ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১ ডিসেম্বর ২০২০ ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ১ ডিসেম্বর ২০২০

সখীপুরে বনের জমিতে সিসা কারখানা
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ৯:৫৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 66

ষ সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে বনের জমি দখল করে আবাসিক এলাকার পাশে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ একটি সিসা কারখানা। গলিত সিসার রাসায়নিক পদার্থ ও ধোঁয়ার প্রভাবে এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে। ইতোমধ্যে মারা গেছে কয়েকটি গবাদি পশু।
রোববার সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের রামখা এলাকার কেবিজি চালায় একটি সামাজিক বনায়নের ভেতর চারদিকে টিনের বেষ্টনী করে অবৈধ কারখানা গড়ে তুলেছেন মুন্সীগঞ্জের সিসা ব্যবসায়ী রেজাউল করিম। বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই যে, ভেতরে সিসা কারখানা রয়েছে। ভেতরে আট থেকে দশজন শ্রমিক পরিত্যক্ত ব্যাটারির খোলস আলাদা করছিলেন। তাদের হাতে গ্লাভস থাকলেও মুখে ও পায়ে কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেখা যায়নি। কারখানার পাশেই অ্যাসিড মিশ্রিত বর্জ্যরে কয়েকটি স্তূপ। মাটি গর্ত করে চারটি চুলা বানানো হয়েছে। ব্যাটারির ভেতরের অ্যাসিড মিশ্রিত জমাট বর্জ্য (সিসা) মাটির গর্তে চুলির মধ্যে সাজিয়ে রেখে কাঠ ও কয়লা দিয়ে আগুন ধরিয়ে ডিজেলচালিত যন্ত্র দিয়ে বাতাস দেওয়া হচ্ছে। বর্জ্য আগুনে পুড়ে তৈরি হয় তরল সিসা। লম্বা চামচ দিয়ে বর্জ্য সরিয়ে সিসা আলাদা করে লোহার কড়াইয়ে রাখা হয়। রাতে সিসা আগুনে পোড়ানোর সময় ধূসর ও কালো ধোঁয়ায় পুরো গ্রাম আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
জানা গেছে, রাত ৮টার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত চলে এ সিসা তৈরির কাজ। সিসা কারখানার দূষিত ধোঁয়ায় আশপাশের গাছপালা বিবর্ণ হয়ে গেছে। কারখানার ধোঁয়া ও বর্জ্যে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের কবলে আর অ্যাসিড পুড়ানোর ঝাঁঝালো গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। অসুস্থ হয়ে পড়ছে আশপাশের মানুষ পশুপাখি এবং গবাদি পশু।
এ ব্যাপারে ওই প্লটের মালিক কাহার্তা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহ-সুপার বলেন, বনের জমি সংলগ্ন আমার অনাবাদি চালা ভাড়া নিয়ে সিসা কারখানা করছেন মুন্সীগঞ্জ জেলার রেজাউল করিম। আমাদের ইউনিনের সাবেক চেয়ারম্যানের (জামাল মিয়া ওরফে চশমা জামাল) অনুরোধে আমি ওই জমি ভাড়া দিয়েছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কারখানার পাশের বাড়ির এক মহিলা বলেন, রাতে যখন ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করা হয় তখন গোটা এলাকায় কালো ধোঁয়ায় ছাইয়া যায়।
স্থানীয় মোস্তফা মিয়া বলেন, সিসা কারখানার ধোঁয়ার কারণে আমার দুটি উন্নত জাতের গরু মারা গেছে। স্থানীয় আরও কয়েকজন কৃষকের গরু মারা গেছে। তিনি বলেন, লাল মিয়ার ১টি, সোনালি মিয়ার ২টি, হাঁসর আলীর ১টিসহ আরও কয়েকজনের গরু-ছাগল মারা গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল রাজ্জাক ওরফে ধলা মিয়া বলেন, সিসার কারখার ব্যাপারে অভিযোগ শুনে আসছি। আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থানা নেওয়া হবে। কারখানার মালিক রেজাউল করিমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্থানীয় যারা আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল জলিল বলেন, রামখা এলাকায় কয়েকজন কৃষকের গরু মরার বিষয় আমরা শুনেছি। পরে আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ওই এলাকায় একটি সিসার কারখানা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ওই সিসা কারখানা বন্ধের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুস সোবাহান বলেন, ব্যাটারির সিসা পোড়ার ধোঁয়ায় মানুষের শ^াসকষ্ট, হৃদরোগ কিডনিসহ ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্রা শিকারি বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]