ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৯ নভেম্বর ২০২০ ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ২৯ নভেম্বর ২০২০

অধিভুক্ত সাত কলেজ : সমস্যার আবর্তে শিক্ষার্থীরা
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০, ১১:১৭ পিএম আপডেট: ২০.১০.২০২০ ১১:৪৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 1088

দুদিন আগে ৩২ হাজার প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলার হয়েছে। যেখানে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি কোর্স সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা আবেদন কতে পারবেন। তবে সেখানে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের অসংখ্য শিক্ষার্থীর একই ব্যাচ হওয়ার পরও আবেদন করতে পারবেন না। কারণ তাদের করোনার কারণে অনার্সের রেজাল্ট হয়নি। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের অনেক শিক্ষার্থীরাই এমন অভিযোগ করেন।
মঙ্গলবার দুটি বিভাগের রেজাল্ট হয়েছে। কিন্তু বাকি বিভাগের পরীক্ষার্থীরা গত ৯ মাস ধরে রেজাল্টের অপেক্ষায় আছেন। এ ছাড়া ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের অনেকে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিয়েছেন, সেগুলোর রেজাল্টেরও খবর নেই। কেউ কেউ রেজাল্ট সমন্বয়ের আবেদন করে অপেক্ষা করছেন পূর্ণাঙ্গ রেজাল্টের। এগুলো সবই আটকা করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে। চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এতদিন সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিও বন্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি সীমিত আকারে শুরু হয়েছে সার্কুলার। এসব পরীক্ষায় আবেদন অযোগ্য হওয়ায় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের। ফের সেশনজটে পড়ার শঙ্কায় আছেন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী।
অনেকটা আক্ষেপে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শিপন মাহমুদ রনি বলেন, আমাদের স্বপ্নগুলো আজ ধ্বংসের পথে। একজন শিক্ষার্থী যখন প্রথম বর্ষ পরীক্ষার রেজাল্ট দশ মাস পরে পান, সে এই দশ মাসে অবশ্যই দ্বিতীয় বর্ষের জন্য প্রস্তুতি নেন। আর যখন তার রেজাল্ট আসে নন প্রমোটেড তখন ওই শিক্ষার্থীর মনের অবস্থাটা কেমন হবে! দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করেও তার যখন এমন দুঃসংবাদ শুনতে হয়, তখন হাহাকার ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না। অন্যদিকে আমরা ফাইনাল পরীক্ষার তারিখ পাই পরীক্ষার এক মাস বা ১৫ দিন আগে। রেজাল্ট পাই ১০ মাস পর। কলেজগুলোতে যার ফলে ক্লাসও হয় না ঠিকমতো। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার মধ্যে একটি আলসেমি চলে আসে।
করোনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাত কলেজের গ্রুপগুলোতে এমন অসংখ্য অভিযোগের কথা উঠে আসছে। প্রায় ১১ মাস হলো অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দেন নিজাম উদ্দিন। সরকারি তিতুমীর কলেজের অর্থনীতি বিভাগের এই শিক্ষার্থী বলেন, বছর শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখনও রেজাল্ট পাইনি। করোনার অজুহাতে মনে হয় জীবনের অধ্যায়টাই থমকে আছে। একই বিভাগ থেকে গত বছর মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েও রেজল্ট পাচ্ছেন না আহমেদ ফেরদৌস। তিনি বলেন, আমরা সম্মান ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের হয়েও করোনার কারণে আটকে গেছি। অনেক চাকরির পরীক্ষার সার্কুলার হয়। কিন্তু মাস্টার্স অত্যাবশ্যক উল্লেখ থাকলে আবেন করতে পারি না। তিতুমীর কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্রী টুম্পা আক্তার জানান, ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে প্রায় ছয় বছর লেগেছে অনার্স শেষ করতে। আর গত বছরের শেষ দিকে মাস্টার্সে ভর্তি হলেও করোনার কারণে অগ্রগতি নেই।
এদিকে করোনায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে অনলাইন ক্লাসের আওতায় আসে। কিন্তু ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে অধিভুক্ত সাত সরকারি কলেজের বিষয়ে নেওয়া হয়নি কোনো সমন্বিত সিদ্ধান্ত। সেশনজট, শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানী ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাবি অধিভুক্ত করা হয়। সে ক্ষেত্রে ২০১৭ সালের পূর্ববর্তী ব্যাচগুলো জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় থেকে চলে এসে হয় ঢাবির অধিভুক্ত। ১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থীদের থেকে সেশনজট মুক্ত রাখলেও পূর্বের ব্যাচগুলোর সঙ্গে সেশনজট যেন লেগেই আছে। দুই থেকে তিনটি ব্যাচের কার্যক্রম চলছে একসঙ্গে। নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও সময় পেরিয়েও পরীক্ষা হওয়ার কোনো নাম নেই।
সবচেয়ে বেশি পোহাতে হচ্ছে ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ ব্যাচকে। প্রায় ২৭ মাস ধরে একই বর্ষে রয়েছে তারা। যেখানে চাকরির বয়স ৩০ পার হলেই শেষ সেখানে অনার্স শেষ করতেই বয়স হয়ে যাচ্ছে ২৮ কিংবা ২৯। এমন পরিস্থিতি শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে ভবিষ্যতে চাকরি ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে হতাশ অধিভুক্ত শিক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে ফের আন্দোলনে যাওয়ার চিন্তা করছেন সাত কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ফেসবুকে গ্রুপ খুলে সাত কলেজের সমন্বয়করা আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা বলছেন, ভালোর জন্য ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করে হিতে বিপরীত হলো।
করোনাকালীন সঙ্কটের বিষয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আশরাফ হোসেন বলেন, আমাদের কাছে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে কোনো প্রকার নোটিস এখন পর্যন্ত আসেনি। যেহেতু করোনার জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ সে ক্ষেত্রে সরকারি মহল থেকে যদি আমাদের জন্য ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে কোনো নির্দেশনা পাঠায় তা হলে আমরা অবশ্যই জানব। করোনার মধ্যে পরীক্ষা কীভাবে নেওয়া হবে সে বিষয়েও এখনও বিশ^বিদ্যালয় থেকে কোনো নোটিস আমাদের কাছে আসেনি। কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও সাত কলেজের সমন্বয়ক প্রফেসর আইকে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যখনই সিদ্ধান্ত আসবে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা তীব্র সেশনজটে পড়বে। চাকরির ক্ষেত্রেও পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আক্তারুজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, সঙ্কট সমাধানে নানামুখী প্রয়াস চালাচ্ছি আমরা। সবার জন্য একই সিদ্ধান্ত হচ্ছে। তবে বাস্তবতা সবাইকে মানতে হবে। গোটা বিশে^ই শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঢাবির অধিভুক্ত শিক্ষার্থীর সমস্যাগুলোও আমরা উপলব্ধি করছি। ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]