ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০ ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০

ইরফান কাণ্ডেও নীরব বিএনপি
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৩৯ পিএম আপডেট: ২৮.১০.২০২০ ১১:৫১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 93

আলোচিত ইস্যু হাতছাড়া করতে সিদ্ধহস্ত বিএনপি ইরফান কাণ্ডেও নীরব রয়েছে। অথচ দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে আওয়ামী লীগের এমপি হাজী সেলিমপুত্র ইরফানের বেপরোয়া আচরণে। সামান্য ঘটনায় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে তার স্ত্রীর সামনে হত্যাচেষ্টার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক, সামাজিকসহ সবমহলে নেতিবাচক আলোচনা হচ্ছে। কেবল বিএনপিই পুরনো মিত্রের ব্যাপারে রহস্যজনক আচরণ করছে। সমালোচকরা বলছেন, করোনা যেন বিএনপির রাজনীতি ওলটপালট করে দিয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপিকে এখন অনেকেই বিরোধীদল বলতে নারাজ। কারণ মাঠের বিরোধীদলের ভূমিকা এত ‘গৌণ ও চিকন’ হতে পারে না। সুযোগ থাকলেও বিএনপি এখন জনগণের কাছেও যেতে পারছে না। এর পেছনে সমন্বয়হীন নেতৃত্বকেই দোষারোপ করছেন তারা।
সম্প্রতি পুরান ঢাকার এমপিপুত্র ইরফান সেলিম কাণ্ডে গোটা দেশে হইচই ফেলে দিলেও বৃত্তে বন্দি বিএনপি। শুধু এটাই নয়, অনেক আলোচিত ইস্যুতে যথার্থ আওয়াজ দিতে পারছে না তারা। জনস্বার্থ ইস্যুতে জনগণের দৌরগোড়ায় পৌঁছতে বারবার ব্যর্থ হওয়ায় দলের ভেতরেই এখন সমালোচনা হচ্ছে।
চলতি বছরের ২৫ মার্চ মুক্তি পাওয়ার পর অসুস্থ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এক প্রকার সঙ্গনিরোধেই আছেন। সামনের দিনে তিনি যে আর রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারবেন না, ক্রমেই তা স্পষ্ট হচ্ছে। তার অনুপস্থিতিতে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু তিনিও সশরীরে নয়, দেশের বাইরে থেকে ভার্চুয়াল নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্কাইপে যুক্ত হয়ে প্রধান ভূমিকা রাখেন তিনি। লন্ডন থেকে নির্দেশনা পাঠান গুলশানে। দীর্ঘদিন এভাবেই চলছে বিএনপি। এভাবে কার্যত লক্ষ্যহীন হয়ে পড়ছেন তারা। যদিও বিএনপি বলছে, তাদের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ঠিকই ছিল; কিন্তু সরকারের ‘ধারাবাহিক’ রোষানলের কারণে অনেক সময় তা ভেস্তে যাচ্ছে। দমন-পীড়নের মাধ্যমে রাজনীতির মাঠের স্পেসগুলো নষ্ট করে দিয়েছে। এসব কারণে সাংগঠনিক শক্তিমত্তা থাকার পরও গন্তব্যে পৌঁছা যাচ্ছে না।
এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপির বিভিন্ন পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্তে উষ্মা বেড়েছে। দলের অনেক সিনিয়র ও বয়ঃজ্যেষ্ঠ নেতা প্রকাশ্যে এসব নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছেন। অতিসম্প্রতি দলীয় চেয়ারপারসনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন সিনিয়র এক নেতা। জাতীয় নির্বাচনের পর এই সরকারের অধীনে ভোটে যাওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকলেও পরে স্থানীয় সরকারসহ সব ভোটে যায় বিএনপি। তবে কোনো ভোটই বিএনপির জন্য মোটেও সুখকর হয়নি। প্রতিটিতে তাদের প্রার্থীরা পরাজিত হচ্ছেন। ভোট কারচুপি ও এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে ভোটের দ্বিতীয় প্রহরে ভোট বর্জনসহ ফল প্রত্যাখ্যান করছে। তবে নির্বাচনের আগে দেখা যাচ্ছে, প্রচারণায় বেশ হাঁকডাক থাকলেও ভোটের দিনের চিত্র পুরো ভিন্ন। প্রার্থী কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবাদ করলেও দলীয় নেতাকর্মীদের একেবারেই মাঠে দেখা যায় না। ভোটের আগের সব হুঙ্কার ভোটের দিন থেকে চুপসে যায়।
এতকিছুর পরও কেন ভোটে যাচ্ছে বিএনপি? জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া সমান কথা। কারণ বর্তমান আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনও শুধু একপক্ষের সেবায় ব্যস্ত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, সরকারের ধারাবাহিক অন্যায়ের মিটমিট প্রতিবাদ করছে বিএনপি। দায়সারা গোছের কাজ করছে। বড়সড় আন্দোলন-প্রতিবাদ গড়ে তুলতে জনমতকে কাজে লাগাতে পারছে না। বিরোধীদল হিসেবে বিএনপিকে জনগণের কাছে যেতে হবে। কিন্তু সে জায়গায় বারবার ব্যর্থ হচ্ছে তারা। জনগণের পাশে থাকতে হলে জনইস্যুগুলো জোরালো হতে হবে। অযথা ভোটের প্রচারণার শক্তিমত্তা দেখিয়ে মুনাফা নেই। অন্যদিকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি অনেকটা ‘একলা চলো’ নীতিতে চলছে। এমন অভিযোগ ২০-দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। বিএনপি উপনির্বাচন কিংবা দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে তাদের ডাকছে না। একেবারে নিঃশ্চুপ হয়ে পড়েছে জোট। এরই মধ্যে এসব জোটে চলছে ভাঙাগড়ার খেলা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি এখন ভার্চুয়াল নেতৃত্বে আছে। এজন্য মাঠের রাজনীতিতে বেকায়দায় আছে তারা। কারণ সিদ্ধান্ত পৌঁছতে পৌঁছতে ইস্যু হারিয়ে যায়। আর গন্তব্যে যেতে পারে না। বিরোধীদল হিসেবে যেখানে সবচেয়ে বেশি সরব থাকার কথা বিএনপির, সেখানে তাদের জায়গা দখল করছে ছোট শক্তির দলগুলো। এভাবে হাফ হার্টেড চলতে থাকলে মাঠের বিরোধীদলের তকমা হারাবে বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে নিজেদের আত্মহত্যা করেছে। মাঠে তারা দলীয় কর্মকাণ্ডেও ব্যর্থ, জনগণের ইস্যুতেও জোরালো নয়। এমপি হাজী সেলিমপুত্রের কাণ্ডেও সরব হতে পারেনি তারা। যেখানে সবাই নিন্দা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, বিরোধীদল হিসেবে জনগণের কাছে বিএনপির দায়বদ্ধতা আরও বেশি। কিন্তু তারা সে অর্থে জনগণের কাছে যেতে পারছে না। প্রতিবন্ধকতা থাকবেই, তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]