ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২৪ নভেম্বর ২০২০ ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৪ নভেম্বর ২০২০

সাকিব যেকোনো সময় খেলতে প্রস্তুত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০, ১১:২৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 21

দেশের ক্রিকেটের রাজপুত্র মুক্ত। এখন মাঠে ব্যাট-বলের লড়াইয়ে সাকিব আল হাসানকে খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষা। কিন্তু কবে শেষ হবে অপেক্ষার প্রহর? প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো আর প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলছেন ধৈর্য ধরতে। দুজনের ধারণা, ফর্ম ফিরে পেতে সময় লাগবে টাইগার অলরাউন্ডারের। তবে সাকিবের শৈশবের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বললেন, লম্বা বিরতির পরও সাকিব যেকোনো সময় খেলতে প্রস্তুত এবং তার ক্ষুধার্ত শিষ্য মাঠে ছন্দে ফিরতে খুব বেশি সময় নেবে না।
জুয়াড়ির অনৈতিক প্রস্তাব লুকিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনেন সাকিব, কাটা পড়েন আইসিসির নিষেধাজ্ঞার খড়গে। এক বছরের ওই সাজা শেষ হয়েছে বুধবার এবং বৃহস্পতিবার থেকে মুক্ত ক্রিকেটের নবাব। এতে স্বাভাবিকভাবেই খুশির জোয়ার বইছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে; জেগেছে সাকিবকে দ্রæত মাঠে ফিরে পাওয়ার আকাক্সক্ষা। এমন প্রত্যাশা যেমন ৩৩ বছর বয়সি অলরাউন্ডারের সতীর্থ-ভক্তদের, তেমনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হর্তাকর্তাদেরও। তাই বলে এখনই আকাশ-কুসুম কিছু ভাবছেন না ডমিঙ্গো আর মিনহাজুল।
সাকিব মাঠে ফিরেই মিরাকল ঘটাবেÑ প্রত্যেককে এমন প্রত্যাশা না রাখার অনুরোধ করেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের দুই প্রধান। নির্বাচক প্যানেলের প্রধান মিনহাজুলের বক্তব্য ছিল, ‘সাকিব আমাদের দলে ফেরায় অবশ্যই আমরা আনন্দিত, তবে একই সঙ্গে এখনই তার কাছ থেকে মিরাকল আশা করতে পারেন না আপনি। তাকে আসতে দিন এবং ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলা শুরু করুক। এটা তাকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে সাহায্য করবে, যেহেতু দীর্ঘ সময় সে এখান থেকে দূরে। তাকে নিয়ে অবশ্যই আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং তাকে সময় দিতে হবে।’
প্রধান কোচ ডমিঙ্গোর ভাষ্যও ছিল ঠিক মিনহাজুলের মতো। সাকিবকে ‘সেরা অলরাউন্ডার’ অ্যাখ্যা দিয়ে টাইগারদের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ বলেছিলেন, ‘সে মাঠে ফিরেই মিরাকল ঘটাবে, এটা এখনই চাইতে পারেন না। তাকে নিয়ে আপনাদের অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে। সে এক বছর ক্রিকেট খেলেনি। সে খেলতে মুখিয়ে আছে। সে বিশে^র সেরা অলরাউন্ডার। তবে তাকে তার পথ খুঁজে পেতে হবে। অনুশীলনে থ্রো ডাউন এবং বোলিং মেশিনে খেলা আর ম্যাচে ১৪০ কিলোমিটার গতির বোলারকে খেলার মধ্যে অনেক পার্থক্য। আত্মবিশ^াস ফিরে পেতে তার কিছু সময় লাগবে।’
তবে সালাউদ্দিন মনে করেন না, সাকিবের সময় লাগবে নিজেকে খুঁজে পেতে। ক্রিকবাজকে বলা বিকেএসপির কোচের এমন কথা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কেননা, ডমিঙ্গো বা মিনহাজুলের চেয়েও তিনি বেশি চেনেন, বুঝেন এবং জানেন সাকিবকে। তার হাত ধরেই যে বেড়ে ওঠা দেশসেরা অলরাউন্ডারের এবং যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে যাওয়ার আগেও বিকেএসপিতে সালাউদ্দিন ও অন্যদের অধীনে চলেছে সাকিবের অনুশীলন। সেই সূত্র ধরেই সালাউদ্দিন জানালেন, যেকোনো সময় খেলতে প্রস্তুত তার শিষ্য।
সাকিবের শৈশবের কোচ বলেন, ‘অনুশীলনে ম্যাচের আবহ ছিল। আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হলো তার কখনো ম্যাচ অনুশীলনের ঘাটতি ছিল না। সে ভাবতে পারে যে নিজেকে ফিরে তার বেশ কয়েকটি ম্যাচের দরকার হতে পারে, তবে আমি এমন কিছু মনে করছি না। আমার মনে করি, সে ক্রিকেট ক্রিকেট খুব ভালো বুঝে এবং সে ক্রিকেট নিয়েই চিন্তা করে। এটি তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখে। সে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে। আমি তার মানসিকতায় কোনো বড় পরিবর্তন দেখতে পাইনি। যেভাবে সে খেলে সেভাবেই খেলবে।’
সালাউদ্দিন যোগ করেন, ‘তার দক্ষতায় বড় কোনো ঘাটতি ছিল না এবং মনে হয় একই অবস্থানে যেখানে সে ছিল। তবে লম্বা সময় না খেলা সত্তে¡ও এটা তার ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। অবশ্যই কিছু ঘাটতি ছিল ফিটনেসে কারণ সে নিজের ফিটনেস নিয়ে কোনো কাজ করেনি দীর্ঘ সময় এবং এটা ফিরে পেতে কিছুটা সময় নিয়েছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে ক্রিকেটিং দক্ষতা নিয়ে কাজ করার সময় তার খুব বেশি সমস্যা হয়নি। পুরোপুরিভাবে ফিটনেস ফিরে পাওয়া তার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং আমি নিশ্চিত, তার দৃঢ় সংকল্পের কারণে এটা অর্জনে বেশি সময় নেবে না সে।’
তিনি বলেন, ‘আপনি যদি প্রয়োজনীয় ফিটনেস না পান, তবে প্রত্যাশা না মেটার সম্ভাবনা বেশি। যদি এটি মাঝামাঝি অবস্থায় থাকে তা হলে দীর্ঘ সময় খেলাতে না থাকলেও খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না, তবে ফিটনেসের কারণে দক্ষতার উন্নতি হবে। এটা বেশ স্বাভাবিক।’ তবে দক্ষতা এবং ফিটনেস ছাড়া মানসিকভাবে শক্ত থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ সাকিবের জন্য যখন তিনি ফিরবেন ২২ গজে। সালাউদ্দিনের বিশ^াস, তার শিষ্যের প্রত্যয় এবং খেলার ক্ষুধা তাকে অতীত পেছনে ফেলতে সাহায্য করবে।
সালাউদ্দিনের ভাষ্য ছিল এমন, ‘যখন সাকিব মাঠে নামে তখন সে সম্পূর্ণ আলাদা ব্যক্তি এবং তার চারপাশে যা ঘটে তা নিয়ে মাথা ঘামায় না। আমি তাকে ছোটবেলা থেকেই জানি এবং জানি সে সবকিছু সামলে নিতে পারবেÑ সব প্রশংসা এবং সমালোচনা। তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সে একই মানসিকতার সঙ্গে সাফল্য এবং ব্যর্থতা উভয়ই পরিচালনা করতে পারে।’






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]