বই ‘শেখ রাসেল আমাদের আবেগ’ এবং ‘স্মৃতির পাতায় শেখ রাসেল’ শীর্ষক দুটি বইয়ের মোড়কও উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ রাসেল শিশু-কিশোর সংসদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে প্রচারিত ‘শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের কার্যক্রম সংক্রান্ত ভিডিওচিত্র অবলোকন, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ল্যাপটপ বিতরণসহ অন্যান্য কার্যক্রমের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটির সঙ্গে একাধারে প্রধানমন্ত্রীর গণভবন, শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সংযুক্ত ছিল।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রান্তে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান করেন। শেখ রাসেল অনলাইন দাবা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার এবং সংগঠনটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তিনি ল্যাপটপও বিতরণ করেন। শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. রকিবুর রহমান, মাহমুদুস সামাদ এমপি, কেএম শহীদুল্লাহসহ সংগঠনটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ প্রান্তে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির চেয়ারম্যান একেএম রহমতুল্লাহ ও ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী উপস্থিত ছিলেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা আদর্শ সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে। করোনাভাইরাসের মধ্যেও ঘরে বসে পড়ালেখা চালিয়ে যাবে। দেশের সেবায় নিজেদের উপযোগী করে গড়ে তুলবেÑ এটাই তোমাদের কাছে আমাদের চাওয়া।
এ ছাড়া শেখ রাসেলের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর রাসেল সবসময় বাবার সামনে ছায়ার মতো ঘুরে বেড়াত। রাসেল সবসময় সেনাবাহিনীর একজন সদস্য হওয়ার স্বপ্ন মনে লালন করত। বিশ^বিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনারা আমার ছোটভাই রাসেলকে স্মরণ করে একটি ম্যুরাল তৈরি করেছেন তার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য। আপনাদের এ উদ্যোগের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের এ উদ্যোগের ফলে ল্যাবরেটরি স্কুলের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে রাসেল এ স্কুলেরই একজন শিক্ষার্থী ছিল। ঘাতকরা একটি ছোট শিশুকেও বাঁচতে দেয়নি। এখন শিক্ষার্থীরা রাসেলের স্মৃতিকে ধরে রাখবে বলে আমি আশা করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদ ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়, যাতে দেশের শিশুরা সুনাগরিক হয়ে গড়ে ওঠে, এটাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। দেশব্যাপী এ সংগঠন কাজ করে চলেছে। প্রতিবছর এ সংগঠন আজকের দিনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। এতে করে শিশুদের মাঝের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হয়।
মাস্ক ছাড়া জনসমাগমে যাবেন না : মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, লোকসমাগম হয় এমন স্থানে কেউ মাস্ক ছাড়া যাবেন না। সবাইকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। কিন্তু শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে ব্যস্ত থাকতে হবে, যাতে বিদ্যালয় খুললে সবাই যথাযথভাবে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করতে পারে। অভিভাবকদের এ বিষয়ে যত্নশীল হওয়া দরকার।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]