ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১ ৭ মাঘ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১

আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে শীর্ষ তিনে
নড়াইল আবদুল হাই সিটি কলেজের সাদাত
শিক্ষার আলো প্রতিবেদন
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০, ১০:৫৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 18

 ৪২টি দেশের ১৪২ জন শিশুর মনোনয়নের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছিল বিশ^মঞ্চে উঠে আসার দৌড়। শিশুদের নোবেলখ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের সেই দৌড়ে এখন টিকে আছে তিনজন। যাদের একজন নড়াইল আবদুল হাই সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ১৭ বছর বয়সি সাদাত রহমান। সাইবার অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে সে উঠে এসেছে বিশ^মঞ্চের শীর্ষ তিনে। সাইবার বুলিং ও সাইবার ক্রাইম থেকে শিশু-কিশোরদের রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাদাত সম্পর্কে কিডস রাইটসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সাদাত একজন তরুণ চেঞ্জমেকার ও সমাজ সংস্কারক। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে এক কিশোরীর (১৫) আত্মহত্যার পর কাজে নামে সাদাত। সে তার বন্ধুদের সহায়তায় ‘নড়াইল ভলেন্টিয়ারস’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন শুরু করে। এই সংগঠন বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশনএইডের ‘ইয়ুথ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ২০১৯’ এ বিজয়ী হয়ে তহবিল পায়।
নেদারল্যান্ডসে ওই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত এক বা একাধিক শিশুর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এরপর নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। সাদাতের সঙ্গে চ‚ড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া অন্য দুজন হলো মেক্সিকোর ইভান্না ওরতেজা সেরেট ও আয়ারল্যান্ডের সিয়েনা ক্যাস্টেলন। ওই পুরস্কারের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু ২৯ অক্টোবর ওই তিন প্রতিযোগীর নাম ঘোষণা করেন।
২০০৫ সালে রোমে অনুষ্ঠিত নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের এক শীর্ষ সম্মেলন থেকে এই পুরস্কার চালু করে ‘কিডস-রাইটস’ নামে একটি সংগঠন। শিশুদের অধিকার উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় অসাধারণ অবদানের জন্য প্রতি বছর আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। ১২-১৮ বছর বয়সিরা ওই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। গত বছর সুইডেনের শিশু পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ও ক্যামেরুনের ডিভিনা মালম যৌথভাবে মর্যাদাপূর্ণ ওই পুরস্কার পান। ২০১৩ সালে এই পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই পরের বছর জয় করেছিলেন নোবেল।
সাদাত রহমান জানায়, সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে পিরোজপুরের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা তাকে নাড়া দেয়। দেশে এ ধরনের আরও ঘটনা ঘটছে। এক হিসেবে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রায় ৪৯ শতাংশ
কিশোর-কিশোরী এ রকম সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়। কিন্তু নিজেদের সমস্যা কাউকে বলতে পারে না তারা। পুলিশ তো দূরের কথা, অনেকেই নিজের মা-বাবাকেও এ ব্যাপারে কিছু জানায় না। শেষ পর্যন্ত অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের শীর্ষ তিনে উঠে আসার বিষয়ে সাদাত বলছিল, ‘আন্তর্জাতিক ওই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পাওয়ার তালিকার শীর্ষে পৌঁছাব তা চিন্তাও করতে পারিনি। ওই পুরস্কার প্রদান কর্তৃপক্ষ কাজের ধরনটির প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। কারণ সাইবার বুলিং সমস্যাটি বিশ^ব্যাপী। তাই আমার চিন্তাটি বিশ^সভায় স্থান করে নিতে পেরেছে।’ সাদাত দোয়া চেয়েছে সবার কাছে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]