ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০ ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০

আতঙ্কে মুখেও তালা
আলমগীর হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৩৯ পিএম আপডেট: ২৮.১০.২০২০ ১১:৪৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 79

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের সূত্র ধরে সংসদ সদস্য হাজী সেলিম ও তার পরিবারের দখল-জুলুমের ‘সাম্রাজ্য’ তছনছ হতে চলেছে। কোটি কোটি টাকা মূল্যের জমি কিংবা ভবন দখলের অনেক অভিযোগ পুরান ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাজী সেলিম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব স্টাইলে শাসন ও টর্চার সেলে নির্যাতনের মাধ্যমে এমনই আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে যে, নিজের বেদখলকৃত সম্পদ নিয়েও কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না অনেক ভুক্তভোগী। এখনও অনেকেই নীরবে ফেলছে চোখের পানি। আড়ালে মুখ লুকিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করছে অনেকে। যদিও গত সোমবার সুযোগমতো অগ্রণী ব্যাংকের জায়গাটি হাজী সেলিমের দখলমুক্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে হাজী সেলিম পরিবারের ‘অবৈধ সম্পদের’ খোঁজে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাঠে নেমেছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তারপরও দখল-জুলুমের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না অসহায় ভ্ক্তুভোগীরা। বুধবার পুরান ঢাকার চকবাজার-লালবাগ ও মিটফোর্ড এলাকায় গিয়ে কথা বললে এমন অনেকেই গোপনে বা ফিসফিস করে নানা অভিযোগ তুলে ধরে। বকশীবাজার চৌরাস্তা এলাকায় কথা হয় একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে। আলাপকালে পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি জানান, হাজী সেলিম বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস এখানকার কারোই নেই। কেননা এই পরিবারের দখল-জুলুমের বিষয়টি প্রশাসন থেকে শুরু করে সবাই জানে। কিন্তু কেউই তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে সাহস পায়নি। যদিও নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান গ্রেফতার হয়েছে তারপরও এই পরিবারের কিছুই হবে নাÑ এমনটিই মনে করে স্থানীয়রা। ক্ষমতাধর এমপি হওয়ায় যেকোনোভাবে ছাড় পেয়ে যেতে পারে হাজী সেলিমের পরিবার। ফলে এখন যারা প্রকাশ্যে তাদের দখল-জুলুম নিয়ে কথা বলবে আগামীতে এই পরিবারের নির্যাতনসহ ভয়ঙ্কর কোনো কিছুর সম্মুখীন হতে পারে তারা। বরং রাষ্ট্রের অনেক সংস্থা, স্থানীয় পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা সবাই জানেন, তারাই ব্যবস্থা নিলে অসহায় মানুষগুলো উপকৃত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন বকশীবাজারের ওই বাসিন্দা।
লালবাগ কেল্লার পাশর্^বর্তী এক স্থানীয় ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানার, পুরান ঢাকার লালবাগ, চকবাজার, বকশীবাজার, মিটফোর্ড, বেগমবাজার, মৌলভীবাজারসহ আরও কিছু এলাকায় হাজী সেলিম যা বলবেন সেটাই আইনের মতো। এখানে তার বিরুদ্ধে কথা বলে বা অবস্থান নিয়ে টিকে থাকাটা প্রায় অসম্ভব। হাজী সেলিমপুত্র ইরফান জেলে গেলেও তাদের সহযোগীরা এখনও এলাকায় ব্যাপক তৎপর রয়েছে। কে কী করছে, কে কী বলছে সবই তারা পর্যবেক্ষণ করে রাখছে। ফলে পরিস্থিতি হাজী সেলিম পরিবারের অনুকূলে এলেই প্রতিবাদকারীরা বিপদের মুখে পড়বে। তাই অনেকেই নির্যাতন-জুলুমের শিকার হয়েও মুখে ‘তালা’ লাগিয়ে থাকছে।
চকবাজারের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, চকবাজারের ‘চাঁন সরদার দাদাবাড়ী’ নামে হাজী সেলিমের পৈতৃক বাড়িটিতে তার ছেলে ইরফান সেলিম ও তার ভাই পরিবার নিয়ে থাকত। হাজী সেলিমও মাঝেমধ্যে এখানে থাকেন। তবে হাজী সেলিম মূলত বনানীর বাসায় থাকেন। পুরান ঢাকায় তাদের অনেক বৈধ-অবৈধ বাড়ি বা ভবন আছে। তারপরও মূলত হাজী সেলিম ও তার পরিবারের সদস্যরা কখন কোন বাড়িতে থাকে তা বলাটা মুশকিল। চকবাজারের ওই বাসিন্দা জানান, হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে যেমন দখল-জুলুমের অভিযোগ আছে, তেমনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অনেক মানবিক গুণও আছে। হোসনি দালানসহ অনেক এলাকায় গরিব-দুঃখীদের নিয়মিত ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তাও করেন হাজী সেলিম। কোনো বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে বাড়িওয়ালাকে শাস্তিস্বরূপ তিন মাসের জন্য বাড়ি থেকে বের করে দিতেন। সেই বাড়িতে নিজে তালা লাগিয়ে তিন মাসের জন্য নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন। এজন্য সম্প্রতি তিনি ‘তালা হাজী’ বলেও পরিচিতি পান।
প্রসঙ্গত, গত রোববার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেওয়ার প্রতিবাদ করায় নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খানকে বেধড়ক মারধর করে হাজী সেলিমের ছেলে ডিএসসিসির কাউন্সিলর (বরখাস্তকৃত) ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় নৌবাহিনীর ওই কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানায় তাকে হত্যাচেষ্টার মামলা করলে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ইরফান ও তার সহযোগী আসামিদের গ্রেফতার করে। মূলত এ ঘটনার সূত্র ধরে হাজী সেলিম পরিবারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ‘অ্যাকশন’ শুরু হয়।










সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]