ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০ ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০

‌‌‘ওরা ঘুমের মধ্যে মেরেও ফেলতে পারে’
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল নিহত হাফেজ তৌহিদের ভিডিও
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ৯:১৪ পিএম আপডেট: ২৭.১০.২০২০ ৯:১৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 134

লোহাগাড়ায় নিহত হাফেজ তৌহিদুল ইসলাম আত্নহত্যা করেননি বরং তাকে ওই রাতে রুমে বেঁধে নির্যাতন করে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার স্বজনরা।

বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০/১২জন যুবক শিশু বলাৎকারের অভিযোগে রুমের মধ্যে বেঁধে তাকে মারধর করে। এলোপাতাড়ি মারধরের ফলে তৌহিদ মারা গেলে ঝুলিয়ে রেখে আত্নহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে বলে দাবি তার স্বজনদের।

মৃত্যুর আগে সোশ্যাল মিডিয়া ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও বার্তায় হাফেজ তৌহিদুল ইসলাম রাতে ঘুমানোর মধ্যে তাকে মেরে ফেলতে পারে বলে আশংঙ্কা প্রকাশ করেন। ফলে তাকে হত্যার যে দাবি স্বজনরা করছেন তা আরো জোরালো হয়ে উঠল।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আল-কুরআনুল হাকীম আদর্শ হেফজখানার শিক্ষক মোঃ তৌহিদুল ইসলামের (২২) ঝুলন্ত লাশ ২১ অক্টোবর (বুধবার) সকালে বার আউলিয়া ডিগ্রী কলেজের সামনে ইলিয়াস বিল্ডিং থেকে উদ্ধার করে থানা পুলিশ। নিহত তৌহিদ চুনতি ইউনিয়নের শমসু মেম্বার পাড়ার শামসুল ইসলামের পুত্র ।

মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের ভিডিও বার্তা ভাইরাল হয়েছে। ভিডিও বার্তায় নিহত হাফেজ তাওহীদুল ইসলাম ঘুমের মধ্যে তাকে মেরেও ফেলতে পারে বলে আশংঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আসসালামু আলাইকুম। শেষ বিদায়। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমার আব্বা-আম্মার জন্য দোয়া করবেন। আহারে! ছাত্রলীগ। এদেরকে আপনারা দেখবেন। এই নাস্তিকগুলো হুজুরদের টুপিকে দেখতে পারে না। এরা এখানে আসছিলো জুতা নিয়ে। কতক্ষণ ধরে আমাদেরকে বন্দি করে রাখছে, দুইজনকে। হুজুর ওখানে ঘুমাচ্ছে, আমি এখানে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। শেষ বিদায়। ওরা কিছুক্ষণ পরপর দরজায় বারি (ধাক্কা) দেয়, আমাদেরকে পিটানোর জন্য। আমরা দুইজন এইখানে আটকে আছি। আমাদেরকে বেঁধে রাখছে যে। আপনারা একটু দেখবেন। হয়তো রাতে ঘুমানোর মধ্যে মেরেও ফেলতে পারে।”

ওই হেফজখানার শিক্ষক মোঃ ইসমাঈল জানান, ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে বলাৎকারের অভিযোগ এনে তৌহিদকে স্থানীয় ২০/২৫ জন যুবক অপমান ও মারধর করে। মৃত্যুর আগে হাফেজ তাওহীদুল ইসলাম ও তাকে রুমে তালা মেরে আটকে রাখে বলে তিনি জানান।

এব্যাপারে তৌহিদের চাচা মোহাম্মদ আলী জানান, বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল যুবক বলাৎকারের অভিযোগে তৌহিদকে মারধর করে। ঝুলন্ত অবস্থা থেকে লাশ নামানোর সময় আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু তৌহিদের মুখ ও চোখ স্বাভাবিক ছিল; আত্নহত্যা করার মতো কোনও চিহ্ন তার চোখে মুখে ছিল না বলে তিনি জানান।

তৌহিদের বাবা শামসুল ইসলাম জানান, আমার ছেলে আত্নহত্যা করেনি। তাকে আরিফের নেতৃত্বে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম জানান, লাশের ময়না তদন্তের রির্পোট এখনো আসেনি। রির্পোট আসার পর হত্যা না আত্নহত্যা জানা যাবে। রির্পোট আসার পর এব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আত্নহত্যা প্ররোচনা মামলা রুজু করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]