ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০ ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০

বন্ধুতাপূর্ণ ও স্বপ্নময় একটি উদ্যোগ ‘স্নাতপদ্ম’
সময়ের আলো অনলাইন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ১২:৪৮ পিএম আপডেট: ২৭.১০.২০২০ ১২:৫৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 274

করোনায় গোটা বিশ্বের অর্থনীতির চাকা অনেক পিছিয়ে গিয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এই সংকটময় সময়ে সবচেয়ে আশার খবর হলো, তরুণরা যুক্ত হচ্ছেন নতুন নতুন উদ্যোগে। এর অধিকাংশই অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ। তেমনই একটি স্বপ্নময় উদ্যোগের নাম স্নাতপদ্ম। নান্দনিক নামটিই যদিও আমাদেরকে এক সোনালী স্বপ্নের কথা বলে। কিন্তু কী সেই সোনালী স্বপ্ন?

মাইকেল মধুসূদন দত্তের একটা প্রহসনমূলক নাটক ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’ পড়েনি এমন বাঙালী পাঠক হাতে গুনা। তবে এখানে সেই নাটকের গল্প বলা উদ্দেশ্য না। কারণ স্নাতপদ্মের অবস্থাটা আসলে হয়েছে তাই।  দুই বান্ধবীর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের পাকাপোক্তকরন ও উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়টি যেন অনেকটা তাই। 

বলছিলাম এফ কমার্সের পেইজ স্নাতপদ্মের দুই স্বত্ত্বাধিকারী বন্ধুত্ব ও উদ্যোক্তানামার গল্প। অবশ্য স্বত্ত্বাধিকারির পরিবর্তে স্নাতপদ্ম নামের যে জন্ম দিয়েছে সে নিজেকে স্নাতপদ্মের মা ও অংশীজন বান্ধবী নিজেকে স্নাতপদ্মের খালামনি হিসেবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করার পর দুই ব্যাচমেট যে যার জীবনের পথ হাঁটে। হাটতে হাটতে যেন এই স্নাতপদ্মের মোড়ে এসে তাদের নতুন করে দেখা হয়। শুরু হয় পরিকল্পনা, উদ্যোগ এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম। ইতোমধ্যে যিনি স্নাতপদ্মের খালামনি তার কিছু বন্ধুবান্ধব নিয়ে দেশের সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটি ভ্রমনে যান। স্নাতপদ্মের মায়ের সাথে দেখা হয়। স্নাতপদ্মের মা রাঙ্গামাটির স্থানীয় হওয়ার সুবাদে ওদের সব ঘুরিয়ে দেখান। 

এর পরের গল্পটাতো কাজের, স্বপ্নের পথে হেটে যাওয়ার, এগিয়ে যাওয়ার। স্নাতপদ্ম যদিও এই সময়ে এসে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে এর বীজ রোপন হয়েছিল দুই বছর আগে। তবে যেদিন স্নাতপদ্মের জন্য আউটলেট ঠিক হয়েছিল ঠিক তার কিছুদিন পরেই সরকার দেশে লকডাউন ঘোষনা করে দিল। তাই দুই বান্ধবী স্নাতপদ্মের আউটলেট এখনো শুরু করতে পারেনি, সেজন্য অবশ্য তাদের আফসোস নেই। স্নাতপদ্ম মূলত দেশীয় পন্যের প্রসারে কাজ করছেন তারা এবং করবেন। পদ্মপাতার জলে, লতায় ফুলে মাছে- স্নাতপদ্মের মূল প্রতিপাদ্য। 

দুই বান্ধবী বলেন, আমরা দুজনই ভীষন রকমের প্রকৃতি প্রেমী, আমরা ফুল লতাপাতা নিয়ে থাকতে পছন্দ করি আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা। তাই স্নাতপদ্মের পন্য নির্বাচনটাও হয়েছে আমাদের মনোজগতনির্ভর। দেখেন আমাদের দুজনের নিজেদের একটা আলাদা পরিচয় আছে, স্নাতপদ্মের আয়ের উপর আমাদের জীবিকা নির্ভরশীল নয়। তাই আমরা চড়া মুনাফার জন্য পন্যের দাম নির্ধারণ করিনা। আমরা মূলত সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এই উদ্যোগ গ্ৰহন করেছি, চাই সামাজিক ব্যবসা প্রসারে কাজ করার। সরাসরি উৎপাদন কারীর কাছ থেকে বিশুদ্ধ ও ভেজালমুক্ত পন্য সংগ্ৰহ করে তা গ্ৰাহকদেরকাছে বাজার থেকে কম মূল্যে হোম ডেলিভারি সার্ভিস ‌এর মাধ্যমে পৌঁছিয়ে থাকি‌। আর সারাবছর পন্যের মূল্য একই রাখার চেষ্টা করি। স্নাতপদ্ম গ্ৰোসারী সামগ্ৰীর নিয়ে কাজ করতে আগ্ৰহী। 

প্রাথমিকভাবে স্নাতপদ্ম বরগুনা জেলার সোনা মুগডাল ও সূর্যমূখী তেল (হোম মেইড) এবং ভোলা জেলার বিখ্যাত ভৈষা দই (মহিষের দুধ থেকে তৈরি ঐতিহ্যবাহি খাদ্য) নিয়ে যাত্রা শুরু করে। পাশাপাশি রাজবাড়ী জেলার বিখ্যাত ভাদু সাহার চমচম এবং বিভিন্ন দেশীয় মাছ নিয়েও কাজ করে যাচ্ছে। দুইবান্ধবী তাদের জন্ম জেলা ও কর্মসূত্রে ঘুরে বেড়ানোর জেলাগুলোর বিখ্যাত কৃষি, মৎস্য ও দুগ্ধজাত খাবার নিয়ে কাজ করতে চান। 

উদ্যোগতারা বলেন, করোনা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেছে, যখন দেখি করোনা আক্রান্ত ও মৃতদের পাশে কোন আত্মীয়পরিজন নেই, চাকুরীচুত্যি ইত্যাদি। তখন রবীন্দ্রনাথের পোষ্টমাষ্টারের একটা লাইন সবসময় মনে পড়ে রায়- এ জগতে কে কাহার। কিন্তু আমরা স্নাতপদ্ম সবার জন্য সতেজ ভেজালমুক্ত পন‌্য আপনার দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য দায়বদ্ধ ও সম্ভব হলে কর্মসৃজন প্রয়াসে কাজ করে যাব।




এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]