ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ৪ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১

নাক ডাকা যখন বিপজ্জনক
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২০, ১০:৩৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 21

ষ অধ্যাপক ডা. এমএ মতিন
নাক ডাকা কমন একটি অসুখ। তবে চিকিৎসা শাস্ত্রে এটাকে তেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বলে মনে করা হয় না। কিন্তু নাক ডাকা খুবই অস্বস্তিকর একটা বিষয়।
গবেষণা মতে, পুরুষদের ৬০ শতাংশ, যাদের বয়স চল্লিশের ওপরে, তারা নাক ডাকেন। সে তুলনায় নারীদের নাক ডাকার হার অনেক কম। শিশুরাও নাক ডাকে। তাদের নাক দিয়ে লালা পড়ে। শিশুদের টনসিলের সঙ্গে নাকের পেছনের মাংস বেড়ে যায়, যাকে বলে এডিনয়েড। এডিনয়েড ও টনসিলের কারণে শিশুরা নাক ডাকে। এ ক্ষেত্রে তাদের কান দিয়ে পানিও পড়তে পারে। অপারেশন করালে শিশুদের এই সমস্যার সমাধান হয়।
কারণ
ঘুমানোর সময় নাকের পেছনের নরম প্যালেট আলাজিব প্রচণ্ড বেগে কাঁপুনি দেয়। সেখান থেকে নাক ডাকার সৃষ্টি হয়। কিছু ক্ষেত্রে নাক ডাকার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের শ^াসও বন্ধ হয়ে যায়। একে বলা হয় স্লিপ এপনিয়া। শুধু যদি নাক ডাকা হয়, সেটাকে তেমন মেডিকেল সমস্যা মনে করা হয় না। কারণ এতে তেমন কোনো জটিলতা তৈরি হয় না।
কখন বিপজ্জনক
নাক ডাকার সঙ্গে সঙ্গে যদি স্লিপ এপনিয়া হয়, তবে সেটা চিন্তার বিষয়। অনেক রোগী আছে, যাদের ঘুমের সময় নাক ডাকার সঙ্গে দম বন্ধ হয়ে যায়। এপনিয়া মানে হচ্ছে নাক ও মুখে যখন অক্সিজেন সরবরাহ ১০ সেকেন্ডের জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। যদি সাত ঘণ্টা ঘুমের মধ্যে কারও ১ থেকে ২০টা এপনিয়া হয়, তবে সেটা মাইল্ড, ২০ থেকে ৪০ হলে মডারেট এবং ৪০-এর ওপরে হলে সেটাকে আমরা সিভিয়ার বলে অভিহিত করি।
ঘুমের মধ্যে হঠাৎ যদি ঝাঁকি দিয়ে ওঠার প্রবণতা, সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা, কাজে অনীহা, ঘুম ঘুম ভাব হয়Ñ এগুলো হচ্ছে স্লিপ এপনিয়ার লক্ষণ। স্লিপ এপনিয়া বেশি হলে এখান থেকে হার্টের অসুখ, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, ডায়াবেটিসের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ জন্য স্লিপ এপনিয়া হলে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করানো উচিত।
কারা আক্রান্ত হয়
যাদের ওজন বেশি, ধূমপায়ী, মদ্যপায়ী এমন লোকদের স্লিপ এপনিয়া রোগে ভোগার শঙ্কা বেশি। এ ছাড়া যাদের নাক বাঁকা, নাকে পলিপ ও টিউমার থাকে, গলায় টনসিল, তাদেরও এপনিয়া হতে পারে।
পরিত্রাণের উপায়
-যাদের দম বন্ধ হয়ে যায়, যেকোনো মূল্যে তাদের ওজন কমাতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। ব্যায়াম করতে হবে নিয়মিত।
-বর্জন করতে হবে চর্বিযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড।
-ধূমপান ও মদ্যপানও বাদ।
-বাদ দিতে হবে ঘুমের ওষুধ।
-ঘুমের সময় চিত হয়ে না শুয়ে যেকোনো এক কাত হয়ে ঘুমানো উত্তম।
-সবজি বেশি খেতে হবে।
-এসবে কাজ না হলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
 
লেখক : বিভাগীয় প্রধান, নাক-কান ও গলা বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]