ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০ ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০

তদন্তে নেমেছে সংসদীয় উপকমিটি
রেলের কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করে ৭  জনের মালিকানাধীন ৩৮ প্রতিষ্ঠান
সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৩৯ পিএম আপডেট: ২৮.১০.২০২০ ১১:৪৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 85

রেলের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে গঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় উপকমিটি কাজ শুরু করেছে। কমিটি সূত্র জানায়, এলটিএম পদ্ধতিতে কেনাকাটায় একটি চক্র সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে বলে তাদের কাছে তথ্য এসেছে। ৬ থেকে ৭ জনের মালিকানাধীন ৩৮টি লাইসেন্সধারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই গোপন দরপত্র হিসেবে পরিচিত এলটিএমের মাধ্যমে সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া সরকারি, আধা সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোয় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের দ্বারা তৈরি মুক্তা পানি ব্যবহারের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও সেই নির্দেশনা এড়িয়ে রেলের ক্যাটারিং সার্ভিসে শ্যামলী ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের সঙ্গে পানি সরবরাহ করার চুক্তির কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য জানান, আফসার বিশ^াস নামে একজন ঠিকাদার রেলওয়ের বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন। তাকে অনেকে রেলওয়ের জিকে শামীম হিসেবে ডেকে থাকেন। রেলওয়েতে একচ্ছত্র আধিপত্য তার। কোনো দরপত্র হলেই সেখানে নামে ও বেনামে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একাই অংশ নেন আফসার। এসবের নেপথ্যে রয়েছে রেলের কয়েকজন অসাধু  কর্মকর্তা-কর্মচারী। রেলের ট্রাকশন মোটর ও আর্মেচারের বেশিরভাগ কাজই করেন আফসার। তবে এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হয় যশোরের কয়েকজন ঠিকাদারদের দ্বারা। বিশেষ করে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রণ দফতর (সিওএস), কেন্দ্রীয় লোকোমেটিভ কারখানা, সৈয়দপুর ক্যারেজ কারখানা, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ক্যারেজ কারখানায় রয়েছে তার একক দাপট। টানা গত ১০ বছর ধরে অধিকাংশ কাজ করছেন তিনি। তাকে কাজ দেওয়ার জন্য একই কাজকে একাধিক ভাগে ভাগ করে মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালকদের ক্রয়সীমার মধ্যে রেখে এলটিএমের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়। আফসারের মালিকানাধীন বিশ^াস কনস্ট্রাকশন ও বাঁধন এন্টারপ্রাইজ রেলের ওয়াগন ও ক্যারেজ মেরামতের প্রকল্পগুলোর আওতায় সিংহভাগ যন্ত্রাংশ সরবরাহের শত কোটি টাকার কাজ ভেঙে ভেঙে এলটিএম দরপত্রের ভিত্তিতে বাগিয়ে নিয়েছে।
এদিকে সরকারি, আধা সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোয় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের দ্বারা তৈরি মুক্তা পানি ব্যবহারের নির্দেশনা আছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কিন্তু সেই নির্দেশনা এড়িয়ে রেলের ক্যাটারিং সার্ভিসে পানি সরবরাহ করার চুক্তি করা হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শ্যামলী ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের সঙ্গে। অভিযোগ আছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষা করেই রেলওয়ের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে নেওয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত।
গত বছরের বিশ^ অটিজম সচেতনতা দিবসে ‘মুক্তা পানি’ সবাইকে কিনতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। সে বছরের ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় সব সরকারি দফতরে মুক্তা পানি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১৯ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ একটি নির্দেশনা জারি করে। এসব নির্দেশনা এবং নজির থাকার পরও সম্প্রতি রেলওয়ে ক্যাটারিং সার্ভিসে পানি সরবরাহের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শ্যামলী ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]