ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০ ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০

সাকিবের শাপমোচন
রাজু আহাম্মেদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৩৯ পিএম আপডেট: ২৮.১০.২০২০ ১১:৪৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 61

আজকের সকালটা কি একটু অন্যরকম? সবার জন্য না হলেও সাকিব আল হাসানের জন্য অন্যরকম তো বটেই! সাত সকালে পুব আকাশে আজকের সূর্যটা যে উদিত হয়েছে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারটির শাপমুক্তির বারতা দিয়ে।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর সাকিবকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে আইসিসি। এর মধ্যে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত থাকায় ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর বাঁহাতি টাইগার অলরাউন্ডারের মুক্তির দিন নির্ধারিত হয়। আজই সেই মুক্তির দিন, সেই দিনটার সকাল সাকিব আর বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য তো একটু অন্যরকম হবেই!
না, খুব বড় কোনো অপরাধ সাকিব করেননি। নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে নিজেকে জুয়াড়িদের কাছে বেঁচে দেননি। কিন্তু ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলÑ এই চার মাসে তিনবার  জুয়াড়িদের থেকে অনৈতিক প্রস্তাব পাওয়ার পরও তা আইসিসি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাননি। এই না জানানোটাই সাকিবের বর্ণিল ক্যারিয়ারে অভিশাপ হয়ে আসে। আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ধারা অনুযায়ী কারও কাছ থেকে সন্দেহজনক কোনো বার্তা পেলেই তা আইসিসি বা সংশ্লিষ্ট বোর্ড কিংবা দায়িত্বশীল কাউকে জানাতে হবে। সেটা গোপন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সাকিব এই অপরাধেই অপরাধী হন। অথচ প্রতিটি সিরিজ কিংবা টুর্নামেন্টের আগে ক্রিকেটারদের এই নিয়মের কথা বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়। এরপরও বিষয়টাকে হালকাভাবে নিয়েছিলেন সাকিব, ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পরও জানাননি কাউকে। মাত্রা অনুযায়ী এই অপরাধের শাস্তি ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা। সাকিবের অপরাধের মাত্রা একটু বেশিই ছিল, এরপরও তার শাস্তি কম হওয়ার কারণÑ নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়া এবং তদন্তকার্যে পূর্ণ সহযোগিতা করা।
‘আমার মনে হয়, বোকার মতো ভুল করেছিলাম।’ এভাবে ভুল স্বীকার করে গত জুনে এক সাক্ষাৎকারে সাকিব নিজেই বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয়, বিষয়টা আমি একটু বেশিই হালকাভাবে নিয়েছিলাম।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমি যখন দুর্নীতি কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করলাম এবং বললাম, তারা সব কিছু জানে, সব প্রমাণ দিলাম। ভেতরে-বাইরের সব খুঁটিনাটি তারা জানে। সত্যি বলতে এ কারণেই মাত্র এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছি। নইলে ৫-১০ বছর নিষিদ্ধ হতে পারতাম।’
নিষিদ্ধ হওয়ার পর কয়েক মাস দেশেই ছিলেন সাকিব। পরবর্তীতে তিনি চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে, পরিবারের কাছে। মাস কয়েক আগে তিনি দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন। এরপর ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন, লক্ষ্য ছিল শ্রীলঙ্কা সফরের মাঝপথেই ক্রিকেটে ফেরা। নিষেধাজ্ঞার কারণে বিসিবির কোনো সুযোগ-সুবিধা নেওয়া সম্ভব ছিল না, তাই এসে বিকেএসপিতে লোকচক্ষুর অন্তরালে শৈশবের দুই কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম আর মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন শুরু করেন। কিন্তু বিধিবাম! সপ্তাহ তিনেকের মধ্যেই শ্রীলঙ্কা সফর স্থগিতের ঘোষণা আসে।
তল্পিতল্পা গুটিয়ে সাকিব আবার ফিরে যান যুক্তরাষ্ট্রে। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন এক সময়ের বিশ^সেরা অলরাউন্ডার। তাই ক্রিকেটে তার শাপমুক্তির সকালটা তিনি দেখেছেন রাগবি-বাস্কেটবলের দেশে বসেই। তবে মুক্তির স্বাদ পুরোপুরিভাবে নিতে অর্থাৎ ক্রিকেটে ফিরতে দিন দশেকের মধ্যেই দেশে ফিরবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই পোস্টারবয়।











সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]