ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৯ নভেম্বর ২০২০ ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ২৯ নভেম্বর ২০২০

সিলেটে অবাধে পাখি শিকার, ফেরি করে বিক্রি
মনোয়ার জাহান চৌধুরী, সিলেট
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ৭:০৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 41

সিলেটের সীমান্ত লাগোয়ো জনপদ জৈন্তাপুর উপজেলায় তৎপর হয়ে উঠছেন পাখি শিকারিরা। তারা পাখি শিকার করছেন হাঁকডাক করেই। বিক্রিও করছেন পাখি ফেরি করে। শিকারি জালে আটকা পরা এসব পাখি হালি, জোড়া কিংবা ডজন হিসেবেও বিক্রি হচ্ছে; কিন্তু এতে নজর নেই সংশ্লিষ্টদের। তাই অবাধে চলছে পাখি শিকার, বিক্রি।

আবার শিকারিদের অধিকাংশেরই ধারণা নেই আইন সম্পর্কে। এ কারণে বেপরোয়া হয়ে উঠছেন পাখি শিকারিরা। এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব একটা সচেতনতার বার্তা না থাকায় নির্বিচারেই চলছে পাখি শিকার ও ফেরি করে বিক্রি।

পাখি শিকার বন্ধ করতে দাবি তুলেছেন পরিবেশবাদীরা। নইলে হুমকির মুখে পড়বে জীববৈচিত্র্য- এমন দাবিও তাদের।

মূলত জেলার জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিবছর শীত মৌসুমের আগেই খাসিয়া- জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশের হাওর বিলে নামতে থাকে হরেক প্রজাতির দেশি পাখি। আর শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আসতে শুরু করে অতিথি পাখিও। হাওর অঞ্চলে যেন পাখির মেলা বসে।

বর্তমানে সিলেটের জৈন্তাপুরের বিভিন্ন স্থানে উঁচু গাছের মগ ডালে সাদা সাদা বক, সেই সঙ্গে রয়েছে দেশীয় নানা জাতের পাখির কিচির মিচির শব্দ। এর সঙ্গে প্রতি বছর আশ্বিন মাসে থেকে ছোট-বড় বিভিন্ন জলাশয়ে অতিথি পাখির দেখা মেলে। সেসব পাখির কলতালে এক অপার সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়।

জৈন্তাপুরের বিভিন্ন জলাশয়ে নিজেদের আহার যোগাতে প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসা শুরু হয়েছে। এর সুযোগে শিকারিদের হাতে ধরা পড়ছে অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন দেশিয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। শিকারিরা প্রতিদিন পাখি শিকার করে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার প্রকাশ্যে বিক্রি করলেও সংশ্লিষ্টদের নজর নেই ওদিকে। তাই বাধাহীনভাবে চলছে শিকারিদের পাখি ধরার উৎসব!

এদিকে উপজেলার হেমু হাওর, বুঝির হাওর, মেল হাওর, ডিবিরই হাওর এর পাশের গ্রামগুলোতে বর্ষার শেষ ভাগে বিলে পানি কমছে, তাই ক্ষেতের জমিও জেগে উঠছে। আর জমিতে অল্প পরিমাণে পানি থাকায় দু-একটি মাছও আছে। তাই মাছ খাওয়ার লোভে অতিথি ও দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরা বিভিন্ন খাল বিলে ভিড় জমায়। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শিকারিরা জাল, দানাদার বিষসহ বিভিন্ন ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে আসছেন। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করে স্থানীয় হরিপুর বাজারে বিকেল ৩টা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ফেরি করে চলে পাখি বিক্রি। প্রতিটি পাখির জোড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এতে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বন বিভাগ নিচ্ছে না কোনও ব্যবস্থা।

পরিবেশবাদীদের মতে, উপজেলার খালবিলের সৌন্দর্যমন্ডিত অতিথি পাখি অবাধে শিকারের কারণে খালবিলের জীববৈচিত্র্য পড়ছে হুমকির মুখে।

এলাকাবাসী জানান, শহর থেকে শখের নেশায় পাখির মাংস ও পাখি ক্রয় করার জন্য অনেকে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজারে আসেন এবং চিহ্নিত কয়েকটি রেস্টুরেন্টে বসে পাখির মাংস খান। অবার অনেকে চিহ্নিত শিকারিদের কাছ থেকে পাখি ক্রয় করে নিয়ে যান।

পরিবেশবিদ ও গবেষক আবদুল হাই আল হাদী বলেন, উপজেলার হরিপুর ও দরবস্ত এলাকার বিভিন্ন হাওর থেকে শিকারিরা পাখি এনে স্থানীয় বাজারে ফেরি করে বিক্রি করায় পাখি কমে যাচ্ছে এ জনপদে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে যে অভিযান পরিচালনা করে তা অপর্যাপ্ত। তাই পাখি শিকারিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার মত তাঁর, নইলে পাখি শিকার বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।

পরিবেশ রক্ষার জন্য আমি পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে হরিপুর বাজারে অভিযান পরিচালনা করেছি, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা পারভিন বলেন, এলাকাবাসী সচেতন হলে পাখি শিকারিরাও পাখি ধরা থেকে বিরত থাকবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]