ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০ ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০

ইরফান সেলিমের রিমান্ড শুরু : আরও দুটি মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন
গা ঢাকা দিয়েছে ক্যাডাররা
আলমগীর হোসেন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০, ১০:৩৯ পিএম আপডেট: ২৯.১০.২০২০ ১০:৫৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 86

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের জেরে ব্যাপক আলোচিত হওয়া ইরফান সেলিম ও তার বাবা সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের নানা অপকর্মের সহযোগীরা গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা বলছেÑ দখলবাজি ও টর্চার সেলের ক্যাডাররা কিছুটা অন্তরালে গেলেও স্থানীয়দের মাঝে নানাভাবে তারা প্রভাব সৃষ্টির অপতৎপরতা চালাচ্ছে। একশ্রেণির ব্যবসায়ীসহ অনেককে হাজী সেলিম ও তার পরিবারের পক্ষে নানা প্রচারণায় নামানো হয়েছে।
অন্যদিকে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ইরফান সেলিম এবং তার দুই সহযোগী জাহিদুল ও এবি সিদ্দিক দিপুকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পরপরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ শুরুও করেছেন। এর মাঝে চকবাজার থানায়  

র‌্যাবের দায়েরকৃত অস্ত্র ও মাদক মামলায় ইরফান ও সহযোগীদের মোট ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশ ও র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, হাজী সেলিম ও তার পরিবারের বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদেরও খোঁজা হচ্ছে। যাতে করে তাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তবে বসে নেই হাজী সেলিমের অনুসারীরাও। কেউ যাতে হাজী সেলিম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস না পায় সে বিষয়ে নানাভাবে প্রভাব সৃষ্টি করা হচ্ছে। হাজী সেলিম ও ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হলে চকবাজার ও লালবাগসহ পুরান ঢাকার বেশ কিছু এলাকায় বৃহস্পতিবার দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকা বিক্রিতে বাধা দেওয়া হয়। তবে পত্রিকা হকারদের তারা দমাতে পারেনি।
দখলবাজি ও টর্চার সেলের সঙ্গে যুক্ত ক্যাডারদের প্রসঙ্গে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিক বিল্লাহ সময়ের আলোকে জানান, যেকোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরই মামলার বিষয়ে যেতে হয়। ইরফান সেলিমের বিষয়েও আমরা অভিযানের পর প্রাথমিক অপরাধ পেয়ে মামলা করেছি। এখন পুরো বিষয়টি দেখছে ডিবি পুলিশ। ফলে টর্চার সেল ও ইরফানের সহযোগীদের বিষয়গুলো নিশ্চয় তদন্ত কর্মকর্তা নজরে রাখবেন বলে বিশ^াস করি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছেÑ তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডি মডেল থানার হাজতখানা থেকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে নেওয়া হয় ইরফান সেলিম ও তার দুই সহযোগীকে। এর আগে বুধবার রাতেই ধানমন্ডি থানা পুলিশও এই তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার যে অভিযোগ উঠেছে, তার দায় নিজেদের ওপর নেওয়ার চেষ্টা করছে গ্রেফতারকৃত তার সহযোগীরা। ধানমন্ডি থানায় হওয়া মামলার আসামিদের মুখোমুখি বসিয়ে সে রাতের ঘটনা জানতে চায় পুলিশ। সহযোগীরা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, ইরফানের কোনো নির্দেশনা ছাড়াই তারা গাড়ি থেকে নামে এবং নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর করেছে। তবে তাদের এসব বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি পুলিশ কর্মকর্তারা।
চকবাজার ও লালবাগের একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানায়, ইরফান গ্রেফতারের পর হাজী সেলিমও লাপাত্তা হয়েছেন। এমনকি তাদের নানা অপকর্মের নিয়ন্ত্রণে ছিল যারা তারাও এখন গা ঢাকা দিয়েছে। তবে কৌশলে গোপনে এলাকায় প্রভাব বা আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে তারা। এ কারণে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা চাইলেও প্রকাশ্যে তাদের দখল-জুলুমের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। তারা ধরেই নিচ্ছে, পরিস্থিতি আবার ঘুরে যাবে হাজী সেলিম বা তার পরিবারের পক্ষেই দাঁড়াবে। ফলে সে রকম পরিস্থিতি হলে ভুক্তভোগী বা প্রতিবাদকারীরাও নিশ্চিত বড় বিপদের সম্মুখীন হবে বলেও মনে করছে।
ইরফান ও তার দেহরক্ষীর ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন : আদালত প্রতিবেদক জানান, চকবাজার থানায় করা অস্ত্র ও মাদক আইনের পৃথক দুই মামলায় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন আসামিদের দুই মামলায় গ্রেফতার দেখানোসহ রিমান্ডের আবেদন করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আগামী ২ নভেম্বর ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ দিদার হোসাইনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে অস্ত্র মামলায় এবং আরেক মহানগর হাকিম হাবিবুর রহমান চৌধুরীর আদালতে মাদক মামলায় শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ অক্টোবর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেওয়ার প্রতিবাদ করায় নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খানকে বেধড়ক মারধর করেন হাজী সেলিমের ছেলে ডিএসসিসির কাউন্সিলর (বরখাস্তকৃত) ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় নৌবাহিনীর ওই কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানায় তাকে হত্যাচেষ্টার মামলা করলে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ইরফান ও তার সহযোগী আসামিদের গ্রেফতার করে। মূলত এ ঘটনার সূত্র ধরে হাজী সেলিম পরিবারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ‘অ্যাকশন’ শুরু হয়।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]