ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০ ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৩৯ পিএম আপডেট: ২৯.১০.২০২০ ১০:৫৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 31

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ছুটি বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, সবার স্বাস্থ্যঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়ে গত মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে আমরা বাধ্য হয়েছি। আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময়ে নিজেদের এবং অন্যদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারিকৃত নির্দেশনা ও অনুশাসন শিক্ষার্থীদের মেনে চলতে হবে। শিক্ষার্থীদের বাসস্থানে অবস্থানের বিষয়টি অভিভাবকরা নিশ্চিত করবেন। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে তা নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা শিক্ষার্থীরা যাতে বাসস্থানে অবস্থান করে নিজ নিজ পাঠ্যবই অধ্যয়ন করে সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের মাধ্যমে নিশ্চিত করবেন।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। কওমি মাদ্রাসা বাদে অন্যসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা ছিল। কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে এবার পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনী পরীক্ষা এবং মাধ্যমিক স্তরের বার্ষিক পরীক্ষা নেবে না সরকার। আর অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসি ও সমমানের ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে নানা জিনিস পর্যালোচনা করেছি, সীমিত পরিসরে কিছু জিনিস খোলা যায় কি না। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে দেখব পরিস্থিতি অনুক‚ল হলে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চেষ্টা করব।
করোনা পরিস্থিতিতে বিশ^বিদ্যালয় খোলা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, অধিকাংশ বিশ^বিদ্যালয়ে অনেক ভিড় হয়। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানার ঝুঁকি রয়েছে কি না বা সম্ভব কি না প্রশ্ন রয়েছে। এটি ঝুঁকির বিষয়। মাধ্যমিকের মতো সীমিত পরিসরে কিছু করা যায় কি না ভেবে দেখব। বিশ^বিদ্যালয় খোলার সঙ্গে মিছিলের তুলনা করা ঠিক নয়। এর সঙ্গে বিশ^বিদ্যালয় খোলার সম্পর্ক করা উচিত নয়। রাস্তায় কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন কি না সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কথা আসলে সেটার দায় আমাদের। সব কিছু ভেবে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, কোনো বিশ^বিদ্যালয় বলতেই পারে আমরা পরীক্ষা নেব। তবে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও ঝুঁকির কথা ভাবতে হবে। সবাই পরীক্ষা নিলে কী হতে পারে সে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। আমরা যে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলছি, তা করলে কী হবে সেটিও ভাবতে হবে। কোনো বিশ^বিদ্যালয়কে নিজের স্বার্থ দেখলে হবে না। ভারতে পরীক্ষা হয়েছে, অন্য দেশ কি করছে দেখব। বিষয়গুলো আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি। যা সম্ভব হবে আমাদের পক্ষে, তার সবটুকুই করব। শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের কথা চিন্তা করেই সব করা হবে।
এ বিষয়ে সামনের দিনগুলোতে সব বলা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে সামনের মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে খোলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
তিনি বলেন, আগামী বছরের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে খোলা যায় কি না সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের প্রস্তুতিতেও ঘাটতি রয়েছে। সে জন্য সীমিত পরিসরে হলেও তাদের ক্লাসে নিয়ে আসা গেলে কিছুটা হলেও তাদের সুবিধা হবে। তবে সবকিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনেই করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়ন সম্ভব নয়। একইসঙ্গে কারিগরি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য জোর প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের এটি চ‚ড়ান্ত পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের যদি সঠিকভাবে মূল্যায়ন না হয়, পরবর্তী সময়ে চাকরি বা কর্মসংস্থানে তাদের সমস্যা হতে পারে। আর কারিগরি শিক্ষার্থীদের বিশেষ মূল্যায়নের সুযোগ নেই। কারণ তাদের প্রায়োগিক বিভিন্ন পরীক্ষা রয়েছে। যেগুলোর হাতে-কলমে নেওয়া জরুরি।
কারিগরির বিষয়ে তিনি বলেন, এইচএসসির ক্ষেত্রে আমরা অনেক মাস অপেক্ষা করেছি, তারপর বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কিন্তু পলিটেকনিকের বিষয়টা ভিন্ন। কারণ এদের প্রাকটিক্যাল পরীক্ষার প্রয়োজন আছে। এ ক্ষেত্রে যদি তারা সঠিকভাবে মূল্যায়ন না হয়, তবে পরবর্তী সময়ে চাকরি বা কর্মসংস্থানে তাদের সমস্যা হতে পারে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহাবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুকসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]