ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১ ডিসেম্বর ২০২০ ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ১ ডিসেম্বর ২০২০

মিষ্টি আলুতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা কৃষকের
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৫৪ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 14

ষ গাইবান্ধা প্রতিনিধি
চলতি বছরের ৫ দফা ভয়াবহ বন্যায় গাইবান্ধা জেলার ৭ উপজেলায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আমন চাষিরা। মাঠ ভরা সবুজের সমাহার দেখে মাস দেড়েক পরেই গোলায় নতুন ধান তোলার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে টানা বর্ষণ ও বন্যার পানি। তবে বন্যার ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন চাষিরা। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে তারা জমিতে চাষ দিয়ে মিষ্টি আলুর চারা রোপণ শুরু করেছেন। জেলায় এবার প্রথম কাদা মাটিতে মিষ্টি আলুর চারা রোপণ করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বন্যার পানিতে জেলার ৭ উপজেলায় ৭১ হাজার কৃষকের ৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমির রোপা আমন, ৬৫০ হেক্টর শাক-সবজি ও মাস কালাই নিমজ্জিত হয়েছে। ফসলের ক্ষতির অর্থিক পরিমাণ ৬৮ কোটি টাকা।
সরেজমিন দেখা যায়, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর গাইবান্ধার করতোয়া, কাটাখালী, বাঙালি আলাই নদী বেষ্টিত গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, সাঘাটা উপজেলার হাজার হাজার বিঘা জমির আমনের ক্ষেত পচে গেছে। অনেক কৃষক পড়ে থাকা ধানের গাছ পরিষ্কার করছেন আবার অনেকে পরিষ্কার করা জমিতে চাষ দিচ্ছেন। কিছু কিছু কৃষক ঘুরে দাঁড়াতে জমিগুলো পরিত্যক্ত না রেখে মিষ্টি আলুর ডাল (ডাটা) রোপণ করছেন। এই ডাল থেকে চারা উৎপাদন করে জেলার চরাঞ্চলে লাগানো হবে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের মালেক উদ্দিন জানান, বন্যায় তার ৩ বিঘা জমির আমন ধান পচে গেছে। একই উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের ফারুক হোসেন জানান, এ বছর বন্যায় তার ৭ বিঘা জমির আমন ধান নষ্ট হয়েছে।
সাঘাটা উপজেলার মনিকগঞ্জ গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমরা মিষ্টি আলুর চারা লাগাচ্ছি। আগামী ৪০-৫০ দিন পর এই চারাগুলো বিক্রি করা হবে। এভাবে বন্যার ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। সাঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাদেকুজ্জামান জানান, উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের নদীবেষ্টিত এলাকা মিষ্টি আলুর চাষের জন্য উপযোগী। কাদায় মিষ্টি আলুর ডাল রোপণ করার পর কাদা ও পানি শুকিয়ে গেলে মিষ্টি আলুর গাছ বেড়ে উঠবে। তিনি আরও জানান, পর পর ৫ দফা বন্যায় সাঘাটায় ৮ হাজার ৫শ কৃষকের এক হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ১৪ কোটি ৫৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, বন্যার পানিতে জেলার ৭ উপজেলায় ১৬ হাজার ১২৫ হেক্টর জমির রোপা আমন, ৫৫৫ হেক্টর শাক-সবজি ও ১৮০ হেক্টর জমির মাস কালাই নিমজ্জিত হয়েছে। ফসলের ক্ষতির অর্থিক পরিমাণ ৬৮ কোটি টাকা। সাত উপজেলায় ৭১ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারি সহায়তার জন্য তাদের তালিকা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]